Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কিলোমিটারের পর কিলোমিটার (Ijtema 2026) জুড়ে মানুষের স্রোত-সাদা টুপি, সাদা ফতুয়া আর সাধারণ জীবনযাপনের প্রতীকী পোশাকে হেঁটে চলেছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। প্রশাসনের অনুমানের বহু বাইরে চলে গিয়েছিল এই ভিড়। গত ৫ জানুয়ারি শেষ হয়েছে মুসলিমদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ বিশ্ব ইজতেমা। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন দাদপুর এলাকার মহেশ্বরপুরের কাছে প্রায় ৬০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে গড়ে ওঠা ইজতেমা ময়দানে দেশ-বিদেশের বিপুল সংখ্যক মুসলমানের সমাগম দেখা যায়।
ইজতেমা শব্দটির উৎস (Ijtema 2026)
ইজতেমা শব্দটির উৎস আরবি “ইজতিমা” (Ijtema 2026), যার অর্থ একত্রিত হওয়া বা সমবেত হওয়া। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি কেবল একটি জমায়েত নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে ঈমান, আমল ও চরিত্র শুদ্ধ করার একটি বৃহৎ উদ্যোগ। তাবলিগ জামাতের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই ইজতেমা মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও আত্মশুদ্ধির বার্তা বহন করে।
ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান (Ijtema 2026)
ইসলামে সমবেত ইবাদতের গুরুত্ব (Ijtema 2026) অপরিসীম। কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী, সকল মুসলমানকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইজতেমার ময়দানে সেই ঐক্যেরই বাস্তব রূপ দেখা যায়, যেখানে জাতি, ভাষা, দেশ কিংবা সামাজিক অবস্থানের ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক কাতারে দাঁড়ায়।

ইজতেমার মূল উদ্দেশ্য
ইজতেমার মূল উদ্দেশ্য হলো ঈমানকে দৃঢ় করা এবং সুন্নাহর পথে জীবন পরিচালনার শিক্ষা দেওয়া। এখানে আলেমরা নামাজ, জিকির, তাওবা, কোরআন পাঠ এবং আখিরাতের জবাবদিহি নিয়ে আলোচনা করেন। রাজনীতি বা দলীয় মতাদর্শের কোনও স্থান নেই; বরং নৈতিক চরিত্র গঠন ও আত্মসমালোচনাই মুখ্য।

আরও পড়ুন: Barasat Cow Missing: একের পর এক গরু চুরি, নেপথ্যে কোন ষড়যন্ত্র?
এই ধর্মীয় সম্মেলন মুসলিম সমাজের জন্য এক ধরনের আত্মজাগরণের ক্ষেত্র। ইজতেমা শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের জীবন আরও সংযত, নৈতিক ও আল্লাহভীরু করার অঙ্গীকার নিয়ে ঘরে ফেরেন। তাই ইজতেমা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর সামগ্রিক কল্যাণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস।


