Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ (Idhika Paul)। রাজনৈতিক অস্থিরতা, মৌলবাদী উন্মত্ততা ও নিয়ন্ত্রণহীন হিংসার এমন বিভীষিকাময় চিত্র সাম্প্রতিক কালে উপমহাদেশ খুব কমই দেখেছে। সেই অন্ধকারের মধ্যেই দীপু দাসের নারকীয় হত্যাকাণ্ড যেন সভ্যতার বুকে ছুরি বসিয়ে দিয়েছে। গণপিটুনি, দেহ দাহ, উল্লাস এই দৃশ্য কেবল একটি দেশের নয়, গোটা মানবজাতির বিবেককেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

ওসমান হাদির মৃত্যু ও হিংসার বিস্তার (Idhika Paul)
গত বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাংলাদেশ জুড়ে শুরু হয় ভয়াবহ অস্থিরতা। বিক্ষোভ দ্রুত রূপ নেয় হিংসায়। প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়ে বহু জায়গায়। রাজনৈতিক রোষ, ধর্মীয় বিদ্বেষ আর জনরোষ একাকার হয়ে যায়। এই উত্তপ্ত আবহেই সংখ্যালঘুদের উপর নেমে আসে ভয়ংকর আক্রমণ।
এক যুবক, এক ভয়ংকর বার্তা (Idhika Paul)
ময়মনসিংহের মোকামিয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা দীপু দাস। গত দু’বছর ধরে ভালুকার একটি কারখানায় কর্মরত ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ কারখানায় আচমকা হামলা চালায় একদল বিক্ষোভকারী। ভাঙচুরের মধ্যেই দীপুকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে বের করে আনা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এরপর শুরু হয় নির্মম গণপিটুনি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দীপুর। কিন্তু হিংসা সেখানে থেমে থাকেনি। মৃতদেহ ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে নিয়ে গিয়ে গাছে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সঙ্গে চলে উল্লাস, স্লোগান, বিকৃত উন্মাদনা। এই ঘটনা কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয় এ এক প্রকাশ্য বর্বরতার প্রদর্শনী।

মানবতার সম্পূর্ণ পতন (Idhika Paul)
হিংসার আগুনে পুড়ে মরেছে বিএনপি নেতার সাত বছরের শিশুকন্যাও। রাজনীতি, ধর্ম, মতাদর্শ কোনও কিছুর সঙ্গেই যার কোনও সম্পর্ক নেই, সেই শিশুর প্রাণহানি প্রমাণ করে দেয়, এই হিংসা এখন আর কোনও ‘কারণ’-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি হয়ে উঠেছে নিয়ন্ত্রণহীন নৃশংসতা।
‘জল্লাদের হাতে মৃত্যুপুরী’ (Idhika Paul)
এই একের পর এক রোমহর্ষক ঘটনায় স্তম্ভিত আন্তর্জাতিক মহল। সভ্য সমাজের একাংশ বলছেন, “জল্লাদের হাতে মৃত্যুপুরী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।” রাষ্ট্রযন্ত্র যখন নাগরিককে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তখন প্রশ্ন ওঠে এই সমাজ কোন পথে হাঁটছে? মানবাধিকারের ধারণা, সংখ্যালঘু সুরক্ষা, আইনের শাসন সবকিছুই যেন মুখ থুবড়ে পড়েছে।
ইধিকা পালের কণ্ঠে উদ্বেগ ও প্রার্থনা (Idhika Paul)
এই ভয়াবহ প্রেক্ষাপটেই মুখ খুললেন অভিনেত্রী ইধিকা পাল। এপার বাংলায় দেবের ‘খাদান কিশোরী’ হলেও, ওপার বাংলায় তিনি শাকিব খানের ‘প্রিয়তমা’। বাংলাদেশ থেকেই বড়পর্দার নায়িকা হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু। ফলে দেশটির সঙ্গে তাঁর আবেগী সংযোগ গভীর। নতুন ছবির প্রচারে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ইধিকা বলেন, “একটা দেশ, যাকে আমি খুবই ভালোবাসতে দেখেছি। শিল্প ও শিল্পীকে সম্মান করতে দেখেছি। আমিও সেদেশে অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। কিন্তু আজ যখন দেখি সবাই খুব রেগে যাচ্ছে, ক্ষুব্ধ হয়ে যাচ্ছে তখন খুব খারাপ লাগে।” পদ্মাপাড়ের মানুষের উদ্দেশে তাঁর আর্জি, “সকলে শান্ত হোন। ভালো থাকুন। খুব শিগগিরি বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক।”

আরও পড়ুন: Tea Reciepe: চা ছাড়া দিন চলে না? চায়ের পারফেক্ট রেসিপি জানেন?
ভাঙা সম্পর্কের প্রতিচ্ছবি
ইধিকার বক্তব্য আসলে শুধুই একজন অভিনেত্রীর প্রতিক্রিয়া নয়। এটি সেই শিল্পী-সমাজের হতাশা, যারা বিশ্বাস করেন সংস্কৃতি মানুষকে যুক্ত করে, হিংসা নয়। যে বাংলাদেশ একসময় শিল্প, সাহিত্য ও মানবিকতার জন্য পরিচিত ছিল, সেই দেশ আজ কেন এমন উন্মত্ততায় ডুবে যাচ্ছে এই প্রশ্নই তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত।



