Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে অবস্থিত হর কি পৌরি ঘাট (Haridwar) মানেই ধর্ম, বিশ্বাস আর ঐতিহ্যের এক আবেগঘন মিলনস্থল। গঙ্গার তীরে এই ঐতিহাসিক ঘাটে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়। শুধু তীর্থযাত্রী নন, দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটকও এখানে আসেন গঙ্গা আরতি দেখার জন্য। কিন্তু সম্প্রতি এই জনপ্রিয় ধর্মীয় স্থান ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। হর কি পৌরিতে একাধিক জায়গায় ‘অ-হিন্দুদের প্রবেশ নিষেধ’ লেখা সাইনবোর্ড দেখা যাওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে, কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত?
হর কি পৌরি (Haridwar)
হর কি পৌরির নামের মধ্যেই রয়েছে এর (Haridwar) মাহাত্ম্য। ‘হর’ অর্থ ভগবান বিষ্ণু বা শিব, আর ‘পৌরি’ অর্থ সিঁড়ি। লোককথা অনুযায়ী, এই ঘাট তৈরি করেছিলেন রাজা বিক্রমাদিত্য, তাঁর ভাই ভর্তৃহরির স্মৃতিতে। বিশ্বাস করা হয়, এখানকার ব্রহ্মকুণ্ডেই অমৃতের ফোঁটা পড়েছিল, যা অমরত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। প্রতিদিন সন্ধ্যায় এখানে যে গঙ্গা আরতি অনুষ্ঠিত হয়, তা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। কুম্ভ মেলা, অর্ধ কুম্ভ ও বৈশাখীর মতো বৃহৎ ধর্মীয় আয়োজনও এই ঘাটকেন্দ্রিক।

শুধুমাত্র হিন্দুদের জন্য নির্দিষ্ট (Haridwar)
যদিও হর কি পৌরি মূলত হিন্দু ধর্মের সঙ্গে (Haridwar) অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত, তবু দীর্ঘদিন ধরেই এখানে অন্য ধর্মের মানুষের উপস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে সকলের জন্যই এই স্থান ছিল উন্মুক্ত। তবে সম্প্রতি কিছু সংগঠন ও গোষ্ঠীর তরফে দাবি উঠছিল, কুম্ভ এলাকা এবং হর কি পৌরিকে শুধুমাত্র হিন্দুদের জন্য নির্দিষ্ট করা হোক। প্রশাসনের তরফে কোনও নতুন ঘোষণা না হলেও শুক্রবার হঠাৎই ঘাট ও সংলগ্ন এলাকায় সাইনবোর্ড লাগানো হয়।
‘গঙ্গা সভা’ সাইনবোর্ডগুলি বসিয়েছে
খবর অনুযায়ী, হর কি পৌরি ও আশপাশের ঘাটগুলির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সংগঠন ‘গঙ্গা সভা’ এই সাইনবোর্ডগুলি বসিয়েছে। সেতুর রেলিং, স্তম্ভ ও প্রবেশপথে লাগানো হয়েছে বোর্ড, যেখানে লেখা রয়েছে-অ-হিন্দুদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। যদিও উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ১৯১৬ সালের হরিদ্বার পৌরি আইন অনুসারে এই এলাকার প্রধান স্নানঘাটে অ-হিন্দুদের প্রবেশ আগে থেকেই সীমাবদ্ধ।

ভাইরাল ভিডিও
এই সিদ্ধান্তের পেছনে একটি ভাইরাল ভিডিওর কথাও উঠে এসেছে। কয়েক দিন আগে সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি ভিডিও, যেখানে আরবি পোশাক পরা দু’জন যুবককে হর কি পৌরিতে ঘুরতে দেখা যায়। প্রথমে দাবি করা হয়, তাঁরা অন্য ধর্মের। পরে জানা যায়, ওই দুই যুবক আসলে হিন্দু এবং ইউটিউবের জন্য ভিডিও বানাচ্ছিলেন। তবুও সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়।
আরও পড়ুন: PM Narendra Modi: বঙ্গ সফরে মোদি, কোন কোন ট্রেনের উদ্বোধন আজ?
গঙ্গা সভার সভাপতি নীতিন গৌতম জানিয়েছেন, নতুন করে কোনও নিয়ম তৈরি করা হয়নি। পুরনো আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতেই এই সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। তবে এত বছর পর হঠাৎ এই পদক্ষেপ ঘিরে ধর্মীয় স্থান, আইন ও সামাজিক সহাবস্থানের প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।


