Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ফের চাঞ্চল্য (Donald Trump-Greenland)। ডেনমার্ক-সহ আটটি ইউরোপীয় দেশের উপর আরোপিত শুল্ক-শাস্তি আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সুইৎজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের মঞ্চে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পরেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু যে ট্রাম্প এতদিন ইউরোপীয় দেশগুলিকে কড়া বার্তা দিয়ে আসছিলেন, তিনি হঠাৎ কেন সুর নরম করলেন? সেই প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

দাভোস বৈঠক ও ট্রাম্পের ব্যাখ্যা (Donald Trump-Greenland)
বৈঠকের পর সমাজমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্ট করে ট্রাম্প লেখেন, “ন্যাটো মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে শীঘ্রই একটি চুক্তি হবে এই বিষয়ে আমরা দু’জনেই সহমত।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন, এই সম্ভাব্য চুক্তি শুধুমাত্র গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে নয়, বরং গোটা আর্কটিক অঞ্চল এর আওতায় আসবে। যদিও এই চুক্তির খসড়া, শর্ত বা সময়সীমা সম্পর্কে কোনও বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।
আলোচনায় ছিল আর্কটিকের কৌশলগত গুরুত্ব (Donald Trump-Greenland)
সূত্রের খবর, দাভোসে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব, সামরিক নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক নৌপথ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। বিশেষ করে, রাশিয়া ও চিনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি, আর্কটিক সাগরে নতুন শিপিং রুট, খনিজ ও জ্বালানি সম্পদের ভবিষ্যৎ দখল, ন্যাটো দেশগুলির নিরাপত্তা কাঠামো, এই বিষয়গুলিই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল বলে জানা যাচ্ছে।

গ্রিনল্যান্ড কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? (Donald Trump-Greenland)
ডেনমার্কের অধীন হলেও গ্রিনল্যান্ড বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ এবং ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে রয়েছে, বিপুল পরিমাণ বিরল খনিজ (Rare Earth Elements) মার্কিন সামরিক ঘাঁটি (থুলে এয়ার বেস) উত্তর মেরু সংলগ্ন কৌশলগত অবস্থান, এর আগেও ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড “কিনে নেওয়ার” ইচ্ছা প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক তৈরি করেছিলেন। সেই পুরনো অবস্থান থেকেই তিনি আর্কটিক অঞ্চলে মার্কিন প্রভাব বাড়াতে চাইছেন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
আরও পড়ুন: Trump: দাভোসে ট্রাম্পের বিতর্কিত ভাষণ: গ্রিনল্যান্ড থেকে ইউরোপ রেয়াত করলেন না কাউকেই
শুল্ক-শাস্তি স্থগিতের তাৎপর্য
ডেনমার্ক-সহ আট ইউরোপীয় দেশের উপর শুল্ক আরোপের হুমকি প্রত্যাহার করার অর্থ শুধু অর্থনৈতিক নয়, কূটনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। সূত্রের খবর, ন্যাটো ঐক্য বজায় রাখাই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ, ইউরোপীয় মিত্রদের দূরে ঠেলে না দিয়ে চিন ও রাশিয়ার মোকাবিলায় জোটকে শক্তিশালী করাই ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য, বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ট্রাম্পের পরিচিত ‘চাপ তৈরি করে দর কষাকষি’ কৌশলেরই অংশ।



