Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় এক তাৎপর্যপূর্ণ মোড়। এবার থেকে ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা সংশোধনের ক্ষেত্রে ‘স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র’ বা ডোমিসাইল সার্টিফিকেটকে (Domicile Certificate) বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করার সবুজ সংকেত দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। এই মর্মে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়ালকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন। এর ফলে নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্তকরণ বা ঠিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি বড় জটিলতা কাটল বলে মনে করা হচ্ছে।
ইআরও ও এআরও-দের নির্দেশ কমিশনের (Domicile Certificate)
নির্বাচন কমিশনের পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর জারি করা বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) সংক্রান্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট (Domicile Certificate) যোগ্যতার নথি হিসেবে গণ্য হবে। তবে এই ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ১৯৯৯ সালের ২ নভেম্বরের নির্দেশিকা এবং পরবর্তী সংশোধনীগুলি কঠোরভাবে মেনে যে শংসাপত্রগুলি ইস্যু করা হয়েছে, কেবলমাত্র সেগুলিই গ্রহণযোগ্য হবে।
এক্ষেত্রে জেলা শাসক (DM), অতিরিক্ত জেলা শাসক (ADM), মহকুমাশাসক (SDO) অথবা কলকাতার ক্ষেত্রে কালেক্টরের দ্বারা স্বাক্ষরিত শংসাপত্রই বৈধ বলে বিবেচিত হবে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫০ অনুযায়ী, নির্বাচনী আধিকারিকদের (ERO ও AERO) শুধুমাত্র এই ধরনের উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের দেওয়া নথি গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:SIR Hearing: আজ SIR শুনানির শেষ দিন, শুনানিতে গরহাজির ৫ লক্ষ ভোটার, তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে নাম
এই নতুন নির্দেশিকার ফলে রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়সীমা নিয়ে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৭ তারিখ পর্যন্ত শুনানি পর্ব চলার কথা ছিল। কিন্তু একদম শেষ লগ্নে ডোমিসাইল সার্টিফিকেটকে (Domicile Certificate) মান্যতা দেওয়ার ফলে আবেদনের সংখ্যা এবং নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে শুনানির সময়সীমা কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আর শুনানির সময় বাড়লে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিনটিও স্বাভাবিকভাবেই পিছিয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: Bengal Election: হাইভোল্টেজ ভোটের আগে বড় চমক! বঙ্গে কি এবার এক দফাতেই নির্বাচন, কী বলছে CEO দফতর?
ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকা প্রকাশের তারিখ ৬ মার্চের পরিবর্তে পিছিয়ে ১০ এপ্রিল করা হয়েছে। বাংলায় একই পথে হাঁটা হবে কি না, তা নিয়ে সিইও মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (DEO) কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট পাওয়ার পরেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে কমিশনের এই সিদ্ধান্ত যে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করবে, তা নিয়ে নিশ্চিত ওয়াকিবহাল মহল।


