Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতীয় মানদণ্ড ব্যুরো (BIS) সম্প্রতি যে নতুন Earthquake Design Code প্রকাশ করেছে (Earthquake), তা দেশের ভূকম্প ঝুঁকির ধারণাকেই আমূল বদলে দিয়েছে। ‘সিসমিক জোনেশন ম্যাপ’-এর এই নতুন সংস্করণ জানিয়ে দিয়েছে, হিমালয় এখন ভারতের সবচেয়ে বিপজ্জনক অঞ্চল, যেখানে যেকোনও সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ ভূমিকম্প। আগে যেখানে সর্বোচ্চ ঝুঁকির অঞ্চল ছিল Zone V, সেখানে এবার উঠে এসেছে আরও কঠোর মানদণ্ড Zone VI, যা প্রথমবারের মতো সংযোজিত হয়েছে। এর ফলে ভারতের প্রায় ৬১ শতাংশ এলাকা এখন মাঝারি থেকে অতি-উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।
কতটা বদল, কেন বদল? (Earthquake)
২০০২ সালের মানচিত্র এবং ২০১৬ সালের আংশিক আপডেটের পর বৈজ্ঞানিকভাবে প্রয়োজন ছিল আরও আধুনিক ও ডেটা-ভিত্তিক মানচিত্রের। কারণ সেই মানচিত্র দ্রুত নগরায়ণ, পরিবর্তিত মাটি-গঠন এবং আধুনিক ফল্ট-ডেটার সঙ্গে মানানসই ছিল না।
পূর্ববর্তী বিভাজন ছিল চারটি জোনে—
- Zone II – কম ঝুঁকি
- Zone III – মাঝারি ঝুঁকি
- Zone IV – উচ্চ ঝুঁকি
- Zone V – সর্বোচ্চ ঝুঁকি
আরও পুরোনো সময়ে ছিল Zone I, যা Zone II-এর সঙ্গে মিশে যায়।
নতুন মানচিত্রে যদিও একই চারটি জোন রাখা হয়েছে, তবে Zone V-কে আরও তীব্র ভাবে ব্যাখ্যা করে তৈরি হয়েছে Zone VI—অতি-উচ্চ ঝুঁকির এলাকা। এই প্রথম হিমালয়ের পুরো অঞ্চলকে রাখা হয়েছে Zone VI-এ, একে দেখা হচ্ছে ‘ইমিনেন্ট লার্জ আর্থকোয়েক’-এর সম্ভাব্য উৎস হিসেবে। বদলের কারণ স্পষ্ট হিমালয়ের প্রতিটি ইঞ্চিতে এখন চাপ জমছে, যা মুক্ত হলে বিশাল শক্তির ভূমিকম্প ঘটতে পারে।
সৃষ্টির সৌন্দর্যের আড়ালে এক ভয়ঙ্কর বাস্তবতা (Earthquake)
হিমালয় শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি পৃথিবীর শক্তিশালী টেকটোনিক যুদ্ধক্ষেত্রগুলোর একটি। এখানে ভারতীয় ও ইউরেশীয় প্লেটের সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে। আজও ভারতীয় প্লেট প্রতি বছর পাঁচ সেন্টিমিটার উত্তরে সরে গিয়ে Himalaya-কে ঠেলে তুলছে আরও উঁচুতে। এই চলমান সঞ্চালনের কারণেই তৈরি হয়েছে তিন ভয়াবহ সক্রিয় ফল্ট—
- Main Frontal Thrust (MFT)
- Main Boundary Thrust (MBT)
- Main Central Thrust (MCT)
এগুলি পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী ফল্ট, যেখান থেকে অতীতে বহু ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প জন্ম নিয়েছে, এবং ভবিষ্যতেও হতে পারে। হিমালয়ের পাদদেশে দেখা দিচ্ছে নতুন ফাটল, কখনও মাটি কুঁকড়ে যাচ্ছে, কখনও প্রসারিত হচ্ছে চাপমুক্তির জন্য। ভূমিকম্পের ছোট ছোট ঝাঁকুনিগুলি যেন বড় ঝড়ের পূর্বাভাস।
কেন সমতল এলাকা পর্যন্ত বিপদের মুখে? (Earthquake)
ভূমিকম্প কেবল পাহাড়ে সীমাবদ্ধ থাকে না। হিমালয়ের ভূকম্পীয় শক্তি দক্ষিণে নেমে আসতে পারে কয়েকশো কিলোমিটার। নতুন মানচিত্র তাই স্পষ্টভাবে সতর্ক করছে দিল্লি-NCR, দেরাদুন, হরিদ্বার, সাহারানপুরের মতো সমতল এলাকাও গুরুতর ঝুঁকিতে। কারণ, সমতলের নরম অলুভিয়াল মাটি কম্পনকে আরও বাড়িয়ে দেয়, ঘন জনবসতি, উচ্চ ভবন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ফলে এক বড় ভূমিকম্পে বহু শহর ভয়াবহ ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারে।
কোন কোন অঞ্চল ‘অতি-উচ্চ ঝুঁকি’তে? (Earthquake)
নতুন মানচিত্র অনুযায়ী, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো হল, পুরো হিমালয় পর্বতশ্রেণি (জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ, হিমাচল, উত্তরাখণ্ড, সিকিম), উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অংশ, উত্তর-পূর্ব ভারত (অরুণাচল, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা) দিল্লি-NCR (বিশেষ সতর্কতা) উত্তরপ্রদেশের উত্তর-পশ্চিম জেলা বিজ্ঞানীদের মতে, এই অঞ্চলগুলির কোথাও এখনো বড় ভূকম্পন হয়নি বহু বছর ধরে, ফলে ফল্টে জমে থাকা শক্তি আরও ভয়ংকর হতে পারে।
আরও পড়ুন:Infiltration: অজান্তেই বাংলাদেশি ছেলের বাবা!পুলিশ ও ব্লক অফিসে লিখিত অভিযোগ বসিরহাটের বাসিন্দার
ভবন নির্মাণে বড় পরিবর্তন
এখন থেকে দেশের সব ইঞ্জিনিয়ার ও স্থপতিকে বাধ্যতামূলকভাবে এই নতুন মানচিত্র অনুসরণ করতে হবে। এর মূল উদ্দেশ্য দুর্যোগে প্রাণহানি কমানো ও ভবনকে পতন থেকে রক্ষা করা। মূল পরিবর্তনগুলো, প্রতিটি ভবনকে সিসমিক লোড মাথায় রেখে নির্মাণ উচ্চ ঝুঁকির এলাকায় বেইস আইসোলেশন ও শিয়ার ওয়াল প্রয়োগ,পুরোনো সেতু, ভবন, দপ্তরগুলোতে রেট্রোফিটিং, সরকারি প্রকল্পে সিসমিক নিরাপত্তার বাধ্যবাধকতা, এই পরিবর্তন ভবিষ্যতের ভারতের নগর কাঠামোকে বর্তমানের তুলনায় বহুগুণ নিরাপদ করতে পারে।



