Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার (Mamata Banerjee) তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে নজিরবিহীন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর (SIR) নিয়ে এবার সরাসরি ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার নবান্নে আচমকা ডাকা সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, এসআইআর-এর আড়ালে রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার সুপরিকল্পিত চক্রান্ত চলছে।
‘ব্ল্যাক ম্যাজিক’-এর সঙ্গে তুলনা (Mamata Banerjee)
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৫৪ লক্ষ প্রকৃত ভোটারের (Mamata Banerjee) নাম বেআইনিভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি একে ‘ব্ল্যাক গেম’ ও ‘ব্ল্যাক ম্যাজিক’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। মমতার দাবি, এই নাম বাদ দেওয়ার কাজ রাজ্যের নির্বাচন দফতর বা সিইও অফিস থেকে নয়, সরাসরি দিল্লি থেকে করা হয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, এই পুরো প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করা হয়েছে এবং এর নেপথ্যে বিজেপির আইটি সেলের ভূমিকা রয়েছে।

এসআইআর-এর নামে সর্বনাশের খেলা (Mamata Banerjee)
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা (Mamata Banerjee) জানান, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝেই তিনি হঠাৎ এই সাংবাদিক বৈঠক করতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর কথায়, “এসআইআর-এর নামে সর্বনাশের খেলা চলছে।” তিনি বলেন, যে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ গেছে, তাঁদের মধ্যে বড় অংশই বিবাহিত মহিলা। বিয়ের পর পদবি বদলানো বা ঠিকানা বাপেরবাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে পরিবর্তনের কারণে বহু মহিলার নাম ‘মিসম্যাচ অফ ম্যাপিং’-এর অজুহাতে কেটে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এটি নির্বাচন কমিশনের গুরুতর ভুল এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা।
আইনি যুক্তি তুলে ধরেন মমতা
আইনি যুক্তি তুলে ধরে মমতা প্রশ্ন তোলেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আগে কেন সংশ্লিষ্ট নাগরিকদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হল না। তাঁর বক্তব্য, “একজন অপরাধীকেও আদালত নিজের কথা বলার সুযোগ দেয়। অথচ এখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম একতরফাভাবে কেটে দেওয়া হল।” তিনি আরও দাবি করেন, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা হলেও, ইআরও অ্যাসোসিয়েশন চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে তাদের লগ-ইন আইডি অপব্যবহার করে নাম মুছে ফেলা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ
মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, ভোটার তালিকার খসড়া কপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে দেওয়া হয়নি, অথচ বিজেপি আগেভাগেই সমস্ত তথ্য পেয়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে বুঝতে না পারেন তাঁদের নাম তালিকায় রয়েছে কি না, সেই কারণেই এই গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে বলে তাঁর দাবি। তিনি জানান, বহু মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও স্পষ্ট তথ্য পাচ্ছেন না।
আরও পড়ুন: Abhishek Banerjee: আঙ্গুল নামিয়ে কথা বলুন: নির্বাচন কমিশনারকে অভিষেক
অন্য রাজ্যের উদাহরণ
অন্য রাজ্যের উদাহরণ টেনে মমতা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ও বিহারেও একই কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে। সেখানে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দ্রুত নির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ায় আইনি লড়াইয়ের সুযোগ থাকেনি। বাংলাতেও সেই একই ছক কষা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এসআইআর নোটিশ ও ভোটার তালিকা নিয়ে আতঙ্কের জেরে রাজ্যে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। নবান্ন সূত্রে তাঁর দাবি, এই আতঙ্কে এখনও পর্যন্ত ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে বহু মানুষ হার্ট অ্যাটাক ও ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মমতা বলেন, ভোটের আগে মানুষের নাম কেটে দিয়ে সরকার বেছে নেওয়ার চেষ্টা হলে তার জবাবদিহি কমিশনকেই করতে হবে। এই অভিযোগ ঘিরে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট।


