Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মঙ্গলবার প্রার্থীতালিকা ঘোষণার দিনটি ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি যেমন উত্তপ্ত ছিল, তেমনই সমান্তরালভাবে চলছিল এক ভিন্ন জল্পনার গল্প একজন শিল্পীকে ঘিরে রাজনৈতিক সম্ভাবনার কৌতূহল (Iman Chakraborty)। সেই শিল্পী হলেন ইমন চক্রবর্তী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব জল্পনাই ভেস্তে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন রাজনীতি নয়, তাঁর পরিচয় একান্তই শিল্পী হিসেবে।

প্রার্থীতালিকা ও জল্পনার সূচনা (Iman Chakraborty)
রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস যখন ২৯১টি আসনে প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করল, তখন অনেকের নজর ছিল কিছু ‘চমকপ্রদ’ নামের দিকে। সেই তালিকায় জায়গা করে নেবেন বলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছিল জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত গায়িকা ইমন চক্রবর্তীর নাম নিয়ে। এই জল্পনার পেছনে একাধিক কারণ ছিল, রাজ্য সরকারের প্রকল্প নিয়ে তাঁর কণ্ঠে গাওয়া গান ‘লক্ষ্মীর পাঁচালী’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক, বঙ্গবিভূষণ সম্মানে ভূষিত হওয়া, সব মিলিয়ে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, শিল্পী থেকে রাজনীতির ময়দানে পা রাখতে চলেছেন ইমন।
জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছিল মিডিয়া (Iman Chakraborty)
বর্তমান সময়ে মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব এতটাই প্রবল যে, একটি সম্ভাবনাও মুহূর্তে ‘নিশ্চিত খবর’-এ পরিণত হয়। ইমনের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং রাজনৈতিক আলোচনায় তাঁর নাম এমনভাবে ঘুরতে থাকে যে, সাধারণ মানুষের মধ্যেও একপ্রকার নিশ্চিত ধারণা তৈরি হয় তিনি হয়তো ভোটে দাঁড়াবেন। কিন্তু বাস্তব ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

শিল্পীর পরিচয় বনাম রাজনৈতিক প্রত্যাশা (Iman Chakraborty)
ইমনের বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে, একজন শিল্পীর সাফল্য কি তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করে দেয়? তিনি খুব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর কাজ গান গাওয়া, তিনি একজন শিল্পী, রাজনীতিক নন ভবিষ্যতেও তিনি নিজের শিল্পীসত্তাকেই প্রাধান্য দেবেন এই বক্তব্যে একদিকে যেমন তাঁর ব্যক্তিগত অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে, তেমনই সমাজের একটি প্রবণতাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

আরও পড়ুন: Rail Death AI: রেললাইনে বন্যপ্রাণীর মৃত্যু রোধ, AI ব্যবহারের সিদ্ধান্ত রেলমন্ত্রকের
সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যঙ্গের সুরে প্রতিবাদ
শুধু সাক্ষাৎকারেই নয়, সোশ্যাল মিডিয়াতেও ইমন তাঁর ক্ষোভ ও ক্লান্তি প্রকাশ করেছেন এক ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে। তিনি লিখেছেন, “বিগত কয়েকমাস ধরে আপনারা আমাকে বিভিন্ন জায়গায় দাঁড় করিয়েছিলেন উত্তরপাড়া, দক্ষিণপাড়া, বালি, সিমেন্ট, আমতলা, জামতলা… কেউ কেউ আবার কেওড়াতলাতেও!” এই কথাগুলির মধ্যে রয়েছে তীব্র ব্যঙ্গ, ক্লান্তি এবং এক ধরনের আবেদন। শেষ পর্যন্ত তিনি অনুরোধ করেছেন, “প্লিজ, আমাকে এবার একটু নিজের পায়ে দাঁড়াতে দিন।”



