Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতার আনন্দপুর থানার অন্তর্গত নাজিরাবাদ এলাকায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড কার্যত আতঙ্কিত করে দিয়েছে গোটা শহরকে (Anandapur Fire)। একটি গোডাউনে ভয়াল আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে একের পর এক প্রাণ। উদ্ধার হওয়া দেহাংশ, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা এবং ক্রমশ সামনে আসা তথ্য পরিস্থিতিকে আরও ভয়ংকর করে তুলছে।

দেহাংশ, মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা (Anandapur Fire)
পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলের সূত্রে জানা গেছে, এখনও পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে মোট ২১টি দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি আধপোড়া দেহ এবং ২০টি সম্পূর্ণ বা আংশিক কঙ্কাল। দগ্ধ গোডাউন এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই তিনটি পোড়া কঙ্কাল-সহ অন্তত ১৬টি ঝলসে যাওয়া দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর ২৮ জনের পরিবারের তরফে নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। বর্তমানে পুলিশের হিসেব অনুযায়ী ২৩ জন এখনও নিখোঁজ, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ডিএনএ ম্যাপিংয়ের পথে প্রশাসন (Anandapur Fire)
আগুনে পুড়ে দেহগুলির এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে চাক্ষুষ শনাক্তকরণ কার্যত অসম্ভব। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলির পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রশাসন ডিএনএ ম্যাপিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনিক সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার থেকেই ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। বর্তমানে ছাই ও পোড়া দেহাংশ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলির মতে, নিহতদের সঠিক পরিচয় ও সংখ্যা নির্ধারণে এই পরীক্ষাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতির অভিযোগ (Anandapur Fire)
এই ঘটনায় মঙ্গলবার মধ্যরাতে গ্রেফতার করা হয়েছে গোডাউন মালিক গঙ্গাধর দাসকে। পুলিশের অভিযোগ, গোডাউনে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না, যা আগুনের ভয়াবহতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
কড়া নজরদারি প্রশাসনের (Anandapur Fire)
আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং তদন্ত ও উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্ন করতে বুধবার মধ্যরাত থেকে নাজিরাবাদ এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এই ধারার আওতায় দুর্ঘটনাস্থলের ১০০ মিটারের মধ্যে পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নরেন্দ্রপুর থানার আইসি-র আবেদনের ভিত্তিতে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রমাণ লোপাট, তদন্তে বাধা বা এলাকায় উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কাতেই এই কড়া পদক্ষেপ।
ঘটনাস্থলে যেতে পারেন বিরোধী দলনেতা (Anandapur Fire)
এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও তৎপরতা বেড়েছে। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাস্থলে যেতে পারেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির একাধিক বিধায়ক। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

আরও পড়ুন: Kolkata Book Fair: বাইরে বসে স্রষ্টারা! শিল্পী ছাড়া আদৌ সম্পূর্ণ হয় বইমেলা?
চাকরির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
মৃত ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেছিলেন। বুধবার সিঙ্গুরের এক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই ঘোষণাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান। মুখ্যমন্ত্রী জানান, অগ্নিকাণ্ডে মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে রাজ্য সরকার, সংশ্লিষ্ট ওয়াও মোমো কোম্পানি ও ডেকরেটর্স সংস্থা আলাদা করে ৫ লক্ষ টাকা করে দেবে, মৃতদের পরিবারের একজন সদস্যকে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে চাকরি দেওয়া হবে, পুলিশকে সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।



