Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নিউটাউনে দুর্গা অঙ্গন প্রকল্পের সূচনা পশ্চিমবঙ্গের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক (Durga Angan Project)। রাজ্য সরকার বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য, লোকসংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে একত্রে তুলে ধরতে যে পরিকল্পনা নিয়েছে, দুর্গা অঙ্গন তারই এক বাস্তব রূপ। প্রায় ১৭ একর জমিতে, প্রায় ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে চলা এই প্রকল্প শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয় বরং এটি ভবিষ্যতের এক স্থায়ী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রাখে।

নকশায় ধর্মীয় ভাবনার প্রতিফলন (Durga Angan Project)
প্রাথমিক নকশা অনুযায়ী, দুর্গা অঙ্গনের মূল প্রবেশদ্বারটি নির্মিত হবে একটি ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের আদলে। সবুজে ঘেরা প্রশস্ত প্রাঙ্গণের মধ্য দিয়ে মার্বেলের রাস্তা দর্শনার্থীদের নিয়ে যাবে মূল মন্দির চত্বরে। এই স্থাপত্য পরিকল্পনায় ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি আধুনিক নাগরিক পরিকাঠামোর ছোঁয়াও রাখা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে এসে সময় কাটাতে পারেন। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, এটি এমন এক জায়গা হবে যেখানে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, নিত্যপুজো এবং উৎসবের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও সমান গুরুত্ব পাবে।
ধর্মের গণ্ডি ছাড়িয়ে এক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (Durga Angan Project)
দুর্গা অঙ্গনের লক্ষ্য কেবল দুর্গাপুজোর নিত্য আরাধনায় সীমাবদ্ধ থাকা নয়। এখানে বাংলার শিল্পকলা, লোকসংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, সঙ্গীত ও হস্তশিল্পকে তুলে ধরার জন্য আলাদা পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী ও ঐতিহ্যভিত্তিক কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্গা অঙ্গন ধীরে ধীরে একটি স্থায়ী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত হবে বলেই আশা রাজ্য প্রশাসনের। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার সংস্কৃতিকে আরও জীবন্ত করে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ধর্মীয় পর্যটনে নতুন দিশা (Durga Angan Project)
দুর্গা অঙ্গন প্রকল্প রাজ্যের বৃহত্তর ধর্মীয় পর্যটন নীতিরই অংশ। চলতি বছর অক্ষয় তৃতীয়ার দিন দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের পর সেখানে বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগম তারই প্রমাণ। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে মাটিগাড়ায় মহাকাল মন্দির নির্মাণের ঘোষণা রাজ্যের ধর্মীয় মানচিত্রকে আরও বিস্তৃত করেছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই সমস্ত প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গকে একটি শক্তিশালী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলবে, যা ভবিষ্যতে রাজ্যের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ধারাবাহিকতায় দুর্গা অঙ্গন (Durga Angan Project)
২০২১ সালে ইউনেস্কোর ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’ তালিকায় বাংলার দুর্গাপুজো স্থান পায়। সেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পর দুর্গা অঙ্গন প্রকল্পকে অনেকেই দেখছেন ঐতিহ্য সংরক্ষণের একটি প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ হিসেবে। ভবিষ্যতে এটি দুর্গার নিত্যপুজোর একটি স্থায়ী আঙিনা হয়ে উঠতে পারে, যেখানে সারা বছরই দুর্গা আরাধনার সঙ্গে সঙ্গে সংস্কৃতির চর্চা চলবে।
নির্মাণের দায়িত্ব ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি (Durga Angan Project)
দিঘার জগন্নাথ মন্দির নির্মাণের দায়িত্বে থাকা হিডকোকেই দুর্গা অঙ্গন প্রকল্পের বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক কর্তাদের মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্মাণ শেষ হলে দুর্গা অঙ্গন রাজ্যের অন্যতম বড় পর্যটন ও সাংস্কৃতিক আকর্ষণ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে আশা।

আরও পড়ুন: US Flight: একদিনেই বাতিল হাজারের বেশি উড়ান: ভ্রমণ মরসুমে আমেরিকায় চরম যাত্রী দুর্ভোগ
রাজনৈতিক বিতর্ক ও ভিন্নমত
এই উদ্যোগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও অনিবার্য হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আগেই দাবি করেছেন, সরকারি অর্থে ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ সংবিধানসম্মত নয়। তবে রাজ্য সরকার সেই আপত্তি খারিজ করে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, শিলান্যাসের পর বিরোধী দলগুলির সমালোচনা আরও তীব্র হতে পারে।



