Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চলচ্চিত্র জগতের অমর নায়ক ধর্মেন্দ্র (Esha Deol), যিনি কেবল ‘হিন্দি সিনেমার ডায়নামাইট’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন না, বরং এক নিঃশর্ত পিতার অনন্য প্রতীকও ছিলেন, ২৪ নভেম্বর ২০২৫ সালে ৮৯ বছর বয়সে আমাদের মাঝে থেকে চিরতরে প্রস্থান করলেন। তাঁর মৃত্যু কেবল পরিবারকেই নয়, গোটা চলচ্চিত্র দুনিয়াকেই শোকস্তব্ধ করেছে। তাঁর শেষকৃত্য পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, সলমন খান, গোবিন্দসহ অসংখ্য তারকা। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর ঠিক কয়েক সপ্তাহ পরেই এসেছে তাঁর ৯০তম জন্মদিন। সেই দিনটি এষা দেওলের কাছে বিশেষ হয়ে ওঠে পিতার স্মৃতিতে লেখা এক আবেগঘন খোলা চিঠির মাধ্যমে তিনি প্রকাশ করেছেন বাবার সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের অমূল্য স্মৃতি।

বাবার সঙ্গে ভাগ করা মুহূর্তের আবেগ (Esha Deol)
এষা দেওল তাঁর ইনস্টাগ্রাম পোস্টে উল্লেখ করেন, বাবা ও কন্যার সম্পর্কের বন্ধন কতটা গভীর ছিল। তিনি লেখেন, “আমার বাবার জন্য। আমাদের চুক্তি, আমাদের বন্ধন সবচেয়ে শক্তিশালী। সমস্ত জীবন, সমস্ত জগৎ আর তারও বাইরে ‘আমরা’ সব জায়গায় একসঙ্গেই আছি… বাবা, আমরা সব সময় একসঙ্গেই থাকব। স্বর্গ হোক বা পৃথিবী, আমরা একই সত্তা।” তিনি বাবার সঙ্গে কাটানো হাসি, কথোপকথন, পরামর্শ এবং জীবনের অমূল্য মুহূর্তগুলো মনে করে বলেন, “তোমার সেই জড়িয়ে ধরা ছিল সবচেয়ে আরামদায়ক কম্বলের মতো। তোমার নরম অথচ শক্ত হাত ধরার অনুভূতি, যেখানে শব্দ ছাড়াই ছিল হাজারটা কথা।”

আদর্শকে জীবনের পথপ্রদর্শক (Esha Deol)
এষা তাঁর চিঠিতে বাবার শেখানো জীবনমন্ত্রকেও স্মরণ করেন। তিনি লিখেছেন, “তোমার মন্ত্র ‘সব সময় বিনয়ী থেকো, সুখী থেকো, সুস্থ আর শক্ত থেকো’ আমি গর্ব আর সম্মানের সঙ্গে তোমার উত্তরাধিকার বহন করব। কথা দিচ্ছি। আর আমার সাধ্য অনুযায়ী তোমার ভালবাসা ছড়িয়ে দেব সেই লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে, যারা তোমাকে আমার মতোই ভালবাসে।” এই লেখার মাধ্যমে তিনি শুধু বাবাকে স্মরণ করেননি, বরং তাঁর আদর্শকে নিজের জীবনের পথপ্রদর্শক করার অঙ্গীকারও করেছেন।
আরও পড়ুন: Donald Trump Peace Prize: নোবেল না পেলেও ফিফার পুরস্কার! ট্রাম্প কি স্বপ্নপূরণের শর্টকাট নিলেন?
চলচ্চিত্র জগতের শোক
নভেম্বরের শুরুতেই ধর্মেন্দ্রকে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ১০ নভেম্বর তাঁর মৃত্যুর গুজব ছড়ালেও তা নস্যাৎ করে পরিবার জানিয়েছিল, তিনি সেরে উঠছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২৪ নভেম্বর জুহুর বাড়িতেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হন। পবন হংস শ্মশানে পারিবারিকভাবে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। ধর্মেন্দ্রের চলে যাওয়া শুধু পরিবারকেই নয়, গোটা চলচ্চিত্র জগতকেও শোকস্তব্ধ করেছে। তাঁর অবদান, অভিনয়, অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং দর্শকপ্রিয়তা আজও সকলের মনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।



