Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আষাঢ় মাসের শুক্ল দ্বিতীয়া তিথিতে রথের চাকা গড়ানো মানেই শুধু জগন্নাথদেবের মহাযাত্রা নয়, বাঙালির আবেগে এ যেন আর এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা (Durga Puja 2026)। কারণ, রথযাত্রা শেষ হতেই বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হয়ে যায় একটাই অপেক্ষা—‘আর ক’দিন বাকি মা আসতে?’ জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা যেমন ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতীক, তেমনই এই দিন থেকেই বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে যায়। বর্ষার স্নিগ্ধ আবহ, ঢাকের প্রাথমিক আওয়াজ, মণ্ডপ নির্মাণের ব্যস্ততা, শিল্পীদের তুলির টান—সব মিলিয়ে রথযাত্রা যেন বাঙালির শারদীয় আবেগের প্রথম সুর।
জগন্নাথের মহাযাত্রা, বাঙালির উৎসবের সূচনা (Durga Puja 2026)
পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দিরে রথযাত্রা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। এই দিনে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা তিনটি পৃথক রথে চড়ে গুন্ডিচা মন্দিরে, অর্থাৎ মাসির বাড়িতে গমন করেন। লক্ষ লক্ষ ভক্ত রথের রশি টেনে নিজেদের ধন্য মনে করেন। বিশ্বাস করা হয়, ভক্তিভরে রথের রশি স্পর্শ করলেও পুণ্য লাভ হয়। কিন্তু বাংলার মানুষের কাছে রথযাত্রার তাৎপর্য আরও গভীর। এই দিনটিকেই ধরা হয় দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির সূচনা হিসেবে। রথের রশিতে টান পড়তেই যেন শারদীয় উৎসবের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে যায়।
দুর্গাপুজোর প্রথম আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ (Durga Puja 2026)
রথযাত্রার দিন পশ্চিমবঙ্গের অসংখ্য বারোয়ারি ও সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটিতে অনুষ্ঠিত হয় খুঁটিপুজো। এই পূজার মাধ্যমে মণ্ডপ নির্মাণের শুভ সূচনা করা হয়। যে বাঁশ বা খুঁটির উপর ভর করে বিশাল প্যান্ডেল তৈরি হবে, সেই খুঁটির পূজা করেই শুরু হয় শারদোৎসবের প্রস্তুতি। খুঁটিপুজোর পর থেকেই শুরু হয়, মণ্ডপ নির্মাণের কাজ, প্রতিমা তৈরির শেষ পর্যায়, আলোকসজ্জার পরিকল্পনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, অর্থাৎ, রথযাত্রা কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, বাংলার বৃহত্তম সাংস্কৃতিক উৎসবেরও আনুষ্ঠানিক সূচনাদিবস।

২০২৬ সালে কেন পিছিয়ে দুর্গাপুজো? (Durga Puja 2026)
গত বছরের তুলনায় ২০২৬ সালে দুর্গাপুজো কিছুটা দেরিতে অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৫ সালে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহেই উৎসবের আমেজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে তিথির অবস্থানের কারণে দুর্গাপুজো অক্টোবরের মাঝামাঝি অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়ের ব্যবধানের ফলে পুজোর প্রস্তুতির জন্য শিল্পী, উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ীরা তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি সময় পাচ্ছেন। কুমোরটুলির শিল্পীদের কাছেও এই অতিরিক্ত সময় নিখুঁত প্রতিমা নির্মাণের সুযোগ এনে দিয়েছে।
পিতৃপক্ষের অবসান, দেবীপক্ষের সূচনা (Durga Puja 2026)
আগামী ১০ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার পালিত হবে মহালয়া বা সর্বপিতৃ অমাবস্যা। এই দিনেই সমাপ্ত হবে পিতৃপক্ষ এবং শুরু হবে দেবীপক্ষ। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের অমর কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ অনুষ্ঠান শুনে বাঙালি যুগ যুগ ধরে দেবী দুর্গার আবাহনের প্রস্তুতি নেয়। মহালয়ার আবহেই যেন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এক অদৃশ্য উৎসবের গন্ধ। কাশফুল, শরতের নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর ভোরের চণ্ডীপাঠ—সব মিলিয়ে বাঙালির আবেগে মহালয়া এক অনন্য অনুভূতির নাম।
২০২৬ সালের দুর্গাপুজোর পূর্ণ নির্ঘণ্ট (Durga Puja 2026)
পঞ্জিকা অনুযায়ী ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোর তিথিগুলি হল,
মহালয়া: ১০ অক্টোবর, শনিবার
প্রতিপদ ও নবরাত্রির সূচনা: ১১ অক্টোবর, রবিবার
মহাষষ্ঠী: ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার
মহাসপ্তমী: ১৭ ও ১৮ অক্টোবর, শনিবার ও রবিবার
মহাষ্টমী: ১৯ অক্টোবর, সোমবার
মহানবমী: ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার
বিজয়া দশমী: ২১ অক্টোবর, বুধবার
দুই দিনের মহাসপ্তমী: এবারের বিশেষ আকর্ষণ
আরও পড়ুন: Madan Mitra: এবার মদন হাত ছাড়ল মমতার? ঋতব্রতদের ঘরে মদন
২০২৬ সালের দুর্গাপুজোর অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল মহাসপ্তমীর তিথি দুই দিন জুড়ে বিস্তৃত থাকবে। তিথির দীর্ঘস্থায়িত্বের কারণে ১৭ এবং ১৮ অক্টোবর—পরপর দুই দিনই মহাসপ্তমী পালিত হবে। এই ধরনের বিরল তিথি অনেক সময় মন্দির ও বিভিন্ন অঞ্চলের পঞ্জিকার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পূজার সময়সূচিতে কিছু পার্থক্য তৈরি করতে পারে। ধর্মীয় ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

গজে আগমন: দেবীর শুভ আগমনের বার্তা
শাস্ত্রমতে দেবী দুর্গার আগমন ও গমন নির্ধারিত হয় মহাসপ্তমী এবং বিজয়া দশমীর বার অনুসারে। এবার মহাসপ্তমী রবিবারে হওয়ায় দেবীর আগমন ঘটছে গজে, অর্থাৎ হাতিতে। শাস্ত্রে গজকে অত্যন্ত শুভ বাহন হিসেবে গণ্য করা হয়। এর প্রতীকী অর্থ, সুখ ও সমৃদ্ধির আগমন কৃষিক্ষেত্রে উন্নতি, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, সামাজিক স্থিতি ও শান্তি শুভ ফলের সম্ভাবনা বৃদ্ধি, অনেক প্রাচীন পঞ্জিকায় গজে আগমনকে বছরের অন্যতম শুভ লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।



