Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহ বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাসে এক মর্মান্তিক ও বহুল বিতর্কিত অধ্যায় (Bangladesh)। ৭৪ জন সেনা কর্মকর্তা ও সৈন্য নিহত হওয়ার এ ঘটনা আজও জনমনে স্পষ্ট ক্ষতচিহ্নের মতো বিদ্যমান। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া, অসংখ্য তর্ক-বিতর্ক এবং রাজনৈতিক ব্যবহার সত্ত্বেও এই ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। ২০২৫ সালে সদ্যপ্রকাশিত নতুন কমিশন রিপোর্ট আবারও পুরো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে বিতর্ক, সন্দেহ এবং উত্তেজনার স্রোত বইয়ে দিয়েছে।
কেন প্রয়োজন হলো নতুন তদন্ত? (Bangladesh)
২০২৪ সালে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর বাংলাদেশে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। অন্তর্বর্তী প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস বিডিআর বিদ্রোহের উপর “সত্য অনুসন্ধান কমিশন” গঠন করেন। কারণ, পুরনো তদন্তকে সরকারপক্ষীয় বলে সমালোচনা, অসঙ্গতি ও গোপন তথ্য উন্মোচনের দাবি, রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের সুযোগে পুনর্মূল্যায়ন, এই কমিশনের প্রধান ছিলেন আলম ফজলুর রহমান, যিনি তদন্তের শেষে সবচেয়ে বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ (Bangladesh)
কমিশনের রিপোর্ট দাবি করেছে, বিডিআর বিদ্রোহ কোনো আকস্মিক বিদ্রোহ নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড; এবং এর অনুমোদন দিয়েছেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফজলে নূর তাপসকে “প্রধান সমন্বয়কারী” রিপোর্টে বলা হয়েছে, তাপস ছিলেন সরকারের অভ্যন্তরীণ ‘অপারেশন সমন্বয়ক’। তিনি হাসিনার “ইশারা ও সবুজ সংকেত” পেয়েই কাজ করেন। পরিকল্পিতভাবে বিডিআর সদর দফতরে কর্তাদের হত্যা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মিশন চালানো হয়। এই অভিযোগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঝড় তুলেছে, কারণ এত বড় বিদ্রোহে একজন প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি দায়ী করা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।
বিদেশি শক্তির ষড়যন্ত্র (Bangladesh)
রিপোর্টের আরেকটি বিস্ফোরক অংশ হল, ভারতের জড়িত থাকার অভিযোগ। কেন ভারতকে সন্দেহ করা হচ্ছে? রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনার সময় ৯২১ জন ভারতীয় বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তাঁদের মধ্যে ৬৭ জনের অবস্থান এখনো অজানা। বিদ্রোহের সময় বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে বিদেশি হস্তক্ষেপ হয়েছিল। কমিশনের ব্যাখ্যায় উল্লেখ, বিদ্রোহ ঘটিয়ে বাংলাদেশকে দুর্বল করা এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন বাড়ানো ছিল মূল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। ভারতের নীরবতা এই গুরুতর অভিযোগের বিরুদ্ধে ভারত এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ঢাকা–দিল্লির সম্পর্ক বর্তমানে এমনিতেই উত্তেজনা পূর্ণ; এই রিপোর্ট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: America: স্টকটনে পারিবারিক অনুষ্ঠানে গুলি: নিহত ৪, আহত ১৪
বিক্ষোভ, দমন-পীড়ন এবং পালিয়ে যাওয়া
২০২৪ সালে ছাত্র নেতৃত্বাধীন দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, নৃশংস দমনপীড়ন, নির্বিচারে গুলি, মানবাধিকার লঙ্ঘন,বিক্ষোভের জেরে সামরিক-বেসামরিক চাপ সৃষ্টি হলে ৫ আগস্ট সরকার পতন ঘটে। শেখ হাসিনা ভারতে চলে আসেন এবং সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড১৭ নভেম্বর, ২০২৪, তাঁর অনুপস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। অভিযোগ: ছাত্রদের উপর দমনপীড়ন, মানবতাবিরোধী অপরাধ, বাংলাদেশ সরকার তাঁকে পলাতক হিসেবে ঘোষণা করে।



