Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মুর্শিদাবাদের শক্তিপুরে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বাড়িকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে (Humayun Kabir)। অভিযোগ, জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবী আজাদ ওরফে রবীন তাঁর দেহরক্ষী এক পুলিশ কনস্টেবলকে মারধর করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শক্তিনগর থানার পুলিশ রবীনকে আটক করে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যেমন চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, তেমনই প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বিধায়ক-পুত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ! (Humayun Kabir)
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হুমায়ুন কবীরের দেহরক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন পুলিশ কনস্টেবল জুম্মা খান। অভিযোগ, ছুটি সংক্রান্ত এক বিতর্ককে কেন্দ্র করে রবীন তাঁর উপর চড়াও হন এবং শারীরিকভাবে হেনস্থা করেন। একজন সরকারি কর্মচারীর উপর হাত তোলার বিষয়টি আইনত গুরুতর অপরাধ এই অভিযোগ পেয়েই শক্তিনগর থানার পুলিশ হুমায়ুন কবীরের বাড়িতে যায় এবং রবীনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
পুলিশের অভিযানে ক্ষুব্ধ বিধায়ক (Humayun Kabir)
ছেলেকে আটক করার পরই প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর অভিযোগ, শক্তিনগর থানার পুলিশ তাঁর বাড়ি ঘিরে রেখেছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবারকে হেনস্থা করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাঁর বাড়িতে কোনও অশালীন আচরণ করা হলে তিনি আগামী বৃহস্পতিবার বহরমপুর জেলা পুলিশ দফতর ঘেরাও করবেন। পাশাপাশি ছেলেকে আটক করার প্রতিবাদে তিনি নিজেও শক্তিনগর থানায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
পাল্টা অভিযোগ ও রাজনৈতিক বিতর্ক (Humayun Kabir)
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা অভিযোগও তুলেছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, দেহরক্ষীই প্রথমে দুর্ব্যবহার করেছিলেন এবং পরিস্থিতি সেখান থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্য স্পষ্ট একজন সরকারি নিরাপত্তারক্ষীর গায়ে হাত তোলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই প্রসঙ্গে অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “একজন বিধায়ক বা তাঁর পরিবারবর্গ যে কোনও নাগরিকের মতোই আইনের আওতায়। পুলিশের গায়ে হাত তোলা গুরুতর অপরাধ। ব্যক্তিগত বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু তার সমাধান আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে করা যায় না।”
আরও পড়ুন: US Flight: একদিনেই বাতিল হাজারের বেশি উড়ান: ভ্রমণ মরসুমে আমেরিকায় চরম যাত্রী দুর্ভোগ
রবীনের রাজনৈতিক পরিচয় ও জটিলতা
এই ঘটনায় আরও একটি রাজনৈতিক মাত্রা যোগ হয়েছে। গোলাম নবী আজাদ ওরফে রবীন বর্তমানে তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ। যদিও তাঁর বাবা হুমায়ুন কবীর নতুন দল জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করেছেন, রবীন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বাবার দলে যোগ দেননি। ফলে শাসকদল, নতুন রাজনৈতিক দল এবং প্রশাসনের মধ্যে সম্পর্কের জটিলতা এই ঘটনায় আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।



