Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মোড়। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠক হতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে (Russia Ukraine War)।বৃহস্পতিবার মস্কোয় এই সম্ভাবনার কথা জানান পুতিন নিজেই। এমন সময় এই ঘোষণা এল, যখন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ মস্কো সফর করে পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। যুদ্ধবিরতির প্রশ্নে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে বলেই দাবি করছে ক্রেমলিন।
বৃহস্পতিবার রাশিয়ায় পা রেখেছেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহয়ান। তাঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পরই পুতিন জানান, ‘‘UAE-ই হতে পারে আমার এবং ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠকের স্থান।’’ এ নিয়ে দুনিয়াজুড়ে কূটনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের লক্ষ্য কী? (Russia Ukraine War)
ক্রেমলিন সূত্রে খবর, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বুধবার মস্কোয় পৌঁছে পুতিনের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন(Russia Ukraine War)। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুতিনের বিদেশনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ। তিনি জানান, ‘‘এই বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের রূপরেখা নিয়ে অত্যন্ত গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।’’ পাশাপাশি তিনি বলেন, “আগামী সপ্তাহেই ট্রাম্প এবং পুতিনের বৈঠকের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হতে পারে। আলোচনা সফল হলে তিন বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর পথ প্রশস্ত হতে পারে।”
যুদ্ধ উত্তেজনার পরেও আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া (Russia Ukraine War)
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত মাসেই ট্রাম্প (Donald J. Trump) প্রশাসন রাশিয়ার উদ্দেশে যুদ্ধবিরতির জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয়, যা নিয়ে ওয়াশিংটন ও মস্কোর সম্পর্কে বেশ টানাপড়েন তৈরি হয়(Russia Ukraine War)। পরমাণু অস্ত্রবাহী মার্কিন ডুবোজাহাজ রাশিয়ার জলসীমার কাছে পৌঁছনোর ঘটনাও সেই উত্তেজনা বাড়ায়। তবে উইটকফের সফরের পর দুই দেশের মধ্যে বরফ কিছুটা গলেছে বলেই মত আন্তর্জাতিক মহলের।

শর্তসাপেক্ষে জেলেনস্কির সঙ্গেও আলোচনায় রাজি পুতিন (Russia Ukraine War)
ক্রেমলিন সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, আলোচনার পরিকাঠামো ঠিক হলে পুতিন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও বৈঠকে বসতে রাজি হতে পারেন(Russia Ukraine War)। তবে তার জন্য কিছু পূর্বশর্ত মানতে হবে ইউক্রেনকে। যদিও সেই শর্তগুলো এখনো প্রকাশ্যে আনা হয়নি। রাশিয়ার তরফে বারবার দাবি করা হচ্ছে, তারা যুদ্ধ চায় না, কূটনৈতিকভাবে সমস্যার সমাধানই চায়।

আরও পড়ুন: Calcutta High Court : নবান্ন অভিযান মামলার রায়দান,আইন মেনে অভিযানে সম্মতি হাইকোর্টের
পটভূমিতে পশ্চিম এশিয়ার ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ (Russia Ukraine War)
এই মুহূর্তে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে(Russia Ukraine War)। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেশটি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ কিছুটা আস্থা অর্জন করেছে। রাশিয়া-আমেরিকা সংঘাতের মাঝে ‘নিরপেক্ষ মঞ্চ’ হিসেবে তাদের ভূমিকা আগামী বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে ইউক্রেন যুদ্ধের ইতিহাসে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হয়ে থাকবে। বহু মাস ধরে যুদ্ধবিরতির যে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপে তা কতটা এগোয়, সেটিই এখন দেখার। একই সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে প্রশ্ন—আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আমেরিকা ও রাশিয়ার সম্পর্কের বরফ কি গলতে শুরু করল? সময়ই দেবে তার উত্তর।


