Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: টানা ৫-৬ ঘন্টার প্রবল বর্ষণে কার্যত থমকে গেছে কলকাতা(Kolkata)। শহরজুড়ে রেকর্ড ১,৪২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা(Heavy Rainfall Kolkata)। ১৯৮৬ সালের পর এত বৃষ্টি আর হয়নি। অনেকেই ১৯৭৮ সালের বন্যার সঙ্গে এর তুলনা করছেন। গঙ্গায় বান এলে নতুন করে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কাও রয়েছে।
রেল পরিষেবা কার্যত অচল (Heavy Rainfall Kolkata)
রেলের তরফে জানানো হয়েছে, হাওড়া স্টেশন ইয়ার্ড, শিয়ালদহ সাউথ ইয়ার্ড, চিৎপুক নর্থ কেবিন ও একাধিক কারশেডে জল ঢুকে পড়েছে। রেল লাইনের সঙ্গে আশপাশের জল মিশে যাওয়ায় নিষ্কাশন কার্য আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে মেট্রো পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে।
কোন এলাকায় কত বৃষ্টি(Heavy Rainfall Kolkata)
ভোর ৫টা পর্যন্ত শহরের (Heavy Rainfall Kolkata)বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের হিসাব (মিলিমিটারে):
- কামডহরি (গড়িয়া): ৩৩২
- যোধপুর পার্ক: ২৮৫
- কালিঘাট: ২৮০.২
- তপসিয়া: ২৭৫
- বালিগঞ্জ: ২৬৪
- চেতলা: ২৬২
- চিংড়িহাটা: ২৩৭
- মোমিনপুর: ২৩৪
- পামার বাজার: ২১৭
- ধাপা: ২১২
- সিপিটি ক্যানেল: ২০৯.৪
- উল্টোডাঙ্গা: ২০৭
- কুদঘাট: ২০৩.৪
- পাগলাডাঙ্গা (ট্যাংরা): ২০১
- কুলিয়া (ট্যাংরা): ১৯৬
- ঠনঠনিয়া: ১৯৫

আরও পড়ুন: Heavy Rainfall Kolkata : কলকাতায় রেকর্ড বৃষ্টি,বাতিল বহু ট্রেন,ব্য়াহত মেট্রো পরিষেবা
মুখ্যমন্ত্রীর সতর্কবার্তা
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,
“এবারের বৃষ্টি একেবারেই অস্বাভাবিক(Heavy Rainfall Kolkata)। আমি মেয়র, মুখ্য সচিব ও পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। সিইএসসি-কে বহুবার সতর্ক করা হলেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা অগ্রহণযোগ্য। স্কুল ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং অফিসযাত্রীদেরও বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, গঙ্গার জোয়ার ও ভরা কোটালের কারণে জল নামতে দেরি হচ্ছে। আবারও বান আসতে পারে। কেন্দ্রের জিএসটি টাকা কেটে নেওয়া নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মানবসেবায় এগিয়ে এল ভারত সেবাশ্রম সংঘ(Heavy Rainfall Kolkata)
জলমগ্ন পরিস্থিতির মধ্যেও রান্না করা খাবার বিতরণ শুরু করেছে ভারত সেবাশ্রম সংঘ। বালিগঞ্জের কার্যালয়ও জলে ডুবে থাকলেও, বড় হাঁড়িতে খিচুড়ি রান্না করে দুর্গত এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে(Heavy Rainfall Kolkata)। সংঘের প্রধান সম্পাদক স্বামী বিশ্বাত্মানন্দ মহারাজ বলেন,
“যতদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, ততদিন দুর্গত মানুষদের পাশে থাকব।”
অস্বাভাবিক এই বর্ষণে বিপর্যস্ত কলকাতার জীবন। রেল, মেট্রো, বিদ্যুৎ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সবই থমকে গেছে। সরকারি উদ্যোগ ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহায়তা কিছুটা স্বস্তি দিলেও, সামনে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেই আশঙ্কা।


