Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেরিতে বিয়ে করার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে (Fertility Issues)। কর্মজীবনে সাফল্য অর্জনের স্বপ্ন, আর্থিক স্থিতিশীলতা গড়ে তোলার ইচ্ছা কিংবা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার কারণে অনেকেই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। তবে বিয়ের বয়স যত বিলম্বিত হচ্ছে, ততই সন্তানধারণের ক্ষেত্রে নানারকম শারীরিক ও মানসিক জটিলতার ঝুঁকি বাড়ছে—এমনটাই বলছেন চিকিৎসকরা।
নারীদের ক্ষেত্রে প্রভাব (Fertility Issues)

নারীর প্রজনন ক্ষমতা বা উর্বরতার সঙ্গে বয়সের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়স সন্তান নেওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এই বয়সে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণমান সর্বোচ্চ থাকে। কিন্তু ৩৫ বছরের পর থেকে ডিম্বাশয়ের ডিম্বাণুর সংখ্যা এবং গুণগত মান দ্রুত হ্রাস পেতে শুরু করে। এর ফলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে যায় এবং বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে, যেমন—
- গর্ভপাতের আশঙ্কা বৃদ্ধি
- গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ বা প্রি-এক্লাম্পসিয়া
- গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা
- স্বাভাবিক প্রসবের পরিবর্তে সিজারিয়ানের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি
শুধু তাই নয়, বয়স বেশি হলে ডিম্বাণুর গুণগত মান কমে যাওয়ায় জন্ম নেওয়া শিশুর ক্রোমোজোমজনিত ত্রুটির ঝুঁকি থাকে। এর ফলে ডাউন সিনড্রোম বা অন্যান্য জেনেটিক সমস্যার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

পুরুষদের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি (Fertility Issues)
শুধু নারীর বয়স নয়, পুরুষের বয়সও সন্তানধারণে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ (Fertility Issues)। গবেষণা বলছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের শুক্রাণুর গুণমান ও সংখ্যা কমে যায়। ৪০ বছরের পর শুক্রাণুর গতি বা গতিশীলতা হ্রাস পায়, পাশাপাশি জেনেটিক মিউটেশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর ফলস্বরূপ গর্ভধারণে বিলম্ব হতে পারে এবং ভবিষ্যৎ সন্তানের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে প্রভাব পড়তে পারে।
মানসিক প্রভাব
দেরিতে বিয়ে এবং দেরিতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা অনেক সময় মানসিক চাপও বাড়িয়ে তোলে। বয়সজনিত চাপ, দীর্ঘদিনের বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা, পরিবারের প্রত্যাশা এবং চিকিৎসার উচ্চ ব্যয়—সব মিলিয়ে দম্পতির মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। চিকিৎসকরা জানান, মানসিক চাপ সরাসরি প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস করে, ফলে সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করে।

আধুনিক চিকিৎসার সাহায্য (Fertility Issues)
তবে বিষয়টি পুরোপুরি নিরাশাজনক নয়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের কল্যাণে অনেক নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। আইভিএফ (IVF), আইইউআই (IUI), ডিম্বাণু সংরক্ষণ (Egg Freezing) ইত্যাদি প্রযুক্তির মাধ্যমে দেরিতে হলেও অনেক দম্পতি সন্তান লাভ করতে পারছেন। যদিও এগুলো ব্যয়বহুল এবং শতভাগ নিশ্চয়তা দেয় না, তবুও একে যুগান্তকারী সমাধান হিসেবে ধরা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Purba Bardhaman: দেবশালার অমর প্রেমকাহিনির অলিখিত সমাধি
করণীয় কী?
যদি কেউ দেরিতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করেন, তবে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি—
- নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও হরমোন টেস্ট
- সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা
- ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে চলা
- শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
- নিয়মিত ব্যায়াম করা
- মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা
দেরিতে বিয়ে করা অস্বাভাবিক নয়। তবে সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে বয়সের প্রভাব অস্বীকার করার উপায় নেই। বয়স যত বাড়ে, ততই শারীরিক জটিলতা, মানসিক চাপ এবং সন্তানের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সাহায্য নেওয়া—এই পথেই এগোতে হবে আধুনিক প্রজন্মকে।



