Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও ভারতে জ্বালানি ঘাটতির আশঙ্কা নেই বলে আশ্বস্ত করেছে কেন্দ্রীয় সরকার(Fuel Stock)। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্মসচিব (মার্কেটিং ও অয়েল রিফাইনারি) সুজাতা শর্মা জানান, দেশে পেট্রোল-ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং রিফাইনারিগুলি পূর্ণ ক্ষমতায় চলছে। তাই আতঙ্কিত হয়ে জ্বালানি কেনার কোনও প্রয়োজন নেই।
পর্যাপ্ত মজুত জোগান (Fuel Stock)
সুজাতা শর্মা বলেন, ভারতের মোট তেল শোধন ক্ষমতা ২৫৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন। পেট্রোল ও ডিজেলের উৎপাদনে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ, ফলে এই জ্বালানি আমদানির প্রয়োজন হয় না। বর্তমানে দেশের সব রিফাইনারিই ১০০ শতাংশ বা তারও বেশি ক্ষমতায় কাজ করছে এবং কাঁচা তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত সরবরাহ বজায় রাখা হচ্ছে।
জ্বালানিতে কাটছাঁট হয়নি
তিনি আরও জানান, গৃহস্থালির জন্য পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস (PNG) এবং যানবাহনের জন্য কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (CNG) সরবরাহেও কোনও ধরনের বিঘ্ন বা কাটছাঁট হয়নি। ফলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই।
সম্পূর্ণ গ্যাস শেষের ঘটনা ঘটেনি
তবে এলপিজি বা রান্নার গ্যাস নিয়ে কিছুটা উদ্বেগের কথা স্বীকার করেছেন তিনি। শর্মা জানান, পরিস্থিতি সত্ত্বেও দেশের ২৫ হাজার ডিস্ট্রিবিউটরের কোথাও ‘ড্রাই-আউট’ বা সম্পূর্ণ গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। ৫ মার্চ থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ এলপিজি উৎপাদন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
গ্যাস বুকিং অনেক বেড়েছে
তিনি বলেন, যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় বর্তমানে গ্যাস বুকিং অনেক বেড়েছে। আগে যেখানে দৈনিক গড় বুকিং ছিল প্রায় ৫৫.৭ লক্ষ, এখন তা বেড়ে ৭৫.৭ লক্ষে পৌঁছেছে, যা আতঙ্কের কারণে অতিরিক্ত বুকিংয়ের ইঙ্গিত দেয়।
কয়লা সরবরাহের নির্দেশ (Fuel Stock)
কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলিকে জেলাভিত্তিক নির্দিষ্ট জায়গায় কেরোসিন বিতরণের ব্যবস্থাও করতে বলেছে। অতিরিক্ত ৪৮ হাজার কিলোলিটার কেরোসিন সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের জন্য কোল ইন্ডিয়াকে ছোট ও মাঝারি গ্রাহকদের কাছে কয়লা সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: Academy Awards: অস্কার পুরস্কারের দাম কত? জানলে অবাক হবেন!
হরমুজ প্রণালী সমস্যা (Fuel Stock)
যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার পর ইরানের পাল্টা আঘাতে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবাহিত হয়। ভারতের প্রায় ৮৮ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে হয়, যার বড় অংশই এই পথ দিয়ে আসে।



