Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নোবেল শান্তি পুরস্কার বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি (Donald Trump)। সেই পুরস্কার না পাওয়ার আক্ষেপ যে কারও মনেই দাগ কাটতে পারে, কিন্তু তা প্রকাশের ভঙ্গি যদি হয় এমন যে তা নিজেকেই বিদ্রূপের পাত্র করে তোলে, তখন বিষয়টি নিছক ব্যক্তিগত হতাশায় সীমাবদ্ধ থাকে না। ঠিক এমনটাই ঘটেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রে। নোবেল না পাওয়ার ক্ষোভে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে লেখা তাঁর চিঠি এখন বিশ্বজুড়ে হাস্যরস ও ট্রোলের খোরাক।

কূটনীতির চিঠি, কিন্তু পরীক্ষার খাতার মতো মূল্যায়ন (Donald Trump)
সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি চিঠিতে দেখা যায় হোয়াইট হাউসের সরকারি স্ট্যাম্প। দাবি করা হচ্ছে, নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার হতাশা থেকেই এই চিঠি পাঠিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু চিঠির বিষয়বস্তুর থেকেও বেশি আলোচনায় এসেছে তার ভাষা ও উপস্থাপনা। নেটিজেনরা যেন পরীক্ষার খাতা খুঁজে পেয়েছেন লাল কালিতে চিহ্নিত হয়েছে একের পর এক ভুল। ব্যাকরণগত ত্রুটি, বানানের অসংলগ্নতা, এমনকি বাক্য গঠনের ক্ষেত্রেও একাধিক মারাত্মক ভুল চোখে পড়েছে। কোথাও অকারণে শব্দের শেষে ‘S’ যোগ করা হয়েছে, কোথাও আবার বাক্যের শুরুতেই ‘I’ (আমি) শব্দটি বাদ পড়েছে।
‘প্রিয় জোনাস’ শিষ্টাচারের সীমা কোথায়? (Donald Trump)
কূটনৈতিক চিঠির ক্ষেত্রে শিষ্টাচার ও আনুষ্ঠানিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত রাষ্ট্রনেতাদের উদ্দেশে লেখা চিঠি শুরু হয় ‘প্রিয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ বা ‘ডিয়ার মিস্টার প্রাইম মিনিস্টার’ দিয়ে। সেখানে ট্রাম্প সরাসরি লিখেছেন, ‘প্রিয় জোনাস’। এই সম্বোধন শুধু অনানুষ্ঠানিকই নয়, অনেকের মতে কূটনৈতিক সৌজন্যের চরম লঙ্ঘন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শব্দচয়ন ও ভদ্রতার ভাষা অনেক সময় বক্তব্যের থেকেও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই জায়গায় এই চিঠি কার্যত ব্যর্থ।

‘8’ না ‘eight’ ভুলে ভরা সংখ্যাও (Donald Trump)
চিঠিতে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি অন্তত আটটির বেশি যুদ্ধ থামিয়েছেন। কিন্তু সেখানে ‘8’ লেখার পরিবর্তে ‘eight’ লেখার পরামর্শ দেন নেটিজেনরা। এমনকি সরকারি চিঠিতে সংখ্যার ব্যবহার সংক্রান্ত মৌলিক নিয়মও মানা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এক কথায়, চিঠিটি যেন কোনও বিশ্বনেতার কলমে লেখা নয়, বরং তাড়াহুড়োয় লেখা একটি খসড়া নোট।
নেটদুনিয়ার আদালতে রায়: ‘D+’, মানে বাংলায় ‘ঘ’ (Donald Trump)
সব ভুল সংশোধনের পর নেটিজেনরা এখানেই থামেননি। গোটা চিঠিটিকে একটি পরীক্ষার উত্তরপত্র ধরে নিয়ে, দেশের গ্রেডিং সিস্টেম অনুযায়ী নম্বরও দেওয়া হয়েছে। চিঠির একেবারে ডানদিকে উপরে বড় করে লেখা হয়েছে ফলাফল ‘D+’। ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার ভাষায় যার মানে দাঁড়ায় ‘ঘ’ অর্থাৎ পাশ নম্বরও জোটেনি। বিশ্বরাজনীতির অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তির এমন ‘ফেল’ ফলাফল যে সোশাল মিডিয়ায় ঝড় তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।
নোবেল না-পাওয়ার ক্ষোভেই কি এই বিস্ফোরণ? (Donald Trump)
সূত্রের দাবি, সপ্তাহখানেক আগেই নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গর স্টোরকে এই চিঠি পাঠিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি লেখেন,
‘৮টির বেশি যুদ্ধ থামানোর পরও আপনার দেশ আমাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে এখন থেকে শান্তির বিষয়ে চিন্তা করার কোনও প্রয়োজন অনুভব করি না আমি।’ এই বক্তব্য অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। কারণ শান্তি কোনও পুরস্কারের উপর নির্ভরশীল কি না, সেই প্রশ্নই তুলে দিয়েছেন সমালোচকরা।
আরও পড়ুন: Bank: ধাক্কা ব্যাঙ্কিং পরিষেবায়, ৫ দিনের কাজের দাবিতে ডাক ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের
রাষ্ট্রনেতার ভাষা, ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি
এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হল একজন রাষ্ট্রনেতার ভাষা, লেখা ও আচরণ কেবল ব্যক্তিগত বিষয় নয়। তা তাঁর দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গেও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। একটি চিঠি, তার শব্দচয়ন, তার ব্যাকরণ সব মিলিয়েই তৈরি হয় নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি। নোবেল না পাওয়ার যন্ত্রণা যতই গভীর হোক, সেই ক্ষোভ যদি এমনভাবে প্রকাশ পায় যে তা বিশ্বজুড়ে হাস্যরসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে প্রশ্ন ওঠে ক্ষতি হল কাকে?



