Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শুক্রবার দুপুরে আচমকা কেঁপে উঠল কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা (Earthquake)। ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে এই কম্পনের অভিঘাত সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে ৫.৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা। প্রায় ৪৫ সেকেন্ড স্থায়ী কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজ্যের একাধিক জেলায়। নিচে ঘটনাপ্রবাহটি প্রবন্ধের আকারে উপস্থাপন করা হল।

ভূমিকম্পের সময় ও মাত্রা (Earthquake)
শুক্রবার দুপুর ১টা ২২ মিনিট নাগাদ প্রথম কম্পন অনুভূত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই কাঁপতে শুরু করে বাড়ি, অফিস, স্কুল ভবন। রিখটার স্কেলে ৫.৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি মাঝারি শক্তির হলেও স্থায়িত্ব ছিল তুলনামূলক দীর্ঘ প্রায় ৪৫ সেকেন্ডের বেশি। উৎসস্থল ছিল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা, তবে কম্পনের তীব্রতা সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়।
দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রশাসনিক দফতর খালি (Earthquake)
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন প্রান্তেও কম্পন তীব্রভাবে অনুভূত হয়। ক্যানিং মহকুমাশাসকের দফতরে কর্মরত আধিকারিক ও কর্মচারীরা আতঙ্কে ভবন ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। এক কর্মীর বক্তব্য, “প্রথমে মনে হয়েছিল শরীর খারাপ করছে। মাথা ঘুরছিল। তারপর দেখি সবাই দৌড়চ্ছে, তখন দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসি।” সুন্দরবন এলাকার একাধিক স্কুল থেকেও পড়ুয়ারা মাঠে বেরিয়ে আসে। গ্রামীণ এলাকায় কাঁচা ও আধাপাকা বাড়িগুলিতে ফাটল ধরার খবর পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

অন্যান্য জেলায় কম্পনের প্রভাব (Earthquake)
ভূমিকম্পের অভিঘাত অনুভূত হয় পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া এবং হুগলি জেলাতেও। হুগলির ডানকুনি পৌরসভার কর্মচারীরা আতঙ্কে অফিস ভবন খালি করে বাইরে দাঁড়ান। বহু জায়গায় মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে আসেন, অনেকে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন। কলকাতাতেও বহুতল ভবনের বাসিন্দারা কম্পন টের পান। অনেকেই লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসেন নিরাপদ স্থানে।
আরও পড়ুন: Supreme Court: এসআইআর নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ রাজ্য
আতঙ্ক বনাম প্রস্তুতির প্রশ্ন
এই ভূমিকম্প আবারও মনে করিয়ে দিল, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে আমাদের প্রস্তুতি কতটা প্রয়োজন। স্কুল ও অফিসে নিয়মিত মহড়া, নির্মাণক্ষেত্রে ভূমিকম্প-সহনশীল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের সাতক্ষীরা থেকে উৎপন্ন এই কম্পন দেখিয়ে দিল, সীমান্ত কোনও বাধা নয় প্রাকৃতিক দুর্যোগের অভিঘাত ভৌগোলিক সীমানা মানে না। ফলে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাই হতে পারে ভবিষ্যতের একমাত্র ভরসা।



