Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অন্যের জন্য কবর খুঁড়তে গিয়ে অনেক সময় নিজেরই হাতপা ভাঙ্গে (Gautam Gambhir)। ইডেনে সিরিজের প্রথম টেস্টে সেই দশাই হল ভারতের। ঘূর্ণি উইকেট বানিয়ে প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকাকে ঘায়েল করতে গিয়ে সেই অস্ত্রই বুমরাং হয়ে ফিরে এল ভারতের কাছে। আর তাতেই মাত্র আড়াই দিনেই ৩০ রানে হেরে নিজেদের মুখ পোড়ালো ভারত। লজ্জায় ডুবল ঐতিহ্যের ইডেন গার্ডেন্স। ইডেনের অসমান বাউন্স যুক্ত ঘূর্ণি উইকেটে জেতার জন্য ১২৪ রান তারা করতে গিয়ে ৯৩ রানেই গুটিয়ে গেল ভারতের ইনিংস। অথচ একপ্রকার জেদ করে ইডেনের বাইশ গজকে ‘স্পিন ক্ষেত্র’ বানিয়ে তুলতে বাধ্য করেছিলেন ভারতীয় দলের হেডকোচ গৌতম গম্ভীর। নিজের অস্ত্রেই নিজের নাক কাটা গেল।

ইডেনের উইকেট নিয়ে গম্ভীর (Gautam Gambhir)
দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে পরাজয় বরণ করে ভারতীয় দলের হেডস্যার মেনে নিলেন, তারা যে উইকেট চেয়েছিলেন সেটাই পেয়েছেন। এই উইকেট মোটেও খেলার অযোগ্য ছিল না! উইকেটে কোনও জুজু ছিল না। এই ব্যর্থতার জন্য দলের ক্রিকেটারদের অনভিজ্ঞতা, চাপ নিতে না পারা এবং মানসিক দৃঢ়তার অভাবকেই দায়ী করলেন। সেই সঙ্গে, ইডেনের পিচ প্রস্তুতকারক সুজন মুখোপাধ্যায়ের হয়েও ব্যাট ধরলেন গম্ভীর। ম্যাচ শেষের সাংবাদিক সম্মেলনে এসে ঋষভ পন্থদের হেড স্যার পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, ইডেনের পিচ কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায় সম্পূর্ণ নির্দোষ। তিনি ভারতীয় দলকে সবরকম ভাবে সহযোগিতা করেছেন।
ঘূর্ণি উইকেটেও পেসারদের দাপট (Gautam Gambhir)
ম্যাচ শুরুর আগে কেমন উইকেট তাদের প্রয়োজন তা পরিষ্কার ইডেনের পিচ প্রস্তুতকারককে জানিয়ে দিয়েছিলেন গৌতম গম্ভীর। ভারতের সেই আবদার মেটাতে ম্যাচের আগে তিন দিন উইকেটে জল পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। ইডেনের ২২ গজ দিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে জোর চর্চা হয়েছে। তাই ম্যাচ হেরেও ইডেনের ২২ গজকে কাঠগড়ায় তুলতে নারাজ গম্ভীর। তিন দিনে চার ইনিংসে ৩৮ উইকেটের মধ্যে স্পিনারদের থেকে বেশি উইকেট পেয়েছেন ফাস্ট বোলাররা। আর সেটাকেই নিজের যুক্তির স্বপক্ষে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করলেন গম্ভীর। পরিসংখ্যান বলছে ইডেনে দুই দলের পেসাররা নিয়েছেন ১৬টি উইকেট।

উইকেট নয়, ব্যাটারদের ব্যর্থতাকেই দায়ী করছেন গম্ভীর (Gautam Gambhir)
রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে এসে গম্ভীর বলেন, ‘আমাদের দলে প্রায় সকলেই তরুণ ক্রিকেটার। দলটার অভিজ্ঞতা অনেক কম। শুধু স্কিল নয়, টেস্ট ম্যাচ খেলতে গেলে মানসিক দৃঢ়তা থাকতে হবে। চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। সেটাই পারেনি আমাদের ব্যাটসম্যানরা। উইকেট নিয়ে আমাদের কোনও চাহিদা ছিল না। ইডেনের উইকেট মোটেও খেলার অযোগ্য ছিল না। এই উইকেটেই তো তেম্বা বাভুমা, ওয়াশিংটন সুন্দর, অক্ষর প্যাটেল, কেএল রাহুলরা রান করল। আমরা যদি জিততাম, তাহলে পিচ নিয়ে এত প্রশ্ন উঠত না। জানিনা, কেন বারবার পিচ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে! কেন বারবার স্পিন সহায়ক উইকেটের কথা বলা হচ্ছে। অথচ এই টেস্টে ফাস্ট বোলাররা বেশি উইকেট পেয়েছে। তাই উইকেট মোটেও খারাপ নয়। এটা এমন উইকেট নয় যে রান করা কঠিন। এই ধরনের উইকেটে ব্যাটসম্যানদের মানসিক দৃঢ়তা, স্কিল, টেকনিক, ধৈর্য্য এবং ডিফেন্স করার পরীক্ষা দিতে হয়। যা করতে আমাদের ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হয়েছে।’
ইডেনের পিচ প্রস্তুতকারকের পাশে গম্ভীর (Gautam Gambhir)
ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতাকে দায়ী করার পাশাপাশি ইডেনের পিচ প্রস্তুতকারক সুজন মুখোপাধ্যায়েরও পাশে দাঁড়িয়েছেন গম্ভীর। ইডেনের এই উইকেটের জন্য অনেকেই সুজন মুখোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলছেন। কিন্তু এই উইকেট এবং ব্যর্থতার জন্য ইডেনের পিচ প্রস্তুতকারককে কাঠগড়ায় তুলতে নারাজ গম্ভীর। ভারতীয় দলের হেড কোচ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা ঠিক যেমন উইকেট চেয়েছিলাম, ঠিক তেমন উইকেটই পেয়েছি। পিচকিউরেটর আমাদের সব সময়, সব রকম ভাবে সাহায্য করেছেন। ভালো খেলতে না পারলে এমন তো হবেই। ১২৪ রান তাড়া করে জিততে না পারার মতো কোনও কারণই ছিল না। তবে আমি ব্যাটসম্যানদের দোষ দিতে চাই না। এই ধরনের উইকেটে খেলার ক্ষেত্রে আমাদের ব্যাটারদের আরও উন্নতি করতে হবে।’ গুয়াহাটিতেও কি ইডেনের মতো উইকেট চেয়েছেন? সেই প্রশ্নের উত্তরে গম্ভীর বলেন, ‘আমরা এমন উইকেট চাই যেখানে প্রথম দিন থেকেই স্পিনাররা সাহায্য পাবে। যাতে টস গুরুত্বপূর্ণ না হয়। আমরা জিতলে উইকেট নিয়ে এত কথা হতো না। তবে আমাদের ক্রিকেটাররা যেকোনো পরিস্থিতিতে ভালো খেলতে পারে। এই ম্যাচে সেটা হয়নি। আমরা গুয়াহাটিতে ভালো খেলার চেষ্টা করব।’
দুই জমানার তুলনায় নারাজ গম্ভীর (Gautam Gambhir)

একটা সময় গোটা বিশ্বে স্পিন বোলিংয়ের বিরুদ্ধে খেলার জন্য সবথেকে দক্ষ ছিলেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। এবার সেই ধারণা বদলে দিচ্ছে নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকারা। এই ভারতীয় দল ঘরের মাঠে শেষ ছয় টেস্ট এর মধ্যে চারটিতে হেরেছে। তবে এর জন্য দুই জমানার ভারতীয় দলের সঙ্গে তুলনায় নারাজ গম্ভীর। এই দলের কম অভিজ্ঞতাকেই এর প্রধান কারণ বলে মনে করছেন তিনি। ব্যাটসম্যানদের সমালোচনা করলেও দায়িত্বজ্ঞানহীন শট খেলে দলকে ডোবানো ঋষভ পন্থ, অক্ষর প্যাটেল, ধ্রুব জুরেলদের পাশে দাঁড়িয়েছেন গম্ভীর। দুই ইনিংসেই বাজে শট খেলে আউট হয়েছেন পন্থ। সেই প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে গম্ভীর বলেন, ‘আমি অক্ষরকে দোষ দেব না। ওর দৃষ্টিভঙ্গি ঠিক ছিল। তখনও জেতার জন্য ৩০ রান দরকার ছিল। বাঁহাতি স্পিনার বল করছিল। তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী বড় শট খেলতেই হতো। আর পন্থকেও দোষ দিতে চাই না। এই ফরম্যাটে ও বিশ্বমানের ব্যাটসম্যান। মাঝে মাঝে খেলোয়াড়দের তাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে দিতে হয়।’
ইডেনের উইকেট নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত
তবে সমর্থক ও সমালোচকদের গৌতম গম্ভীরের এই যুক্তিতে মন গলছে না। সমালোচকদের যুক্তি, গম্ভীর যদি জানতেনই, তাঁর দলের ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে, স্পিন খেলার ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে তাহলে কেন ঘূর্ণি উইকেটের বায়না করলেন! তাহলে যেহেতু নিজের চালে নিজেই জব্দ হয়েছেন, তাই বাধ্য হয়েই কি উইকেটের দোষ না দেখে ব্যাটসম্যানদের দোষ ধরে পার পাওয়ার চেষ্টা করলেন গুরু গম্ভীর! প্রশ্ন কিন্তু থেকেই গেল।
আরও পড়ুন: Sweta Bhattacharya: ছোটপর্দার ‘শ্যামলী’ কি ফিরতে পারবেন আগের মতো?
রবিবারই গিলকে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
অপরদিকে, অধিনায়ক শুভমন গিলের শারীরিক অবস্থা নিয়েও তৈরি হয়েছে আশঙ্কা। এখনও হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন ভারত অধিনায়ক। এখনও তাঁর ঘাড়ে ব্যথা রয়েছে। ঘাড় শক্ত হয়ে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাই গুয়াহাটিতে সিরিজের দ্বিতীয় তথা গুরুত্বপূর্ণ টেস্টে তার খেলা নিয়েও তৈরি হয়েছে বড় সংশয়। ম্যাচ শেষে গম্ভীর জানিয়েছেন, রবিবার বিকালেই ভারতীয় দলের মেডিক্যাল টিম শুভমনের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে গুয়াহাটি টেস্টে তাঁর খেলা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এ প্রসঙ্গে ভারতীয় দলের হেড কোচ বলেন, ‘এখনো শুভমনের চোটের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। হাসপাতালেই রয়েছে। দেখা যাক কী হয়। আজ রাতেই ফিজিওরা ওকে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তারপর আমরা দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেব।’



