Last Updated on [modified_date_only] by Anustup Roy Barman
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইডি তাদের চার্জশিটে অভিযোগ করেছে যে (Donation to Rahul-Sonia), দলের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে কাজ করে সিনিয়র কংগ্রেস নেতারা ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় জড়িত কোম্পানিকে কোটি কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিলেন।
Young Indian-এ বিপুল অঙ্কের অনুদান, দাবি ইডির (Donation to Rahul-Sonia)
শুক্রবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) দাবি করেছে, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যের একাধিক প্রবীণ কংগ্রেস নেতা লক্ষ লক্ষ টাকা দান করেছিলেন Young Indian Limited-এ। এই সংস্থাটি রাহুল গান্ধী এবং সোনিয়া গান্ধীর নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং এটি বিতর্কিত ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলার সঙ্গে যুক্ত (Donation to Rahul-Sonia)। ইডি-র অভিযোগ, এই অনুদানের মাধ্যমে একটি সুপরিকল্পিত আর্থিক প্রতারণা লুকোনোর চেষ্টা করা হয়েছে।
চার্জশিটে আরও দাবি করা হয়েছে, রাহুল ও সোনিয়া গাঁধী এই অর্থলাভের প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগী। অনুদানের নামে বিপুল অঙ্কের টাকা Young Indian-এর অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে বলে জানিয়েছে ইডি।
মাত্র ৫০ লাখে ২০০০ কোটি টাকার সম্পত্তি! (Donation to Rahul-Sonia)
ইডি জানিয়েছে, Young Indian Limited মাত্র ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে ন্যাশনাল হেরাল্ড পত্রিকার প্রকাশক Associated Journals Limited (AJL)-এর কাছ থেকে ২০০০ কোটি টাকার সম্পত্তি অধিগ্রহণ করে (Donation to Rahul-Sonia)। এই লেনদেনের পরেই অর্থ আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিং-এর অভিযোগ ওঠে।
তেলেঙ্গানায় নজরে ইডি (Donation to Rahul-Sonia)
এই বিতর্কিত লেনদেনের বড় একটা অংশের যোগসূত্র তেলেঙ্গানার সঙ্গে। ইডির দাবি, তখনকার বিধায়ক এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রেভন্ত রেড্ডির নির্দেশে ২০২২ সালে তেলেঙ্গানার চার কংগ্রেস নেতা মিলিয়ে ৮০ লাখ টাকারও বেশি দান করেন Young Indian-এ।
২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী গালি অনিল কুমার ২০২২ সালের জুনে ২০ লাখ টাকা দেন। প্রাক্তন বিধায়ক আলি শাব্বির দেন আরও ২০ লাখ। তৎকালীন তেলেঙ্গানা কংগ্রেসের কোষাধ্যক্ষ পি সুদর্শন দেন ১৫ লাখ টাকা। সবচেয়ে বেশি ২৫ লাখ টাকা দান করেন তৎকালীন রাজ্য কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি। উল্লেখযোগ্যভাবে, সব অনুদান এক মাসের মধ্যেই করা হয়।
আরও পড়ুন: Gang-Rape: কর্ণাটকে ডিজে বাজিয়ে শোভাযাত্রা গণধর্ষণে অভিযুক্তদের, বিতর্ক
কর্ণাটক ও পাঞ্জাবেও অনুদান, অভিযোগ ইডির
কর্ণাটক ও পাঞ্জাবেও অনুরূপ অনুদানের খোঁজ মিলেছে বলে ইডির দাবি। সূত্রের মতে, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পবন বনসল কর্ণাটকের কংগ্রেস সভাপতি ডি কে শিবকুমার ও তাঁর ভাই সাংসদ ডি কে সুরেশকে ২৫ লাখ টাকা করে দান করতে বলেন। এপ্রিল ২০২২-এ এই অর্থ Young Indian-এ ঢোকে। একই মাসে শিবকুমারের সঙ্গে যুক্ত ন্যাশনাল এডুকেশন ট্রাস্ট নামে একটি ট্রাস্ট ২ কোটি টাকা দান করে।
পাঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী অমিত বিজ ২০১৫ সালে তিন ধাপে মোট ৩.৩০ কোটি টাকা Young Indian-এ দান করেন।
পরিকল্পিত মানি লন্ডারিংয়ের আশঙ্কা
ইডি-র ধারণা, এই অনুদানগুলি স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়নি। বরং পরিকল্পিতভাবে দলীয় নেতাদের মাধ্যমে Young Indian-এ অর্থ ঢোকানোর একটি ছক কষা হয়েছিল। সূত্র অনুযায়ী, এই লেনদেনগুলি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের (PMLA) বিধি লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এক সিনিয়র ইডি আধিকারিক বলেন, “অনুদানের সময়, অঙ্ক এবং নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় দেখে মনে হচ্ছে, দলীয় অনুগত এবং রাজ্যস্তরের নেতাদের মাধ্যমে পরিকল্পনা করে অর্থ ঢোকানো হয়েছে Young Indian-এ।”
আরও পড়ুন: Purnam Kumar Shaw: পাকিস্তানের বন্দিত্ব থেকে মুক্তি, বাড়ি ফিরলেন বিএসএফ জওয়ান পূর্ণম সাউ!
দফায় দফায় তলব ও তদন্ত
ইডি জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহে এই মামলায় যুক্ত একাধিক ব্যক্তিকে তলব করা হবে। পাশাপাশি, আদালতে অতিরিক্ত প্রমাণও জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
রাজনৈতিক চাপে কংগ্রেসের দাবি
কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত দাবি করা হয়েছে, এই মামলা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দল জানিয়েছে, সব আর্থিক লেনদেন আইন মেনে হয়েছে। তবে তদন্ত যত এগোচ্ছে এবং নতুন নতুন নাম উঠে আসছে, তাতে ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলা আবার রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে।
ইডি-র চার্জশিটে সোনিয়া গান্ধীকে অভিযুক্ত নম্বর ১ এবং রাহুল গান্ধীকে অভিযুক্ত নম্বর ২ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আরও পাঁচ জনের নাম রয়েছে এই মামলায়। সব ক’জনের বিরুদ্ধেই মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (PMLA)-এর ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।


