Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর একের পর এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপে নজর কেড়েছেন দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu)। দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি শুধু রাফালে যুদ্ধবিমানে চড়েই ইতিহাস গড়েননি, এবার লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার (এলসিএইচ) ‘প্রচণ্ড’-এ সওয়ার হয়ে আরও এক নতুন অধ্যায় রচনা করলেন। রাজস্থানের জয়সলমের বায়ুসেনা ঘাঁটি থেকে তাঁর এই উড়ান শুধু প্রতীকী নয়, বরং তা আত্মনির্ভর ভারতের সামরিক সক্ষমতারও এক জোরালো বার্তা।

জয়সলমেরের আকাশে ‘প্রচণ্ড’ (Droupadi Murmu)
শুক্রবার রাজস্থানের জয়সলমেরে ভারত-পাক সীমান্তের নিকটবর্তী বায়ুসেনা ঘাঁটি থেকে ‘প্রচণ্ড’ হেলিকপ্টারটি উড়ে যায়। দু’দিনের সফরে রাজস্থানে গিয়ে রাষ্ট্রপতি ‘বায়ু শক্তি’ প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার আগেই এই বিশেষ উড়ানে অংশ নেন। রাষ্ট্রপতির পরনে ছিল বায়ুসেনার বিশেষ পোশাক। বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং তাঁকে ঘাঁটিতে স্বাগত জানান। হেলিকপ্টারে উঠে তিনি সহকারী পাইলটের আসনে বসেন এবং উড়ানের আগে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান উপস্থিতদের। ককপিটে বসে তিনি আত্মনির্ভরতার বার্তা দেন, “প্রচণ্ড হেলিকপ্টার আত্মনির্ভরতার একটি শক্তিশালী প্রতীক… আমাদের সাহসী জওয়ানদের প্রতি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা রইল। জয় হিন্দ, জয় ভারত।”

এর আগেও নজির গড়েছেন (Droupadi Murmu)
এর আগে ২০২৩ সালে তিনি দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে Dassault Rafale যুদ্ধবিমানে চড়ে ইতিহাস গড়েন। এছাড়া ২০১৩ সালের ৮ এপ্রিল অসমের তেজপুর বায়ুসেনা ঘাঁটি থেকে Sukhoi Su-30MKI যুদ্ধবিমানে উড়েছিলেন তিনি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি দেশের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংহতি ও সাহসিকতার বার্তা তুলে ধরেছেন।
আত্মনির্ভর ভারতের প্রতীক (Droupadi Murmu)
লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার (এলসিএইচ) ‘প্রচণ্ড’ ভারতীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনের এক গর্বিত উদাহরণ। ২০২২ সালের অক্টোবরে প্রথমবার এটি ভারতীয় বায়ুসেনায় অন্তর্ভুক্ত হয়। হেলিকপ্টারটির নির্মাতা সংস্থা Hindustan Aeronautics Limited (হ্যাল), যা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ‘প্রচণ্ড’-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য, প্রায় ৫,০০০ মিটার (১৬,০০০ ফুট) উচ্চতায় সাবলীল উড়ান, সিয়াচেন ও লাদাখের মতো উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে কার্যকর অভিযান পরিচালনা, আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে মাটিতে নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ক্ষমতা, ইন্টিগ্রেটেড ডেটা চিপ ও নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধা, এই হেলিকপ্টার উচ্চভূমি ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নজরদারি এবং দ্রুত আক্রমণ ক্ষমতায় ভারতীয় সেনাকে উল্লেখযোগ্য সুবিধা দেবে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

আরও পড়ুন: Supreme Court: এসআইআর নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ রাজ্য
প্রতিরক্ষা কৌশলের নতুন দিশা
রাষ্ট্রপতির ‘প্রচণ্ড’-এ সওয়ার হওয়া নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার নীতিকে আরও শক্তিশালী করে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও দেশীয় প্রযুক্তি নির্ভর সামরিক উন্নয়নের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘প্রচণ্ড’ তার বাস্তব রূপ। সিয়াচেন, লাদাখ বা পশ্চিম সীমান্তের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে এই হেলিকপ্টার ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে। আধুনিক প্রযুক্তি ও দেশীয় উৎপাদনের সমন্বয়ে ‘প্রচণ্ড’ শুধু একটি যুদ্ধযান নয়, বরং ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রতীক।



