Last Updated on [modified_date_only] by Megha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হত্যালীলা চালানোর পর শূন্যে গুলি চালিয়ে উদযাপনে মেতেছিল জঙ্গিরা(Terrorists Fired in Air)। সম্প্রতি তদন্তকারীদের হাতে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সূত্রের খবর, এক প্রত্যক্ষ্যদর্শী এনআইএ আধিকারিকদের জানিয়েছেন, গত ২২ এপ্রিল বৈসরন উপত্যকায় ২৬ জনকে হত্যার পর টিআরএফের পাঁচ জঙ্গির মধ্যে তিন জন শূন্যে গুলি চালিয়ে চরম উল্লাসে মেতেছিল। সেই সময় মোট চার রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
নারকীয় আনন্দে মেতেছিল জঙ্গিরা (Terrorists Fired in Air)
সেদিনকার এক প্রত্যক্ষদর্শী তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-কে জানিয়েছেন, যেভাবে জঙ্গিরা তাদের উল্লাস করেছিল তা কোনওভাবে বর্ণনা করা যায় না(Terrorists Fired in Air)। সেখানে তাদের এই উল্লাস জানিয়ে দিয়েছিল তারা কতটা খুশি ছিল। সেদিনের সেই ঘটনার কথা বলতে গিয়ে এই প্রত্যক্ষদর্শীর গলা আজও কেঁপে উঠেছিল।এই হামলার পর একটি নারকীয় আনন্দে মেতেছিল জঙ্গিরা। তারা উল্লাসের প্রকাশ করেছিল আকাশে গুলি ছুঁড়ে। যেসব জঙ্গিরা এসেছিল তারা সেদিন এই হত্যালীলার পর নারকীল উল্লাস করেছিল।

পাক জঙ্গি দলের নেতৃত্ব (Terrorists Fired in Air)
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্র করেছিল পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ও লস্কর-ই-তৈবা। তবে এই হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সেনার তরফে। শুধু তাই নয়, একেবারে নিখুঁত ছকে এই জঙ্গি হামলা চালাতে বিশেষভাবে দক্ষ পাক জঙ্গিদের বেছে নেওয়া হয়েছিল। ২২ এপ্রিলের জঙ্গি হামলার পাক জঙ্গি দলটির নেতৃত্বে ছিল সুলেমান। তদন্তকারীদের অনুমান এই ব্যক্তি পাকিস্তানের স্পেশাল ফোর্সের প্রাক্তন কমান্ডো। ২০২২ সালে জম্মুতে অনুপ্রবেশের আগে এই জঙ্গি লস্করের ঘাঁটি মুরিদকেতে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। স্যাটেলাইট ফোনের লোকেশন অনুযায়ী হামলার আগে ১৫ এপ্রিল এই সুলেমন ছিল কাশ্মীরের ত্রালে। তদন্তকারীদের অনুমান হামলার এক সপ্তাহ আগে পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় ছিল এই জঙ্গি।
আরও পড়ুন-Student’s Death: ছাত্রী মৃত্যুতে তোলপাড় ওড়িশা! বিধানসভার সামনে বিক্ষোভ, চলল কাঁদানে গ্যাস-জলকামান
ধর্ম বাছাইয়ের জন্য কলমা পাঠ (Terrorists Fired in Air)
এনআইএ সূত্রে খবর, তদন্ত চলাকালীন বৈসরণের যেখানে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছিল সেখান থেকে কার্তুজের খোল উদ্ধার করা হয়েছে(Terrorists Fired in Air)। যা প্রমাণ করে প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানের সত্যতা। এএনাই জানিয়েছে, ওই প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, তাঁকে কলমা পাঠ করতে বলা হয়েছিল এবং সম্ভবত তাঁকে রেহাই দেওয়া হয়েছিল কারণ জঙ্গিরা তাঁর উচ্চারণে নিশ্চিত হয়েছিল যে সে স্থানীয় বাসিন্দা। বেঁচে যাওয়া অনেক ব্যক্তি জানিয়েছেন যে জঙ্গিরা বৈসরণে ২৬ জনকে হত্যা করার আগে ধর্ম বাছাইয়ের জন্য কলমা পাঠ করিয়েছিল।

জঙ্গিদের শনাক্ত (Terrorists Fired in Air)
তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শী এবং আশ্রয়দাতাদের সাক্ষ্য যাচাই করে জঙ্গিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন(Terrorists Fired in Air)। এএনআই জানিয়েছে, তিনজন সন্দেহভাজনের মধ্যে একজনকে হাশিম মুসা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ওই জঙ্গি পাকিস্তানের প্রাক্তন সেনাবাহিনীর নিয়মিত সদস্য। মুসাকে সোনমার্গ জেড মোধ টানেল হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। যে হামলার ফলে ছয় শ্রমিক এবং একজন চিকিৎসক নিহত হয়েছিলেন।তদন্তকারী সংস্থার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘অন্য দু’জনের পূর্ববর্তী কোনও সন্ত্রাসের রেকর্ড নেই এবং মনে করা হচ্ছে তাঁরা সম্প্রতি পহেলগাঁওয়ে আক্রমণের জন্যই ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিল।’
আরও পড়ুন-Tesla Showroom: ‘টেসলা প্রস্তুত ভারতের বর্ষার জন্য!’ মুম্বইয়ে শো-রুম উদ্বোধন হতেই মিমের ঝড়
আইএসআইয়ের ইচ্ছাকৃত কৌশল (Terrorists Fired in Air)
এএনআই আশ্রয়দাতা, পারভেজ আহমেদ এবং বশির আহমেদের কোনও পূর্ববর্তী সন্ত্রাসের রেকর্ডও খুঁজে পায়নি(Terrorists Fired in Air)। তদন্তকারীদের সন্দেহ, স্থানীয় কাশ্মীরি জঙ্গি বা পরিচিত ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কার্সদের নিয়ে একটি নতুন মডিউল তৈরি করার জন্য এটি পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের ইচ্ছাকৃত কৌশল। কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন যে এটি উচ্চস্তরের গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য করা হয়েছিল।প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হয়েছিল যে তিন থেকে পাঁচজন সন্ত্রাসী বৈসরণ উপত্যকার হামলা চালিয়েছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত, এনআইএ তিনজন লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। যাঁরা সকলেই পাকিস্তানি নাগরিক।
আধুনিক অস্ত্র নিয়ে হামলা (Terrorists Fired in Air)
গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় হামলা চালায় জঙ্গিরা(Terrorists Fired in Air)। সেই হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। ঘটনার দায় স্বীকার করেছিল লস্কর-ই-তৈবার শাখা সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফোর্স (টিআরএফ)।এই ঘটনার তদন্তে নামে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা, গোয়েন্দা বিভাগ এবং নিরাপত্তা বাহিনী। তদন্তে দেখা গিয়েছিল, বহু আগে থেকেই এই পরিকল্পনার ছক কষা হয়েছিল। হামলাকারী জঙ্গিরা আধুনিক অস্ত্র নিয়ে হামলা করেছিল। তাঁদের কাছে বিশেষ প্রশিক্ষণ ছিল। হামলার পর কোন পথে পালিয়ে যেতে হবে সেটাও তারা আগে থেকেই জানত। পরে তদন্তের দায়িত্ব নেয় এনআইএ।

‘অপারেশন সিঁদুর’ (Terrorists Fired in Air)
এই হামলার প্রতিবাদে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করে দেয় ভারত। এছাড়াও পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা কেড়ে নেওয়া হয়। জঙ্গি হামলার প্রত্যাঘাতে পাল্টা ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান চালায় ভারত। ভারতীয় সশস্ত্র সেনা পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)-এর ন’টি জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয়। সেনার তরফ থেকে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, হামলার লক্ষ্য ছিল শুধু জঙ্গি ঘাঁটিগুলিই। এই হামলায় ১০০ জন জঙ্গিকে নিকেশ করা হয়েছিল। এরপর ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির জনবহুল এলাকা এবং সেনাঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় পাকিস্তান। সেই হামলা প্রতিহত করার পাশাপাশি প্রত্যাঘাত করে ভারত। তাতেই তছনছ হয়ে গিয়েছে পাকিস্তানের অন্তত ১১টি একাধিক বায়ু সেনাঘাঁটি।শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদের আর্জিতে সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয় নয়াদিল্লি।



