Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গোমাংস কাণ্ডের বিতর্ক কাটতে না কাটতেই নতুন করে উত্তাল হয়ে উঠেছে সোশাল মিডিয়া ও বিনোদন জগৎ (Sayak-Sandy)। এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রে জনপ্রিয় ব্লগার ও অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী। তাঁর বিরুদ্ধে এবার যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ এনেছেন পরিচিত সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার স্যান্ডি সাহা। এর আগেই শিশুশিল্পীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ ঘিরে নাম উঠে এসেছিল সায়কের। ফলে প্রশ্ন উঠছে এগুলি কি বিচ্ছিন্ন অভিযোগ, নাকি দীর্ঘদিন চেপে রাখা এক ভয়ঙ্কর বাস্তবতা ধীরে ধীরে সামনে আসছে?

নীরবতা ভাঙার কারণ কী? (Sayak-Sandy)
সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্যান্ডি সাহা অভিযোগ করেন, প্রায় তিন-চার বছর আগে সায়ক চক্রবর্তীর বাড়িতে একটি ভিডিও শুটের সময় তাঁর সঙ্গে যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। স্যান্ডির দাবি অনুযায়ী, সায়ক তখন মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। শুট শেষ হওয়ার পরই ওই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। স্যান্ডি জানান, সেই সময় তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, তখন সায়কের টেলিভিশন ও সোশাল মিডিয়ায় যথেষ্ট জনপ্রিয়তা ছিল। অন্যদিকে নিজের কনটেন্টের ধরণ ও সোশাল মিডিয়া পরিচয়ের কারণে তাঁকে গুরুত্ব দেওয়া হবে না এই আশঙ্কা থেকেই তিনি নীরব ছিলেন।
কেন এখন মুখ খুললেন স্যান্ডি? (Sayak-Sandy)
স্যান্ডির বক্তব্য অনুযায়ী, সম্প্রতি শিশুশিল্পীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ সামনে আসার পরই তিনি মনে করেন, আর চুপ করে থাকা ঠিক নয়। তাঁর আশঙ্কা, যদি এই ধরনের অভিযোগ নিয়ে বারবার নীরবতা বজায় রাখা হয়, তাহলে অভিযুক্ত আরও অনেকের সঙ্গে একই ধরনের আচরণ করতে পারে। স্যান্ডি স্পষ্ট করে জানান, ওই ঘটনা আজও তাঁকে মানসিকভাবে তাড়া করে বেড়ায় এবং প্রয়োজনে তিনি আইনি পদক্ষেপ নিতেও প্রস্তুত।

অর্ক গঙ্গোপাধ্যায়ের পোস্ট (Sayak-Sandy)
স্যান্ডির অভিযোগের আগেই, কোনও নাম না করেও একটি বিস্ফোরক পোস্ট করেছিলেন লেখক-পরিচালক লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ছেলে অর্ক গঙ্গোপাধ্যায়। সেই পোস্টে তিনি এক “ভাইরাল ব্লগার”-এর বিরুদ্ধে একটি জনপ্রিয় ধারাবাহিকের মেকআপ রুমে শিশুশিল্পীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন। অর্কের লেখায় উঠে আসে এক ভয়ঙ্কর বাস্তবতা ঘটনাটি নাকি সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থা, এমনকী শিশুশিল্পীর পরিবারও জানত। অভিযুক্ত প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার পর বিষয়টি ধীরে ধীরে চাপা পড়ে যায়। নাম উল্লেখ না থাকলেও, সোশাল মিডিয়ায় অনেকেই অভিযোগের তীর যে সায়ক চক্রবর্তীর দিকেই, তা বুঝে নেন।
বিনোদন জগতের অন্ধকার দিক (Sayak-Sandy)
অর্ক গঙ্গোপাধ্যায়ের পোস্টে উঠে আসে আরও গভীর এক সামাজিক প্রশ্ন। তিনি লেখেন, আমাদের সমাজে দুর্ব্যবহার ও যৌন হেনস্তার মতো গুরুতর অভিযোগকেও অনেক সময় “ম্যানেজ” করে নেওয়া হয়। ধারাবাহিক বা সিনেমার সেটও তার ব্যতিক্রম নয়। এই সংস্কৃতির ফলেই, অভিযোগের নিষ্পত্তি না করে অভিযুক্তকে আবার কাজের সুযোগ দেওয়া হয়। অপরাধের ধরন বদলালেও, মানসিকতা বদলায় না এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুন: Lalbazar CP: অ্যাকশনে নতুন সিপি: রাতের কলকাতায় সতর্ক লালবাজার
অভিযোগ ও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন
এই মুহূর্তে সায়ক চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগই আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় প্রমাণসাপেক্ষ। আইন অনুযায়ী, চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত কেউ দোষী নন। তবে একাধিক অভিযোগ সামনে আসা মানেই যে বিষয়টিকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই সেটাও স্পষ্ট। প্রশ্ন উঠছে, কেন বহু অভিযোগ এতদিন প্রকাশ্যে এল না? কেন ক্ষমা চাওয়াকেই চূড়ান্ত সমাধান হিসেবে মেনে নেওয়া হয়? বিনোদন জগতে শিশু ও নবাগতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদৌ কি যথেষ্ট ব্যবস্থা আছে?



