Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে (Humayun Kabir Interview)। তার আগেই জোড়াফুল শিবিরে দেখা গিয়েছে বড় ভাঙন। ভরতপুর বিধানসভার বিদায়ী বিধায়ক হুমায়ুন কবীর দল ছেড়েছেন অনেক আগেই। গড়ে তুলেছেন নিজের নিজস্ব দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি। সংখ্যালঘু জনগণের সমর্থনে বাবরি মসজিদ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন। জনগণের অভূতপূর্ব সাড়াও পেয়েছেন। কেউ বা দিয়েছেন অর্থ, কারোর বা হাতে ছিল মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য বয়ে আনা ইট। মসজিদের অনুদান বাক্স খুলতেই দেখা গেছে, কোটি কোটি টাকা।
উন্নয়ন বনাম ধর্ম (Humayun Kabir Interview)
আগে মানুষের কাছে ভোট চাইতে গেলে বলা হত উন্নয়নের কথা (Humayun Kabir Interview)। এখন ধর্মের নামে চাওয়া হচ্ছে ভোট। এই পরিবর্তন কেন? কে টিভি বাংলার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন কবীরকে এই প্রশ্ন করতেই তিনি বললেন, “ধর্ম নিয়ে কথা বলার অধিকার সবার আছে। একতরফা কেউ মন্দির করবে, কেউ সনাতনী সনাতনী বলে চিৎকার করবে, আর আমি মুসলমানদের জন্য মসজিদ নিয়ে কথা বললেই এদের গা জ্বলবে কেন? আমরা অমুসলিমদের বিরোধিতা করিনা, পুজোর বিরোধিতা করিনা, আমরা মন্দিরের বিরোধিতা করিনা। তাহলে আমরা মসজিদের কথা বললেই এদের গাত্র দাহ হচ্ছে কেন?”
বিজেপির অভিযোগ (Humayun Kabir Interview)
বিজেপির অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারে থেকে বাবরি (Humayun Kabir Interview) মসজিদ গড়তে পারবেন না, তাই তিনি হুমায়ুনকে দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। এই অভিযযোগ সম্পর্কে স্পষ্ট জবাব দেন তিনি। তিনি বলেন, “বিজেপির সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্ডারগ্রাউন্ডে সুসম্পর্ক আছে। প্রাথী তালিকা প্রকাশের দিনই তিনি বলেছেন যে পুরোনো আরএসএস ভালো ছিল, নতুন বিজেপির লোকরা ওনার কন্ট্রোলে চলছে না। যদি মমতার সঙ্গে বিজেপির সুসম্পর্ক না থাকতো, অভিষেক বাইরে থাকতো না, ও চলে যেত ভুবনেশ্বরে।” তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মানিক ভট্টাচার্যের নাম। হুমায়ুনের মতে, বিজেপির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সুসম্পর্ক না থাকলে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ৫০ কোটি টাকার চাকরি বিক্রি করে জামিন পেত না। জেলেই থাকত। আর মানিক ভট্টাচার্য চাকরি বিক্রি করেও বেল পেত না। তিনি আরও বলেন, “৭০ বছরের বুড়ো ভাম যদি অর্পিতার কথা বলতে পারে, আমি তবে মসজিদের কথা বলব।”

জামাত অভিযোগ (Humayun Kabir Interview)
শুভেন্দুর জামাত অভিযোগ সম্পর্কেও মুখ (Humayun Kabir Interview) খোলেন তিনি। জামাতের সঙ্গে তার সম্পর্কের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে কার কোথায় সম্পর্ক আছে প্রমান করুক বিজেপি।” বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য অভিযোগ করেছিলেন যে পিএমও-র টাকায় বাবরি মসজিদ গড়ে তোলা হয়েছে। সেই কথাকে কটাক্ষ করে হুমায়ুন বলেন, “অতো বড় উকিল তিনি। প্রমান করুক না। অমিত শাহ, ইডি, সিবিআইকে দায়িত্ব দিন। আমি করাপ্টেড হলে আমাকে জেলে ভরুক।” তিনি দাবি করেন যে বিদেশ থেকে কোনও টাকা আনেননি মসজিদের জন্য।
সংখ্যালঘুদের ভোট কাটুয়া (Humayun Kabir Interview)
তৃণমূলের অভিযোগ সংখ্যালঘুদের ভোট কেটে বিজেপিকে সুবিধা করে দিচ্ছেন হুমায়ুন। এই অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “সংখ্যালঘুদের ভোটে আমরা সরকার গঠন করব। মমতা ব্যানার্জি বা তৃণমূলের কাছে মুসলিমদের ভোট জায়গির দেওয়া নেই। উনি তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে গেছেন, এবার ওনার সন্ন্যাস নেবার সময় এসে গেছে। দিঘায় গিয়ে মালা জপ করবেন। ৪ঠা মের বিকেল বেলায় আমি ওনাকে দিঘাতে এগিয়ে দিয়ে আসব।”
মিমের সঙ্গে জোট, পরোক্ষে বিজেপির হাত ধরল হুমায়ুন কবীর?
“আমি মিমের সঙ্গে মাত্র ১০টা সিটের জোট করেছি। বাকি ১৮২ টা সিটে আমিই লড়ছি। আমাদের দাবি ছিল মুসলিম ডেপুটি সিএম-এর। কিন্তু অসউদ্দিন ওয়াইসি বলেছেন মুসলিম মুখ্যমন্ত্রী চাই। আমি যে হুইসেল বার করেছি, এমন হুইসেল বাজাব যে মমতা, শুভেন্দু সব মাঠের বাইরে চলে যাবে।”
হুমায়ুন কবীর কি রেফারির কাজ করবেন?
“শুধু নিয়ম ভাঙলে নয়, প্লেয়ারদের কন্ট্রোল করার জন্যও হুইসেল বাজানো হয়। আমি ভোটের ময়দান কন্ট্রোল করব। মমতাকেও আউট করব, শুভেন্দুকেও ক্ষমতায় আসতে দেব না।”
দল বদলের পর প্রশাসন আপনাকে হ্যাকেল করেছে? এখনও সেই অবস্থা?
“এখন প্রশাসন জ্ঞানেশ কুমারের হাতে। কলকাতায় প্রশাসনিক রদবদল হচ্ছে। এরপর মমতা ব্যানার্জি রথে চেপে দিঘায় যাবেন।”
মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুরে জিতলে কি আপনি আলাদা রাজ্যের দাবি করবেন?
“কখনোই না। আমরা পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক, পশ্চিমবঙ্গেই থাকতে চাই। কোনও বিভাজন করতে দেব না। দেশ ভাগ হলে দেশ দুর্বল হয়, রাজ্যের ক্ষেত্রেও তাই। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা পাওয়া যায়। সেটা আমরা কাজে লাগিয়ে নেব। কোনও জেলাকেই আমরা আলাদা করতে চাই না। পশ্চিম বাংলা সোনার বাংলা থাকবে, কলকাতা তার রাজধানী থাকবে। এরপর কালীঘাট থেকে নয় আমরা মুর্শিদাবাদ থেকেই রাজ্য চালাবো।”
বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে কর্মী-সমর্থকদের কি ভোক্যাল টনিক দেবেন?
“এই করেই তো অধীর চৌধুরীকে তো হারিয়েছিলাম। একইভাবে মমতাকেও হারাব ও শুভেন্দুকেও হারাব।”
কিংমেকার হুমায়ুন কবীর এখন নিজেই চাইছেন সোনার বাংলার রাজা হতে। কিন্তু শাসক দলের বিরুদ্ধে কতটা রুখে দাঁড়াতে পারবে তার দল। তার উত্তর মিলবে ৪ ঠা মে।


