Last Updated on [modified_date_only] by Suparna Ghosh
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলার অভিবাসী শ্রমিকদের(Migrant Worker)ক্রমবর্ধমান হয়রানি ও অনিশ্চয়তার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে আট পাতার সুপারিশপত্র পাঠালেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। সূত্রের খবর, এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও পাঠানো হয়েছে। রাজ্যপালের দপ্তরের তরফ থেকে বলা হয়েছে, অভিবাসী শ্রমিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশের সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
মমতার ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্পের পরেই রাজ্যপালের উদ্যোগ(Migrant Worker)
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলার শ্রমিকদের(Migrant Worker)উপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে ‘শ্রমশ্রী’ নামে একটি পুনর্বাসন প্রকল্প ঘোষণা করেন। এর পরদিনই রাজ্যপালের পক্ষ থেকে কেন্দ্রকে বিস্তারিত সুপারিশপত্র পাঠানো হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপ শ্রমিক-সুরক্ষায় কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গঠনে সহায়ক হতে পারে।
সুপারিশপত্রের মূল প্রস্তাবসমূহ(Migrant Worker)
রাজভবন সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যপালের পাঠানো প্রতিবেদনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:
ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন পোর্টাল: বাংলার সমস্ত অভিবাসী শ্রমিকদের একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল পোর্টালে নথিভুক্ত করার প্রস্তাব, যা আধার কার্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
বিশেষ ডিজিটাল আইডি কার্ড: প্রত্যেক শ্রমিককে একটি নির্দিষ্ট ডিজিটাল পরিচয়পত্র প্রদান করা, যাতে তারা দেশের যেকোনো প্রান্তে সরকারি সহায়তা পেতে পারেন।
সুরক্ষিত বাসস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থা: কম ভাড়ার বাসস্থান, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সরাসরি শ্রম দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধা দেওয়া।
গন্তব্য রাজ্যগুলির সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি (MoU): কেরল, কর্নাটক, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও দিল্লির সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি, নিরাপত্তা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার নিশ্চয়তা প্রদান।
প্রধান শহরে লেবার ওয়েলফেয়ার অফিসার নিয়োগ: কোচি, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, মুম্বই, আহমেদাবাদ ও দিল্লিতে বিশেষ আধিকারিক নিয়োগের প্রস্তাব।
আরও পড়ুন: Weather Update: আকাশ কালো মেঘে ঢাকা, আরও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা!
সুলভ মূল্যের আবাসন: শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকায় হোস্টেল বা আবাসন নির্মাণ।
‘One Citizen One Ration Card’ ব্যবস্থা: যাতে শ্রমিকরা দেশের যেকোনো জায়গায় সরকারি রেশন সুবিধা পান।
২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন: মজুরি বঞ্চনা, নিগ্রহ বা জরুরি পরিস্থিতিতে সাহায্য পাওয়ার জন্য একটি কেন্দ্রীয় হেল্পলাইন চালু।
গৃহকর্মী মহিলাদের জন্য নজরদারি: বাংলার গৃহকর্মী মহিলাদের উপর শোষণ ঠেকাতে নিয়োগকারী সংস্থাগুলির উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ।
আরও পড়ুন: Kolkata Metro New Route: শহরজুড়ে তিনটি নতুন মেট্রো রুট, এক টিকিটে হাওড়া থেকে বিমানবন্দর!
‘শ্রমিকদের সামাজিক ন্যায় নিশ্চিত হবে'(Migrant Worker)
রাজ্যপালের মতে, এই সুপারিশগুলি দ্রুত কার্যকর হলে বাংলার লক্ষ লক্ষ অভিবাসী শ্রমিকের(Migrant Worker)জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে। তিনি বলেন, “এই পদক্ষেপগুলি শুধু অর্থনৈতিক সুরক্ষাই নয়, সামাজিক ন্যায়বিচারও নিশ্চিত করবে।” এই উদ্যোগে কেন্দ্র কী প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটাই এখন দেখার।


