Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এমন এক দূরবর্তী গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন (Habitable zone), যা তাদের মতে জীবনের উপযোগী পরিবেশে অবস্থান করছে। গ্রহটির নাম GJ 251 c, এবং এটি পৃথিবী থেকে মাত্র ২০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এই গ্রহটি সম্ভবত পাথুরে প্রকৃতির এবং পৃথিবীর তুলনায় প্রায় চার গুণ ভারী।

‘হ্যাবিটেবল জোন’-এর গ্রহ (Habitable zone)
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, GJ 251 c তার নিজস্ব নক্ষত্রের ‘বাসযোগ্য অঞ্চল’ বা ‘হ্যাবিটেবল জোন’-এ ঘুরছে। এটি এমন এক দূরত্বের পরিসীমা, যেখানে গ্রহের পৃষ্ঠে তরল জল থাকার সম্ভাবনা থাকে যা জীবনের অস্তিত্বের অন্যতম প্রধান শর্ত। এই অঞ্চলের আরেক নাম ‘গোল্ডিলক্স জোন’, কারণ এটি না খুব গরম, না খুব ঠান্ডা বরং জীবনের জন্য একদম ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে।
দীর্ঘ দুই দশকের গবেষণা (Habitable zone)
এই আবিষ্কার কোনো হঠাৎ পাওয়া তথ্য নয়। প্রায় ২০ বছর ধরে চলা সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের ফলাফল এটি। আন্তর্জাতিক গবেষক দলটি যার মধ্যে পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি-র বিজ্ঞানীরাও রয়েছেন বিভিন্ন মানমন্দিরের তথ্য ও উচ্চ-নির্ভুল স্পেকট্রাল ডেটা একত্রিত করে এই গ্রহটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছেন।
গবেষক সুভ্রথ মহাদেবনের বক্তব্য (Habitable zone)
পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী সুভ্রথ মহাদেবন, যিনি এই গবেষণার অন্যতম সহ-লেখক, বলেছেন, “আমরা এমন গ্রহ খুঁজি, যা জীবনের অস্তিত্ব খোঁজার সর্বোত্তম সম্ভাবনা রাখে। GJ 251 c ঠিক সেই ধরণের একটি পাথুরে গ্রহ, যা তার নক্ষত্র থেকে এমন দূরত্বে ঘুরছে যেখানে তরল জল থাকা সম্ভব।” তিনি আরও যোগ করেন, “গ্রহটির যদি উপযুক্ত বায়ুমণ্ডল থাকে, তবে এর পৃষ্ঠে জীবনের উপযোগী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।”
কীভাবে শনাক্ত করা হল GJ 251 c (Habitable zone)
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে GJ 251 নক্ষত্রের ক্ষুদ্র নড়াচড়া লক্ষ্য করছিলেন। এই নড়াচড়া তৈরি হয় গ্রহের মাধ্যাকর্ষণ টান থেকে যাকে বলা হয় ‘ডপলার শিফট’। প্রথমে তাঁরা একটি ভেতরের গ্রহ GJ 251 b শনাক্ত করেন, যা মাত্র ১৪ দিনে একবার নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে। পরে আরও নিখুঁত ডেটা বিশ্লেষণ করে তাঁরা ৫৪ দিনের একটি নতুন সংকেত পান, যা তুলনামূলকভাবে বৃহৎ ও দূরের একটি গ্রহ নির্দেশ করে। সেটিই GJ 251 c।
‘হ্যাবিটেবল জোন প্ল্যানেট ফাইন্ডার’ প্রকল্পের সাফল্য (Habitable zone)
সুভ্রথ মহাদেবনের নেতৃত্বাধীন দলটি এই গবেষণার জন্য ব্যবহার করেছে এক বিশেষ যন্ত্র ‘Habitable Zone Planet Finder’ (HZPF)। নাম থেকেই বোঝা যায়, এর উদ্দেশ্য হল এমন গ্রহ খোঁজা, যেখানে তরল জল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই আবিষ্কার সেই প্রকল্পের অন্যতম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বহু যন্ত্রে যাচাইয়ের পর নিশ্চিত ফলাফল (Habitable zone)
গবেষণা দলটি শুধুমাত্র এক যন্ত্রের উপর নির্ভর করেনি। তারা আরও একটি উচ্চ-নির্ভুল স্পেকট্রোগ্রাফ ব্যবহার করে স্বাধীনভাবে ৫৪ দিনের সংকেতটি যাচাই করে। একাধিক মানমন্দির থেকে পাওয়া এই মিলিত প্রমাণ নিশ্চিত করে যে, GJ 251 c একটি “সুপার আর্থ” অর্থাৎ পাথুরে ও তুলনামূলকভাবে বৃহৎ গ্রহ, যার তাপমাত্রা জীবনের সহনীয় সীমার মধ্যে।
আরও পড়ুন: Artificial Intelligence Job: ফ্রেশারদের জন্য কি ফের খুলছে আইটি সংস্থার দরজা?
জীবনের চিহ্ন খোঁজার পরবর্তী পদক্ষেপ
বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে নতুন প্রজন্মের জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ ও আরও উন্নত পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির মাধ্যমে এই গ্রহের বায়ুমণ্ডল পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।যদি সেখানে অক্সিজেন, মিথেন বা কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো গ্যাস শনাক্ত করা যায়, তবে তা হবে পৃথিবীর বাইরে জীবনের সম্ভাবনা সংক্রান্ত মানবজাতির প্রথম প্রত্যক্ষ প্রমাণ।



