Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রায় দুই দশকের প্রতীক্ষার পর অবশেষে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে গেল কায়রোতে (Grand Egyptian Museum)। প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে নির্মিত এই জাদুঘরটি এখন মিশরের গৌরবের প্রতীক। এখানে দর্শকরা এক ছাদের নীচে দেখতে পাবেন রাজা তুতানখামেনের সমাধি থেকে উদ্ধার করা ৫,০০০-রও বেশি নিদর্শন, যা ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো একত্রে প্রদর্শিত হচ্ছে।

রহস্যে মোড়া এক ফারাও (Grand Egyptian Museum)
খ্রিষ্টপূর্ব ১৩৩২ থেকে ১৩২৩ অব্দের মধ্যে শাসন করেছিলেন রাজা তুতানখামেন, যিনি “বালক ফারাও” নামেই বেশি পরিচিত। অল্প বয়সে সিংহাসনে আরোহন এবং মাত্র উনিশ বছর বয়সে মৃত্যু এই সংক্ষিপ্ত জীবনের মধ্যেই তিনি হয়ে ওঠেন কিংবদন্তির অংশ। ১৯২২ সালে ব্রিটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক হাওয়ার্ড কার্টার তাঁর সমাধি আবিষ্কার করেন এক ঐতিহাসিক ঘটনা যা প্রত্নতত্ত্বের ইতিহাস চিরতরে বদলে দেয়।
ফারাও-এর অভিশাপ (Grand Egyptian Museum)
তুতানখামেনের সমাধি খোলার কিছুদিন পরই শুরু হয় ভয়ংকর কাহিনির সূত্রপাত। ১৯২৩ সালে লর্ড কার্নারভন, যিনি এই অভিযানের অর্থদাতা ছিলেন, এক অদ্ভুত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। সেই সময় সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে “ফারাও-এর অভিশাপ”-এর গল্প যে কেউ ফারাও-এর ঘুম ভাঙাবে, তার পরিণতি নাকি মৃত্যু। বলা হয়, কার্নারভনের মৃত্যুর সময় কায়রোর সমস্ত বাতি হঠাৎ নিভে গিয়েছিল, আবার লন্ডনে তাঁর প্রিয় কুকুরটিও একই মুহূর্তে মারা যায়। কাকতালীয় ঘটনা হলেও এইসবই আরও রহস্য ঘনীভূত করে তোলে।
মিশরের গর্ব (Grand Egyptian Museum)
গিজার পিরামিডের পাশেই অবস্থিত এই বিশাল জাদুঘরটি আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রাচীন ঐতিহ্যের অনন্য সংমিশ্রণ। কাচের দেয়ালের মধ্য দিয়ে দূর থেকে দেখা যায় মহান পিরামিড, আর ভিতরে সাজানো রয়েছে প্রাচীন মিশরের সমৃদ্ধ সভ্যতার নিদর্শন মূর্তি, গহনা, রথ, দেবমূর্তি ও দেয়ালচিত্র। সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ নিঃসন্দেহে তুতানখামেন গ্যালারি, যেখানে তাঁর বিখ্যাত সোনার মুখোশ থেকে শুরু করে ব্যবহার্য সামগ্রী পর্যন্ত সবকিছুই প্রদর্শিত।
আরও পড়ুন: Kolkata Metro: ভরদুপুরে বন্ধ মেট্রো পরিষেবা, ফের ভোগান্তি যাত্রীদের!
ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের সংলগ্ন রহস্য
তুতানখামেনের সমাধি আবিষ্কার কেবল এক প্রত্নতাত্ত্বিক সাফল্য নয়, এটি মানুষের অজানাকে জানার তীব্র আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। “ফারাও-এর অভিশাপ” হয়তো বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যায় নিছক কল্পকাহিনি, কিন্তু মানুষের মনে আজও তার ভয়াল প্রতিধ্বনি বেজে ওঠে। এই নতুন জাদুঘর সেই প্রাচীন কাহিনির নতুন মঞ্চ যেখানে ইতিহাস, কিংবদন্তি আর রহস্য একাকার হয়ে গেছে মিশরের বালির নিচে ঘুমিয়ে থাকা সভ্যতার সঙ্গে।



