Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মহাকাশের অন্ধকারে লুকিয়ে (Frozen Super Earth) থাকা আর এক বিস্ময়ের খোঁজ পেলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। পৃথিবী থেকে ১৫০ আলোকবর্ষেরও কম দূরে আবিষ্কৃত হয়েছে এক নতুন গ্রহ-নাম রাখা হয়েছে এইচডি-১৩৭০১০ বি। প্রথম নজরে এটি বরফশীতল, প্রায় জমাট বাঁধা এক জগৎ। কিন্তু তার বৈশিষ্ট্য খুঁটিয়ে দেখেই চমকে উঠেছেন গবেষকেরা। অনেক দিক থেকেই এই গ্রহের সঙ্গে মিল রয়েছে আমাদের পৃথিবীর।
গ্রহ প্রদক্ষিণ (Frozen Super Earth)
গ্রহটি প্রদক্ষিণ করছে একটি বামন (Frozen Super Earth) নক্ষত্রকে, যার ভর সূর্যের প্রায় ৭০ শতাংশ। আশ্চর্যের বিষয়, ওই নক্ষত্রকে একবার ঘুরে আসতে এই গ্রহের সময় লাগে ৩৫৫ দিন-পৃথিবীর বছরের প্রায় সমান। কক্ষপথের গঠনও অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ। বিজ্ঞানীদের ধারণা, নক্ষত্র থেকে এমন দূরত্বেই রয়েছে গ্রহটি, যেখানে তাত্ত্বিকভাবে বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি হতে পারে। সম্ভাবনার পরিমাণ প্রায় ৫১ শতাংশ বলে অনুমান।

গ্রহটির তাপমাত্রা (Frozen Super Earth)
তবে আপাতত গ্রহটির তাপমাত্রা অত্যন্ত কম-হিমাঙ্কের ৬৮ থেকে ৮৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস নীচে। অর্থাৎ, মঙ্গলগ্রহের চেয়েও বেশি ঠান্ডা। ফলে বর্তমানে তরল জলের অস্তিত্ব নিশ্চিত নয়। কিন্তু উপযুক্ত বায়ুমণ্ডল-বিশেষত কার্বন ডাই অক্সাইডের উপস্থিতি-থাকলে ভবিষ্যতে জল তরল অবস্থায় থাকতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পৃথিবীর ইতিহাসে যেমন ‘স্নোবল আর্থ’ পর্যায় ছিল, তেমন কোনও বরফযুগ এই গ্রহেও চলছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: Bangladesh Vote Result: পদ্মাপাড়ে পালাবদল, তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা মোদির
‘ট্রানজিট পদ্ধতি’
নাসার কেপলার স্পেস টেলিস্কোপের মাধ্যমে ‘ট্রানজিট পদ্ধতি’ ব্যবহার করে গ্রহটির অস্তিত্ব ধরা পড়ে। দূরবর্তী নক্ষত্রের আলো সাময়িকভাবে ম্লান হয়ে যাওয়ার ঘটনাই ইঙ্গিত দেয় গ্রহের উপস্থিতির। এখনও পর্যন্ত একবারই এই ট্রানজিট পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে, তাই আরও তথ্য সংগ্রহ জরুরি। যদি ভবিষ্যৎ গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে এই গ্রহে প্রাণধারণের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে, তবে তা হবে মহাকাশবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়।


