Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দুর্গাপুরের মতো একটি শিল্পনগরীতে যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের জীবনযাত্রা নির্ভর করে পরিকাঠামোর উপর (Durgapur), সেখানে হঠাৎ এমন একটি ঘটনা যে কত বড় বিপদের ইঙ্গিত দিতে পারে রবিবারের ঘটনাই তার স্পষ্ট প্রমাণ। সিটি সেন্টারের বেঙ্গল অম্বুজা এলাকায় দুর্গাপুর পৌরনিগমের কাজ চলাকালীন গ্যাস পাইপলাইন ফেটে যাওয়ার ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।

তারপরই গ্যাসের গন্ধে আতঙ্ক (Durgapur)
রবিবার সকালে সাধারণ দিনের মতোই কাজ চলছিল। জেসিবি মেশিন দিয়ে মাটি কাটার কাজ করছিল দুর্গাপুর পৌরনিগম। কিন্তু আচমকাই এক বিকট শব্দ তারপরই বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র গ্যাসের গন্ধ। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, “প্রথমে মনে হয়েছিল বিস্ফোরণ হয়েছে!” এই গন্ধ এবং শব্দ মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে। মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে আসে, কেউ কেউ নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। কারণ সবাই জানতেন গ্যাস মানেই সম্ভাব্য ভয়াবহ বিপদ।
সতর্কবার্তা ছিল, তবুও কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা? (Durgapur)
ঘটনাস্থলে আগে থেকেই গ্যাস পাইপলাইন থাকার সতর্কবার্তা বোর্ড লাগানো ছিল। তবুও কীভাবে জেসিবি দিয়ে কাজ চলার সময় পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হল, তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। এখানেই প্রশাসনিক গাফিলতির ইঙ্গিত দেখছেন অনেকেই। কাজ শুরুর আগে কি যথাযথ ম্যাপ যাচাই করা হয়েছিল? গ্যাস সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় ছিল কি? নিরাপত্তা প্রটোকল মানা হয়েছিল তো? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই এখন খুঁজছে সাধারণ মানুষ।

দ্রুত তৎপরতায় বড় দুর্ঘটনা এড়াল দমকল (Durgapur)
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। সঙ্গে আসে গ্যাস সংস্থার টেকনিশিয়ানরা। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় গ্যাস লিক হওয়া পাইপলাইনের ভাল্ব বন্ধ করা হয়। দুর্গাপুর দমকলের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক পার্থসারথী ঘোষ জানান “সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে এলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটার আশঙ্কা ছিল।” এই তৎপরতাই রক্ষা করেছে বহু মানুষের প্রাণ ও সম্পত্তি।
ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ (Durgapur)
এই পাইপলাইন দিয়েই সিটি সেন্টারের সেল কো-অপারেটিভ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বাড়ি বাড়ি গ্যাস সরবরাহ করা হয়।
ভাল্ব বন্ধ করে দেওয়ার ফলে পুরো এলাকায় গ্যাস পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে, রান্নাবান্নায় সমস্যা, দৈনন্দিন কাজকর্মে বিঘ্ন, হোটেল ও ছোট ব্যবসায় ক্ষতি, মেরামতির কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই সমস্যা চলবে বলেই জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: Leander Paes Joins BJP: ভোটের আগেই ফুল বদল, ঘাস ফুল ছেড়ে পদ্মে যোগ লিয়েন্ডারের!
দুই মিলেই রক্ষা পেল দুর্গাপুর
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দুর্গাপুরের মানুষ সচেতন বলেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। গ্যাসের গন্ধ পেয়ে দ্রুত এলাকা খালি করা এবং আগুনের উৎস এড়ানো এই সাধারণ সচেতনতাই বিপদকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করেছে। একটি ছোট্ট ভুল থেকে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত, তা এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল।



