Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আজকাল স্বাস্থ্য পরীক্ষায় গিয়ে (Fatty Liver) অনেকেই হঠাৎ করে জানতে পারছেন, তাঁদের লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমেছে। সাধারণ কথায় যাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়, চিকিৎসাবিজ্ঞানে সেটির নাম মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিটোটিক লিভার ডিজিজ। প্রথম দিকে এই সমস্যাটি তেমন কোনও উপসর্গ না দেখালেও, ভিতরে ভিতরে কিন্তু বিপদ ডেকে আনতে পারে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল-ফ্যাটি লিভার কি ভবিষ্যতে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়?
ঝুঁকি আরও বেড়ে যায় (Fatty Liver)
কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালের ক্যানসার (Fatty Liver) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সন্দীপ গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, ফ্যাটি লিভারকে হালকা ভাবে নেওয়া একেবারেই ঠিক নয়। আধুনিক জীবনযাত্রা, অনিয়ন্ত্রিত খাওয়া, অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড, শরীরচর্চার অভাব-এই সবকিছুর মিলিত প্রভাবেই লিভারে ধীরে ধীরে ফ্যাট জমতে শুরু করে। এর সঙ্গে যদি ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকে, তাহলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়া ব্যাহত (Fatty Liver)
লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমলে প্রথমে সেই অঙ্গের স্বাভাবিক (Fatty Liver) বিপাকক্রিয়া ব্যাহত হয়। ক্রমে সেখানে প্রদাহ বা জ্বালার সৃষ্টি হয়, যা থেকে নন-অ্যালকোহলিক স্টিয়াটোহেপাটাইটিস বা এনএএসএইচ নামের জটিল রোগ দেখা দিতে পারে। এই পর্যায়েই মূল বিপদের শুরু। চিকিৎসকের মতে, দীর্ঘদিন এই অবস্থাকে অবহেলা করলে ফ্যাটি লিভার ধীরে ধীরে সিরোসিসে রূপ নিতে পারে।

লিভার সিরোসিস হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি
পরিসংখ্যান বলছে, ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ১৫ জনের ক্ষেত্রে লিভার সিরোসিস হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। আশ্চর্যের বিষয় হল, এই ঝুঁকি কেবল মদ্যপানকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যাঁরা মদ খান না, এমনকী যাঁদের শরীরে হেপাটাইটিস ভাইরাস নেই, তাঁদেরও ফ্যাটি লিভার থেকে সিরোসিস হতে পারে। আর একবার সিরোসিস হলে, সেখান থেকে লিভার ক্যানসারের আশঙ্কা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশে।
এড়িয়ে যাওয়া বিপজ্জনক
চিকিৎসক স্পষ্ট করে জানাচ্ছেন, “শুধু মদ্যপান না করলেই লিভার নিরাপদ থাকবে-এই ধারণা ভুল। ফ্যাটি লিভার নিজেই ভবিষ্যতে ক্যানসারের রাস্তা তৈরি করতে পারে।” তাই ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে সেটিকে ‘সাধারণ সমস্যা’ ভেবে এড়িয়ে যাওয়া বিপজ্জনক।

আরও পড়ুন: Hair Tips: চুলের যত্নে তেল নয় ঘি, চুল হবে মসৃণ…
সমাধান কোথায়?
প্রথমত, সময়মতো রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ-এই সব মিলিয়েই ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। শুরুতেই সচেতন হলে লিভারকে সিরোসিস বা ক্যানসারের দিকে এগোতে দেওয়া যায় না।


