Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলস ভর্তি নকল স্বর্ণমুদ্রা দেখিয়ে গুজরাটের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা প্রতারণা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ (Gujarat)। অভিযুক্তদের নাম শেখ রেজওয়ান, শেখ ওয়াসিম ও শেখ আলি হোসেন। এদের মধ্যে শেখ রেজওয়ান ও শেখ আলি হোসেনের বাড়ি হুগলি জেলার জাঙ্গিপাড়া এলাকায়, আর শেখ ওয়াসিমের বাড়ি হাওড়ার পাঁচলা থানার অন্তর্গত জুজারসাহাতে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে নগদ প্রায় সাড়ে ২১ লক্ষ টাকা, বেশ কিছু নকল স্বর্ণমুদ্রা এবং সেগুলো তৈরির যন্ত্রপাতি।
ধনভাণ্ডারটি মূল্যবান (Gujarat)
হাওড়া গ্রামীণ জেলার পুলিশ সুপার সুবিমল পাল (Gujarat) বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, গুজরাটের ব্যবসায়ী মহম্মদ ইয়াসিন আনিস মেহমনের সঙ্গে পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে এই প্রতারণার পরিকল্পনা করা হয়। খবর সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওয়াসিম অতীতে ইয়াসিন মেহমনের ব্যবসায়িক কাজে সহায়তা করত এবং সেই সুবাদেই তার আস্থা অর্জন করেছিল। গত জুলাই মাসে ওয়াসিম গুজরাটে থাকা ওই ব্যবসায়ীকে ফোন করে জানায় যে, জগৎবল্লভপুর এলাকায় ধানক্ষেতে চাষ করার সময় মাটির তলা থেকে একটি স্বর্ণমুদ্রা ভর্তি কলস পাওয়া গিয়েছে। কথিত ধনভাণ্ডারটি নাকি বহু পুরনো এবং ঐতিহাসিক মূল্যবান।
খুব কম দামে বিক্রি (Gujarat)
ওয়াসিম প্রলোভন দেখায় যে, ওই স্বর্ণমুদ্রাগুলো খুব কম দামে বিক্রি করা হবে এবং এর মাধ্যমে ব্যবসায়ী বিপুল লাভবান হতে পারবেন। কথাবার্তার পর চুক্তি হয় মোট ২৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এই ধনভাণ্ডার হস্তান্তরের। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্যবসায়ীকে বলা হয় নির্দিষ্ট দিনে নগদ টাকা নিয়ে জগৎবল্লভপুরের মহেন্দ্রলালনগর স্টেশনে আসতে।
২৫ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয় (Gujarat)
নির্ধারিত দিনে ব্যবসায়ী মহেন্দ্রলালনগরে পৌঁছনোর পর অভিযুক্তরা প্রথমে তার হাতে একটি আসল স্বর্ণমুদ্রা দেয়, যাতে তিনি বিশ্বাস করেন যে পুরো কলসের মুদ্রাই আসল। এরপর কলস খুলে দেখানো হয়—ভিতরে রয়েছে অসংখ্য চকচকে মুদ্রা, যা দেখতে আসলের মতোই। কিন্তু ব্যবসায়ী মুদ্রাগুলো পরীক্ষা করে দ্রুত বুঝতে পারেন, বাকি সব নকল। তিনি লেনদেন করতে অস্বীকার করলে, তিন অভিযুক্ত মিলে ভয় দেখিয়ে ও হুমকি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে পুরো ২৫ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। এমনকি প্রমাণস্বরূপ দেওয়া সেই একটিমাত্র আসল মুদ্রাটিও তার কাছ থেকে কেড়ে নেয়।
অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে
প্রতারণা ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে গুজরাটে ফিরে না গিয়েই তিনি হাওড়া গ্রামীণ পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে নেমে মোবাইল টাওয়ার লোকেশন, সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে। এরপর বিশেষ অভিযান চালিয়ে জাঙ্গিপাড়া ও জুজারসাহা এলাকা থেকে একে একে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের হাতে ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে নগদ প্রায় সাড়ে ২১ লক্ষ টাকা, বেশ কিছু নকল মুদ্রা এবং নকল স্বর্ণমুদ্রা তৈরির জন্য ব্যবহৃত ছাঁচ ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই একই ধরনের প্রতারণা চালিয়ে আসছিল এবং একাধিক রাজ্যের ব্যবসায়ীদের টার্গেট করত।
আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: কন্যাশ্রীতে এক কোটি ছাত্রীর লক্ষ্য, পূরণ হলেই বিশেষ উদযাপনের ইঙ্গিত!
পুলিশ সুপার সুবিমল পাল জানিয়েছেন, ধৃতদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, ছিনতাই ও হুমকির ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, যাতে চক্রের আরও সদস্য এবং পূর্ববর্তী অপরাধের হদিস পাওয়া যায়। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে অন্য রাজ্যের দুষ্কৃতীরাও জড়িত থাকতে পারে।


