Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) ফের তৃণমূলের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছেন। দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে মতবিরোধে জর্জরিত এই নেতা এবার প্রকাশ্যে জানিয়ে দিলেন-আর নয় তৃণমূল, তিনি নিজেই তৈরি করবেন নতুন রাজনৈতিক দল। নির্দিষ্ট সময়সীমাও ঘোষণা করেছেন তিনি। আগামী ২০ ডিসেম্বরের মধ্যেই তাঁর নতুন দল আত্মপ্রকাশ করবে বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন। রাজ্যে যখন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, সেই সময় হুমায়ুনের এই ঘোষণা স্বাভাবিকভাবেই বড় রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে।
তৃণমূলে এখন তাঁর আর থাকা সম্ভব নয় (Humayun Kabir)
বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) বলেন, তৃণমূলে এখন তাঁর আর থাকা সম্ভব নয়। নিজের কথায় তিনি জানিয়েছেন, “যদি আমি দল গঠন করি, তৃণমূল তখন বুঝবে তারা কী হারিয়েছে। আমি না থাকলে মুর্শিদাবাদে দশটি আসনও পাবে না তারা।” তাঁর দাবি, তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁকে যথেষ্ট সম্মান দিচ্ছে না। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন দলের পক্ষ থেকে ইতিবাচক বার্তা পাওয়ার জন্য, কিন্তু পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ (Humayun Kabir)
এর আগে নিজের এলাকায় প্রকাশ্য সভায় দাঁড়িয়েও দলের বিরুদ্ধে (Humayun Kabir) ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। হুমায়ুনের বক্তব্য ছিল, “যদি মনে করে আমার মতো লোকের আর প্রয়োজন নেই, তাহলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বুঝিয়ে দেব মুর্শিদাবাদের রাজনীতি কীভাবে পাল্টায়।” তিনি আরও বলেন, “আমি এখনো সম্মান রেখে কথা বলছি, কিন্তু কেউ যদি আমার পিঠে হাত তোলে, আমি তার জবাব দিতে জানি।” তাঁর এমন মন্তব্যে তৃণমূলের অন্দরে চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
তীব্র সমালোচনা
দলের একাংশ ইতিমধ্যেই তাঁর এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছে। নাম না করে তাঁকে আক্রমণ করেছেন স্থানীয় বিধায়ক অপূর্ব সরকার। তাঁর অভিযোগ, “২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে সালার-ভরতপুর এলাকায় পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোটের গণনায় গোলমাল করা হয়েছিল। টাকার বিনিময়ে প্রশাসনকে প্রভাবিত করা হয়েছিল। এখন যারা নির্বাচিত, তারা জমি দখল আর লুটপাটে ব্যস্ত।” যদিও হুমায়ুনের ঘনিষ্ঠ মহল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে কোণঠাসা করার জন্যই এই প্রচার চালানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: Richa Ghosh: আজ ঘরে ফিরছেন বিশ্বজয়ী রিচা ঘোষ
তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করছে না। তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব চিন্তাভাবনা করছে। অতীতে হুমায়ুন কবীরের বিভিন্ন মন্তব্যে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তাই একাধিকবার তাঁকে সতর্ক করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্যামাক স্ট্রিটে বৈঠকে তাঁকে জানানো হয়েছিল, দলবিরোধী আচরণ করলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে, সেই সতর্কবার্তা কার্যত ফলপ্রসূ হয়নি।


