Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
বিশেষ প্রতিবেদন: ত্রয়ণ চক্রবর্ত্তী কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সাম্প্রতিক সময়ে সিপিআই(এম)-এর এক নেতার দলবদলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে (Hannan Mollah)। এ বিষয়ে প্রাক্তন সাংসদ ও কৃষক আন্দোলনের বর্ষীয়ান নেতা হান্নান মোল্লা স্পষ্ট ভাষায় নিজের মত প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে দলবদলের রাজনৈতিক বাস্তবতা, ব্যক্তিগত বিচ্যুতি এবং বামপন্থী আদর্শের প্রশ্ন।
ভারতীয় রাজনীতিতে ‘আয়ারাম গয়ারাম’ (Hannan Mollah)
হান্নান মোল্লার মতে, ভারতবর্ষের রাজনীতিতে দলবদল নতুন কিছু নয়। তিনি বলেন, “আয়ারাম গয়ারাম” সংস্কৃতি বিশেষত বুর্জোয়া দলগুলির মধ্যে খুবই সাধারণ বিষয়। সেখানে আদর্শের চেয়ে সুযোগসন্ধানী রাজনীতিই বেশি প্রাধান্য পায়। সকাল-বিকাল দল পরিবর্তনের ঘটনা ঘটে, যা রাজনৈতিক নৈতিকতার অবক্ষয়ের লক্ষণ। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন যে, বামপন্থী দলগুলিও এই প্রবণতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত নয়। কিন্তু বামদলে দলবদলকে তিনি ব্যক্তিগত বিচ্যুতি হিসেবে দেখেন, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা হিসেবে নয়।
বিচ্যুতির দায় কার? (Hannan Mollah)
প্রতীকুর রহমানের দলবদল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনও ব্যক্তির ‘ডেভিয়েশন’ বা বিচ্যুতি হতে পারে। “সব মানুষ ফেরেশতা নয়,”—এই মন্তব্যে তিনি মানবিক দুর্বলতার দিকটি তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, হাজার মানুষের মধ্যে এক-দু’জন ‘কুলাঙ্গার’ বেরিয়ে যেতেই পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্যক্তিগত লোভ, আত্মসমর্পণ বা অন্য স্বার্থসিদ্ধির কারণেই এই বিচ্যুতি ঘটে। এর সঙ্গে পার্টির আদর্শ, সততা বা রাজনৈতিক লাইনকে এক করে দেখা উচিত নয়। পার্টির ভুল থাকলে তা সমষ্টিগতভাবে আলোচনার মাধ্যমে সংশোধন করা হয়, কিন্তু ব্যক্তিগত বিশ্বাসঘাতকতা আলাদা বিষয়।
‘পচা আলু’র উপমা: সংগঠন রক্ষার যুক্তি (Hannan Mollah)
এর আগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলত্যাগের সময় তিনি যে উপমা ব্যবহার করেছিলেন, সেটিই আবার স্মরণ করিয়ে দেন। তাঁর মতে, “আলুর বস্তায় একটি পচা আলু থাকলে সেটি ফেলে না দিলে গোটা বস্তা পচে যাবে।” এই উপমার মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, সংগঠনের ভিত রক্ষার স্বার্থে কখনও কখনও কিছু মানুষ সরে যাওয়াই ভালো। তাতে সংগঠনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির সম্ভাবনা কমে।

কমিউনিস্ট কর্মী গড়ার দীর্ঘ প্রক্রিয়া (Hannan Mollah)
হান্নান মোল্লা স্পষ্টভাবে বলেন, একটি কমিউনিস্ট কর্মী তৈরি করতে বহু বছর সময় লাগে। আদর্শচর্চা, রাজনৈতিক শিক্ষা, সততার চর্চা সব মিলিয়ে একটি দীর্ঘ সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে একজন কর্মী গড়ে ওঠেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে কমিউনিস্ট হওয়ার প্রথম শর্তই হল সততা। এই সততাকে ‘কাল্টিভেট’ করার চেষ্টা পার্টি করে। তাই কেউ দল ছেড়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই দুঃখ হয়, কারণ বহু বছরের শ্রম ব্যর্থ হয়।
মতভেদ বনাম বিশ্বাসঘাতকতা (Hannan Mollah)
তিনি মতভেদ ও দলত্যাগের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য টানেন। পার্টির ভিতরে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, সমালোচনা করেন, চিঠি লেখেন, এগুলো গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ। মতভেদ থাকা সত্ত্বেও তাঁরা পার্টিতে থাকেন এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজেন। কিন্তু দলবদলকে তিনি দেখছেন সচেতন আত্মসমর্পণ হিসেবে, যেখানে ব্যক্তি আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র চলছিল এবং পার্টি কর্মীকে ধরে রাখার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে।
আরও পড়ুন: Sundar Pichai: এআই দুনিয়ায় নেতৃত্ব দেবে ভারত? অল্টম্যানের পর পিচাইয়ের বড় বার্তা!
দুঃখ আছে, কিন্তু হতাশা নয়
হান্নান মোল্লা স্বীকার করেন, একজন কর্মী তৈরি করতে বিশ-ত্রিশ বছর লাগে, তাই তাঁর চলে যাওয়া বেদনাদায়ক। কিন্তু এই ঘটনায় তিনি কোনও হতাশা বা নিরাশার কারণ দেখেন না। বরং তাঁর দাবি, “এই ধরনের লোক পার্টির বাইরে গেলে পার্টির লাভই হবে।” অর্থাৎ, সংগঠনের আদর্শিক শুদ্ধতা বজায় রাখতে এমন বিচ্যুতি কখনও কখনও উপকারীও হতে পারে, এমনটাই তাঁর রাজনৈতিক দর্শন।



