Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে (G 20 Summit) দিয়েছেন, তিনি এ বার দক্ষিণ আফ্রিকায় আয়োজিত জি২০ সম্মেলনে অংশ নেবেন না। বুধবার মায়ামিতে এক আলোচনাসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “দক্ষিণ আফ্রিকায় জি২০ সম্মেলন রয়েছে। আমি সেখানে যাচ্ছি না। ওখানে যা ঘটেছে, তা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। দক্ষিণ আফ্রিকার আর জি২০ গোষ্ঠীতে থাকারই কথা নয়।” তাঁর এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে দায়িত্বে দক্ষিণ আফ্রিকা (G 20 Summit)
জি২০ গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব প্রতি বছর পরিবর্তিত হয়, এবং বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছে (G 20 Summit) দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে তারা এই দায়িত্ব পালন করছে। সেই নিয়মেই আগামী ২২ ও ২৩ নভেম্বর জোহান্সবার্গে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এই বছরের জি২০ শীর্ষ সম্মেলন-যা আফ্রিকা মহাদেশে প্রথমবারের মতো এমন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। কিন্তু ট্রাম্পের এই ঘোষণায় আমেরিকার উপস্থিতি নিয়ে এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিতর্ক বহুবার প্রকাশ্যে (G 20 Summit)
যদিও ট্রাম্প তাঁর বক্তৃতায় স্পষ্ট করে জানাননি, দক্ষিণ আফ্রিকার (G 20 Summit) বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষোভের কারণ ঠিক কী, তবে সাম্প্রতিক অতীতে তাঁর অবস্থান নিয়ে বিতর্ক বহুবার প্রকাশ্যে এসেছে। তিনি দাবি করেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের উপর নির্যাতন চলছে, তাঁদের জমি জবরদখল করা হচ্ছে, এমনকি হত্যার ঘটনাও ঘটছে। যদিও এসব অভিযোগের কোনও প্রমাণ মেলেনি। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে এসব দাবি বারবার ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হয়েছে।
শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক
ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদ থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকার নীতি ও কৃষিজমি সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর আপত্তি ছিল। তাঁর মতে, এই সংস্কার নীতি শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর তিনি আবারও এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন। মে মাসে ওয়াশিংটনে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামফোসার সঙ্গে বৈঠকেও ট্রাম্প এই বিষয়টি উত্থাপন করেন। জানা গেছে, আলোচনার সময় তিনি রামফোসার সামনে একটি সংবাদ প্রতিবেদন দেখিয়ে দাবি করেছিলেন যে দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের কবর দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পরে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের ‘ফ্যাক্ট চেক’ বিভাগ জানায়, সেই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবিটি আসলে দক্ষিণ আফ্রিকার নয়, কঙ্গোর একটি পুরনো ঘটনার ছবি।
আরও পড়ুন: 6 November Horoscope: বিশাখা নক্ষত্রের প্রভাবে ভাগ্য খুলবে কাদের?
ট্রাম্পের বক্তব্যে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে দেশটির কূটনৈতিক মহলে এই মন্তব্যকে “অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন” বলা হচ্ছে। তাদের মতে, ট্রাম্প রাজনৈতিক লাভের জন্যই বিষয়টি তুলে ধরছেন এবং এতে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ আফ্রিকা সম্পর্কের ক্ষতি হতে পারে।


