Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের রেশ (Humayun Kabirs Party) কাটতে না কাটতেই বিতর্কে জড়ালেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। দল ঘোষণার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই প্রার্থী তালিকা বদলে ফেলায় প্রশ্ন উঠছে তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন নিয়ে। বিশেষ করে বালিগঞ্জ কেন্দ্রের জন্য ঘোষিত প্রার্থী নিশা চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রত্যাহার ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
নতুন দল ঘোষণা (Humayun Kabirs Party)
সোমবার মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থেকে (Humayun Kabirs Party) ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (জেইউপি) নামে নতুন দল ঘোষণা করেন হুমায়ুন কবীর। সেই সঙ্গেই তিনি রাজ্যের দশটি বিধানসভা কেন্দ্রের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম প্রকাশ্যে আনেন। তালিকায় চমক হিসেবে ছিল বালিগঞ্জ কেন্দ্রের জন্য নিশা চট্টোপাধ্যায়ের নাম। মঞ্চে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছবি তোলা থেকে শুরু করে প্রকাশ্য ঘোষণায় মনে হয়েছিল, এই সিদ্ধান্তে তিনি অনড়। নিশাও জানিয়েছিলেন, তিনি মূলত সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং হুমায়ুনের আহ্বানেই রাজনীতির ময়দানে পা রাখছেন।
পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায় (Humayun Kabirs Party)
কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। প্রার্থী ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার (Humayun Kabirs Party) মধ্যেই সমাজমাধ্যমে নিশার কিছু পুরনো ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেগুলি সামনে আসার পরেই হুমায়ুন কবীর তাঁর অবস্থান বদলান। এক রাত পেরোতেই তিনি জানিয়ে দেন, নিশা আর জেইউপি-র প্রার্থী নন। তাঁর যুক্তি, সমাজমাধ্যমে ওই মহিলার উপস্থিতি ও আচরণ নাকি বিধানসভার মতো ‘পবিত্র’ জায়গার সঙ্গে মানানসই নয়। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেন, সাত দিনের মধ্যেই বালিগঞ্জ কেন্দ্রের জন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনও প্রার্থীর নাম জানানো হবে।
ক্ষুব্ধ নিশা চট্টোপাধ্যায়
এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ নিশা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, প্রার্থী হওয়ার জন্য তিনি নিজে থেকে কখনও আবেদন করেননি। হুমায়ুন নিজেই তাঁকে বেছে নিয়েছিলেন এবং একই রকম হঠাৎ সিদ্ধান্তেই তাঁর নাম বাতিল করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, মহিলাদের ব্যক্তিগত জীবন, আচরণ বা স্বাধীনতার উপর কোনও রাজনৈতিক নেতা সেন্সরশিপ আরোপ করতে পারেন না। যদিও তিনি দুঃখ পেয়েছেন, তবু ভেঙে পড়েননি বলেও জানান নিশা।

ভোটের অঙ্ক
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বালিগঞ্জের মতো সংবেদনশীল কেন্দ্রে নিশার নাম ঘোষণা করাই ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। ওই কেন্দ্রে সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। অতীতে এই ভোটব্যাঙ্কই ফলাফলে বড় ভূমিকা নিয়েছে। তাই চট্টোপাধ্যায় পদবিধারী প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল শিবিরে ঠারেঠোরে শুরু হয়েছিল সমালোচনা-হুমায়ুন নাকি ভোটের অঙ্ক ঠিকভাবে বুঝতে পারছেন না।
আরও পড়ুন: Tea Reciepe: চা ছাড়া দিন চলে না? চায়ের পারফেক্ট রেসিপি জানেন?
হুমায়ুনের ঘনিষ্ঠ মহল অবশ্য এই ঘটনাকে আলাদা ভাবে দেখছে। তাঁদের দাবি, নতুন দল গঠন ও বড় রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই নানা ভাবে তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলার চেষ্টা চলছে। কখনও সৌদি থেকে ধর্মগুরু আনার ঘটনায় বিভ্রান্তি, কখনও অনুদান সংক্রান্ত জটিলতা, আবার কখনও নিরাপত্তা ঘিরে বিতর্ক-সব মিলিয়ে বাধার মুখেই পড়ছেন তিনি। নিশা-প্রসঙ্গকেও তাঁরা সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলেই ব্যাখ্যা করছেন।


