Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের বিরুদ্ধে ফাইনালে নামার আগে নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক ভারতের সমর্থকদের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তাঁদের হৃদয় ভাঙার এবং চুপ করিয়ে দেওয়ার (IND vs NZ)। সেই হুঁশিয়ারির বদলা নিলো ভারতীয় ব্যাটাররা।
শানদার ঈশান, স্টাইলিশ সঞ্জু (IND vs NZ)
ভারতীয় সিনেমার খুব পরিচিত এবং জনপ্রিয় মুখ শত্রুঘ্ন সিন্হা। তাঁর মুখের সংলাপে ‘খামোশ’ এতটাই বহুলপ্রচলিত যে এই শব্দটা শুনলে তাঁর কথাই মনে আসবে। শত্রুঘ্ন সিন্হা আর ‘খামোশ’ যেন সমার্থক। নাভিমূল থেকে উঠে-আসা সেই একাক্ষরী গর্জন শুনলে পিলে চমকে ওঠে বিপক্ষের। আর আজ ফাইনালের ভারতের ঘরের মাটিতে ভারতকে এসে বারবার হুমকি দেওয়া যে ভারত খুব ভাল ভাবে মেনে নেবে সেটা বোধহয় মাথায় ছিল না নিউ জিল্যান্ড অধিনায়কের (IND vs NZ)।
আহমেদাবাদের স্টেডিয়ামে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে টসে জিতে প্রথম ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন মিচেল স্যান্টনার। ব্যাট হাতে তখন দুই মহারথী প্রস্তুত নিউ জিল্যান্ডকে তাঁদের যোগ্য জবাব দিতে। যদিও সেই সময় সমর্থকদের বুকে একটা চাপা টেনশন কাজ করছে। একদিকে প্রথমবার ঘরের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের খেতাব জেতার হাতছানি তেমন আবার অন্যদিকে তৃতীয়বার বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার লড়াই।
প্রথম দুই ওভার যেন নিউ জিল্যান্ডের বোলারদের কিছুটা বুঝে নেওয়ার সময় নিলেন দুই ওপেনার। এরপর কিছুটা স্থির হয়ে নিজেদের রুদ্রমূর্তি ধারণ করলেন অভিষেক শর্মা এবং সঞ্জু স্যামসন। আজ নারী দিবসের দিনে এই তারকার পিছন থেকে সাপোর্ট করে যাওয়া সেই সকল নারীদের জন্যই যেন আজ মরণপণ লড়াইয়ে সঞ্জু, ঈশানরা (IND vs NZ)।
আরও পড়ুন: Abhishek Sharma: ফাইনালে ফাইনালি ফর্মে ফিরলেন অভিষেক
প্রথম চার ওভারে ৫০ রান ভারতের স্কোর বোর্ডে। ভারত হলো প্রথম দল যারা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমি ফাইনাল ও ফাইনালে দ্রুততম এই রান করল। অভিষেক তখন টপ গিয়ারে, একের পর এক বল তখন ছুঁয়ে আসছে বাউন্ডারি লাইন। সঞ্জু আর অভিষেক বলের ঠিকানায় লিখে দিচ্ছে টু দ্য প্যাভিলিয়ান। যে অভিষেকের ফর্মে ফেরা নিয়ে ছিল হাজারও জল্পনা সেই অভিষেক আজ বুঝিয়ে দিলেন কেন আজও তাঁর উপর দলের ভরসা রয়েছে। ৭.১ ওভার, রাচিন রবীন্দ্রর বলে বাইরের বল মারতে গিয়ে শেইফার্টের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ড্রেসিং রুমে। ২১ বলে ৫২ রানের ইনিংসে রয়েছে ৬টি চার এবং ৩টি ছয় (IND vs NZ)।
অভিষেক আউট হওয়ার পর নিউ জিল্যান্ড কিছুটা স্বস্তি পেলেও সেই স্বস্তি স্থায়ী হলো না কারণ একদিকে তখন তখন সঞ্জু ঝড়ে কাঁপছে ব্ল্যাক ক্যাপ শিবির। সুপার এইট, সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে পরপর নিজের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন সঞ্জু। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই নিজের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতার প্রমাণ রাখলেন এই ডান হাতি ব্যাটার। একের পর এক বল বাউন্ডারি লাইন পার করছেন আর ভারতীয় সমর্থকদের চিৎকার তখন ডেসিবেল ছাড়িয়ে আকাশে গর্জন করছে। সেই গর্জনে তখন কান পাতা দায়।১৫.১ ওভার, জিমি নিশামের বলে আউট সঞ্জু যখন ফিরছেন তখন তাঁর রান ৪৬ বলে ৮৯ রান। ১৫ ওভারে ভারত ২০০ প্লাস রান যোগ করে ফেলেছে স্কোর বোর্ডে। ততক্ষণে ২১ বলে হাফ সেঞ্চুরির পার্টনারশিপ সঞ্জু স্যামসন ও ঈশানের (IND vs NZ)।
তবে তখনও ক্রিজে রয়েছেন ঈশান কিষাণ। বিশ্বকাপের কয়েক মাস আগেও যে তিনি বিশ্বকাপ খেলবেন সেটা ঠিক ছিল না কিন্তু তিনি যখন ফিরলেন, ফিরলেন রাজার মতো। প্রথম থেকেই ভয়কে জয় করেই মাঠে নেমেছেন যেন। তাঁর ব্যাট যেন তাঁর আজ্ঞাধীন। চার চয়ের বন্যা বইছে তাঁর ব্যাট থেকে। নিজের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ভারতের বড় রানে রাখলেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ২৩ বলে হাফ সেঞ্চুরি করলেন ঈশান তবে জিমির বলে ২৫ বলে ৫২ করে ফিরলেন তিনি। এই মাঠেও ব্যর্থ সূর্যকুমার যাদব।
এক সময় যখন মনে হচ্ছিল সহজেই ভারতের রান ২৭০-এর কাছাকাছি যাবে সেই সময় সঞ্জু এবং ঈশান আউট হয়ে যাওয়ায় রানের গতি কমে যায়। যদিও তাঁরা তাঁদের কাজ করে দিয়েই গিয়েছিল বাকি কাজ ছিল সূর্যকুমার, হার্দিকের উপর। কিন্তু দুই জনই ব্যর্থ হয়ে ফিরলেন। কিন্তু তখনও দুবে তাঁর রূপ ধারণ করেনি। যদিও সেই সময় ২৫০ রান যাবে কিনা তা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। কিন্তু ব্যাটিংয়ে যখনই সুযোগ পেয়েছেন নিজেকে প্রমাণ করেছেন। শেষবেলায় ঝড় তুললেন তিনি। বলা যায় আজ ভারতের শো স্টপার শিবম দুবে। ৮ বলে ২৬ করে ভারতের স্কোর বোর্ডে তখন ২৫৫। এর সাথে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবথেকে বেশিবার ২৫০ প্লাস রান করার রেকর্ড ভারতের দখলে। এখন ভারতের বোলারদের সামনে ট্রফি ডিফেন্ড করার পরীক্ষা (IND vs NZ)।


