Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এখনও কয়েক মাস বাকি (Amit shah)। কিন্তু তার আগেই বাংলার রাজনীতিতে তৎপরতা বাড়িয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য বিজেপির অন্দরে চলা আদি-নব্য সংঘাত, নেতৃত্বের টানাপড়েন এবং সংগঠনের দুর্বলতা এই সবকিছুই ছাব্বিশের লড়াইয়ের আগে বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আর সেই কারণেই খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে মাঠে নামানো হয়েছে। সোমবার রাতে কলকাতা সফরে এসে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি এবার শুধু মুখের রাজনীতি নয়, মাঠে কাজ করেই যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।

ঐক্যের বার্তা কেন্দ্রের (Amit shah)
বঙ্গ বিজেপির রাজনীতিতে বর্তমানে চারটি মুখ সবচেয়ে প্রভাবশালী শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার ও দিলীপ ঘোষ। এক সময় এই চার নেতার মধ্যে মতভেদ, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সংঘাত দলের ভিত নড়িয়ে দিয়েছিল (Amit shah)। শাহের কলকাতা সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল এই চার নেতাকে এক ছাতার তলায় এনে ছাব্বিশের রণকৌশল স্থির করা। বুধবার সকালে কলকাতার একটি হোটেলে প্রথমে দলের সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। পরে আলাদাভাবে বৈঠক হয় এই চার শীর্ষ নেতার সঙ্গে। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদব, সুনীল বানসাল এবং ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে শাহ প্রত্যেকের বক্তব্য আলাদা করে শোনেন। তবে আলোচনা যতই হোক, বার্তা ছিল একটাই ব্যক্তিগত সমীকরণ নয়, দলের স্বার্থই সবার উপরে।
অনুপস্থিত মতুয়া নেতৃত্ব, বাড়ছে জল্পনা (Amit shah)
এই বৈঠকে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় ছিল কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার অনুপস্থিতি। মতুয়াগড়ের প্রভাবশালী সাংসদ শান্তনু ঠাকুর, বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর ও অসীম সরকার যেমন উপস্থিত ছিলেন না, তেমনই রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজও শাহের বৈঠকে অংশ নেননি। রাজনৈতিক মহলে এই অনুপস্থিতি ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক বিজেপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও নেতৃত্বের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সম্পর্ক ঠিক কতটা মসৃণ, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
বিধায়কদের জন্য কড়া নির্দেশ (Amit shah)
ছাব্বিশের নির্বাচনে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে এবার আর কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, বৈঠকে অমিত শাহ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন এবার টিকিট পাওয়া সহজ নয়। বিজেপি বিধায়কদের জন্য বেঁধে দেওয়া হয়েছে একাধিক ‘টাস্ক’, নিজের বিধানসভা এলাকায় কাজ বাড়াতে হবে, সপ্তাহে অন্তত চার দিন নিজ এলাকায় থাকতে হবে, নিয়মিত জনসংযোগ ও সাংগঠনিক বৈঠক করতে হবে, আগামী দু’মাসে অন্তত পাঁচটি পথসভা করতে হবে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ আগামী দু’মাসে কাজের মাধ্যমে যোগ্যতা প্রমাণ করতে না পারলে পুনরায় টিকিট মিলবে না। অর্থাৎ জনপ্রিয়তা, অতীত ভূমিকা বা কেন্দ্রীয় ঘনিষ্ঠতা নয় এবার একমাত্র মানদণ্ড হবে মাঠের কাজ।
আরও পড়ুন: Train Accident In Tunnel: টানেলের ভিতরে ভয়াবহ ট্রেন সংঘর্ষ, উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে রক্তাক্ত রাত
নেতৃত্ব নয়, সংগঠনই ভরসা
বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে, অমিত শাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন বঙ্গ বিজেপির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে শক্তিশালী সংগঠনের উপর। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শুধু বক্তৃতা বা সোশ্যাল মিডিয়ার রাজনীতি যথেষ্ট নয়। বুথ স্তরে সংগঠন শক্ত না হলে ২০২৬-এর যুদ্ধে জেতা অসম্ভব। এই কারণেই নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কেন্দ্রের বার্তা পরিষ্কার দল আগে, ব্যক্তি পরে।



