Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সম্পর্কের টানাপড়েনে দেশের পক্ষে বড় সমাধান আসতে চলেছে (Fifth Generation Jet)। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি লড়াকু জেট তেজসের ইঞ্জিন সরবরাহে আমেরিকার গড়িমসির কারণে প্রোজেক্টের বিলম্ব ঘটায়। এই পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়িয়েছে ফ্রান্স। ফরাসি সংস্থা সাফরাঁ ভারতকে তাদের মাটিতে জেট ইঞ্জিন তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে, যা বিশেষজ্ঞদের মতে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এক ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করতে পারে।
ভারতের সঙ্গে জেট ইঞ্জিনের পরীক্ষা চালাতে ফ্রান্স (Fifth Generation Jet)
সাফরাঁ ইতিমধ্যেই দাসোঁ অ্যাভিয়েশনের তৈরি চার প্রজন্মের রাফালে জেটের ইঞ্জিন সরবরাহ করে আসছে (Fifth Generation Jet)। ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)র সঙ্গে যৌথভাবে ১২০ কিলোনিউটন ক্ষমতা সম্পন্ন জেট ইঞ্জিনের নকশা, উৎপাদন ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালাতে ফ্রান্স আগ্রহী। ডিআরডিওর (DRDO) এক কর্তা জানিয়েছেন, দুইপক্ষের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা চলছে এবং চূড়ান্ত অনুমোদন মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি দেবে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের খরচ আনুমানিক ৭০০ কোটি ডলার হতে পারে। যৌথ উদ্যোগে কাজ করলে জেট ইঞ্জিনের ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনের লাইসেন্স ভারতের হাতে থাকবে। ডিআরডিওর মতে, এটি দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভারতীয় হেলিকপ্টার নির্মাণেও সাফরাঁর ইঞ্জিন (Fifth Generation Jet)
বর্তমানে ভারতীয় হেলিকপ্টার নির্মাণেও সাফরাঁর ইঞ্জিন ব্যবহৃত হচ্ছে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড বা হ্যালের মাধ্যমে (Fifth Generation Jet)। ফরাসি যৌথ উদ্যোগে পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ জেট ইঞ্জিন তৈরিতে দেশীয় প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নত হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে ঘরের মাটিতে জেট ইঞ্জিন তৈরির আহ্বান জানিয়ে এর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রযুক্তিগতভাবে জেট ইঞ্জিন তৈরির কাজ অত্যন্ত জটিল। যুদ্ধবিমান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় ওড়ার সময় ইঞ্জিনকে দুই হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় জ্বালানি পুড়িয়ে শক্তি উৎপন্ন করতে হয়। যুদ্ধের সময় গতি পরিবর্তন, ডগ ফাইট এবং আকাশ থেকে মাটিতে নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ক্ষেত্রে ইঞ্জিনের নির্ভরযোগ্যতা অপরিহার্য।

আরও পড়ুন : INS Himgiri And Udaygiri : ভারতীয় নৌ-সেনায় যুক্ত হল আইএনএস উদয়গিরি এবং আইএনএস হিমগিরি
সাফরাঁর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ইঞ্জিন তৈরি (Fifth Generation Jet)
তেজস মার্ক ১-এর জন্য হ্যালের সঙ্গে জেনারেল ইলেকট্রিক চুক্তি করেছে, কিন্তু চার বছর পেরিয়ে গেলেও সরবরাহ সম্পূর্ণ হয়নি (Fifth Generation Jet)। মার্কিন সংস্থা প্রযুক্তির ৮০ শতাংশ সরবরাহে রাজি থাকলেও শুল্কযুদ্ধের কারণে তা বিলম্বিত হচ্ছে।
ফরাসি সাফরাঁর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ইঞ্জিন তৈরি করতে সাত থেকে আট বছর লাগতে পারে। সব ঠিক থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতীয় বিমানবাহিনী সাত স্কোয়াড্রন অ্যামকা পাবে, যার মধ্যে অন্তত ১২৬টি বিমান দেশের মাটিতে তৈরি হবে।

আরও পড়ুন : Kargil Warzone : কার্গিলের হিমশীতল পরিবেশে কীভাবে থাকে ভারতীয় সেনা?
এসইউ-৫৭ ফেলনও আমদানির পরিকল্পনা (Fifth Generation Jet)
এ ছাড়া রাশিয়ার এসইউ-৫৭ ফেলনও আমদানির পরিকল্পনায় আছে। প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে মস্কোর সহযোগিতা সম্ভাব্য (Fifth Generation Jet)। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফরাসি সাফরাঁ সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পঞ্চম প্রজন্মের লড়াকু জেট ইঞ্জিন তৈরি করা ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।ফলে, মার্কিন গড়িমসির মধ্যে নয়াদিল্লির এই উদ্যোগ কেবল দেশের প্রযুক্তিগত ক্ষমতা বাড়াবে না, দেশের স্বকীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকেও আরও মজবুত করবে।


