Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কার্তিক পূর্ণিমার সন্ধ্যায় বুধবার এক অপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী থাকল বারাণসী (Dev Deepawali)। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই গঙ্গার ৮৮টি ঘাট জুড়ে জ্বলে উঠল প্রায় ১৫ লক্ষ প্রদীপ। মাটির দীপের আলোয় গোটা কাশী যেন পরিণত হল দেবালয়ে। গঙ্গার জলে প্রতিফলিত দীপের আলো যেন সৃষ্টি করল স্বর্গীয় আভা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী X হ্যান্ডেলে সেই ঝলমলে মুহূর্তের ছবি ভাগ করে নেন। তাঁর ক্যাপশন “কাশীতে জমকালো দেব দীপাবলি।” উপস্থিত ছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও, যিনি উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।

দেব দীপাবলির পৌরাণিক তাৎপর্য (Dev Deepawali)
হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, এই দিনেই মহাদেব ত্রিপুরাসুর নামে এক অসুরকে বধ করেছিলেন। দেবতারা সেই বিজয়ের আনন্দে স্বর্গে দীপ জ্বালিয়ে উৎসব করেছিলেন। সেই থেকেই ‘দেব দীপাবলি’ নামে পরিচিত এই উৎসব প্রতি বছর কার্তিক পূর্ণিমায় পালিত হয়। সাধারণ দীপাবলির পনেরো দিন পর অনুষ্ঠিত হয় দেবতাদের এই দীপ উৎসব।
ভক্তি ও সৌন্দর্যের মেলবন্ধন (Dev Deepawali)
বারাণসীর দেব দীপাবলির প্রধান আকর্ষণ ছিল গঙ্গা আরতি। আটটি ঘাট নমো, গাই, পঞ্চগঙ্গা, দশাশ্বমেধ, শীতলা, দণ্ডকার, তুলসি ও অসি একযোগে আরতির মন্ত্রে মুখরিত হয়ে ওঠে। সারা পরিবেশ ভরে ওঠে ঘণ্টাধ্বনি, ধূপের গন্ধ আর ভক্তিমূলক সঙ্গীতে। আরতির পাশাপাশি আয়োজিত হয় বিশেষ লেজ়ার শো ‘কাশী কথা’, যেখানে কাশীর ঐতিহ্য, ইতিহাস ও আধ্যাত্মিকতার চিত্র ফুটে ওঠে। সবুজ আতশবাজি, নৃত্য-গীতি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উৎসবে এনে দেয় নতুন মাত্রা।

আলোয় মোড়া সমস্ত ঘাট (Dev Deepawali)
শুধু বারাণসী নয়, দেব দীপাবলির রেশ ছড়িয়ে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গেও। হুগলি নদীর পশ্চিম তীরে হাওড়ার বঙ্গেশ্বর মহাদেব মন্দিরে এ বছরও সাড়ম্বরে পালিত হয় এই উৎসব। নদীর ঘাটজুড়ে জ্বলে ওঠে লক্ষ লক্ষ দীপ। মন্দির প্রাঙ্গণে পুষ্প, আলোকসজ্জা ও রঙিন প্রদীপে সেজে ওঠে চতুর্দিক। চতুর্থ বর্ষে পদার্পণ করল এই উৎসব। মন্দির কমিটির উদ্যোগে আয়োজন করা হয় বিশেষ আরতি, মন্ত্রপাঠ, গঙ্গাপূজা ও দীপ প্রজ্বলন পর্ব। স্থানীয় ও বাইরের হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান পুণ্যস্নান ও দর্শনের জন্য।

আরও পড়ুন: Defence Sector Stock: আজ নজর রাখুন ডিফেন্স সেক্টরের এই স্টকে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা
ভক্তসমাগমে মুখরিত হাওড়া
দেব দীপাবলির দিনে বিকেল থেকেই হাওড়ার বাঁধাঘাট ও বঙ্গেশ্বর মন্দিরে ভিড় জমতে থাকে। সন্ধ্যা নেমে আসতেই নদীর ধারে মানুষের ঢল। গঙ্গার হাওয়া, মন্ত্রোচ্চারণের সুর, আর দীপের আলো সব মিলিয়ে সৃষ্টি হয় এক পবিত্র ও শান্তিময় পরিবেশের।



