Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হংকং এশিয়ার অন্যতম আধুনিক, সুরক্ষিত এবং পরিকল্পিত নগর (Hong Kong)। প্রযুক্তিনির্ভর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, কড়া নির্মাণবিধি এবং উচ্চমানের নাগরিক-পরিকাঠামোর জন্য বিশ্বজোড়া পরিচিত। কিন্তু বুধবার রাতের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড যেন প্রমাণ করল যে কোনও আধুনিকতারই সীমাবদ্ধতা আছে। সাতটি বহুতল আবাসনে আগুন লেগে ১২৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু, শতাধিক আহত, এবং বহু মানুষ নিখোঁজ হওয়া শহরবাসীকে গভীর শোক ও ক্ষোভে নিমজ্জিত করেছে।

৩২ তলা ভবনে বিপজ্জনক কাজ চলছিল (Hong Kong)
তাই পো জেলার একটি ৩২ তলা আবাসনে সংস্কারের কাজ চলছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ধাতু কাটার যন্ত্র বা ঝালাইয়ের সময় আগুনের ফুলকি দূরে ছিটকে যায়। যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত।দ্রুত আগুন লেগে যায় আবাসনের বাইরের কাঠামো, তার পর এক বহুতল থেকে অন্যটিতে আগুন ঝাঁপিয়ে পড়ে। সংস্কারকাজে নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের সম্ভাবনাও তদন্তের আওতায় এসেছে।
কেন এত দ্রুত ভয়ঙ্কর রূপ নিল? (Hong Kong)
সাতটি বহুতল আবাসন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিল। যে কারণে, বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ ভেন্টিলেশন শ্যাফট দিয়ে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দাহ্য নির্মাণসামগ্রী যেমন সাউন্ডপ্রুফ বোর্ড, কাঠের পার্টিশন, প্লাস্টারবোর্ডে আগুন তীব্র হয়। যতক্ষণ বাসিন্দারা আগুন টের পান, ততক্ষণে ধোঁয়া সিঁড়ি ও করিডোর ঢেকে ফেলে। ফায়ারফাইটারদের মতে, আবাসনের নকশাতেও এমন কিছু ত্রুটি ছিল যা আগুনকে আরও বিস্তৃত হতে সাহায্য করেছে।

সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয়ের কারণ (Hong Kong)
তদন্তকারীরা আটটি ব্লকের অগ্নিসংকেত যন্ত্র পরীক্ষা করে দেখেন, অধিকাংশ অ্যালার্মই পুরোপুরি অকেজো ছিল। কিছু অ্যালার্ম আগুন লাগার সময় খুব দেরিতে সংকেত দেয়। অনেক অ্যালার্মের ব্যাটারি বা সেন্সর দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর অবস্থায় ছিল। ফল,
বেশিরভাগ মানুষ জানতেই পারেননি যে ভবনে আগুন লেগেছে। ধোঁয়া ও আগুন যখন ছড়িয়ে পড়ে, তখন বের হওয়ার জন্য আর যথেষ্ট সময় ছিল না। এটাই মৃত্যুর সংখ্যা তুলনাহীনভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।
বহুতলের ভিতরের ভয়াবহ অবস্থা (Hong Kong)
বহু মানুষ করিডোরে ও সিঁড়িতে ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন। অনেকের দেহ মিলেছে লিফটের সামনে, যেখানে তাঁরা আটকে পড়েছিলেন। কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্টে দরজা শক্ত করে বন্ধ করা অবস্থায় দেখা গেছে পরিবারের সবাইকে যারা সাহায্যের অপেক্ষায় ছিলেন কিন্তু বাঁচতে পারেননি। ধোঁয়ার বিষাক্ততা আগুনের থেকেও বেশি ভয়ঙ্কর ছিল।

জানালা ভেঙে ঢোকা হচ্ছে (Hong Kong)
হংকং দমকল বিভাগের তথ্য, এখন পর্যন্ত ১,০১৮টি আবাসিক ইউনিটে তল্লাশি চালানো হয়েছে। জানালা ভেঙে, ইস্পাত-কাটার যন্ত্র দিয়ে দেয়াল ভেদ করে উদ্ধারকাজ চলছে। উদ্ধারকাজ চলাকালীন এক দমকলকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও ফুটিয়ে তোলে। ৯০০-র বেশি বাসিন্দাকে আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। দমকল বাহিনীর সদস্যরা বলছেনএটি তাঁদের কর্মজীবনের সবচেয়ে কঠিন অভিযান।
সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘৫ নম্বর অ্যালার্ম’ (Hong Kong)
আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই ‘৪ নম্বর অ্যালার্ম’ জারি করা হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতির মোড় বদলাতে, সেটি বাড়িয়ে ৫ নম্বর অ্যালার্ম জারি করা হয়, যা সর্বোচ্চ জরুরি সতর্কতা। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ১২৮টি ফায়ার ইঞ্জিন, পাশাপাশি ৫৭টি অ্যাম্বুল্যান্স, হাজারেরও বেশি উদ্ধারকর্মী কাজ করেন একযোগে। এই আয়োজন সত্ত্বেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসতে দীর্ঘ সময় লেগেছে।

আরও পড়ুন: Donald Trump: অভিবাসন নীতি নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিলেন ট্রাম্প
মৃত ও আহতদের সরকারি সহায়তা
হংকং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষণা, মৃতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ, আহতদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয়ভার, পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ তহবিল, ক্ষতিগ্রস্ত আবাসনগুলির পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা, সরকারি তদন্ত কমিটি ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা, সংস্কারকাজের ত্রুটি এবং অ্যালার্ম ব্যর্থতার বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছে। তিরিশ বছরে এমন অগ্নিকাণ্ড নেই স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, গত ৩০ বছরে হংকংয়ে এমন শক্তিশালী অগ্নিকাণ্ড দেখা যায়নি। এটি শুধু একটি বিপর্যয় নয়; আধুনিক শহর পরিকল্পনার ব্যর্থতার কঠিন স্মারক।



