Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ঈশান কিষাণ ও হার্দিক পান্ডিয়ার জোড়া হাফ সেঞ্চুরিতে ভর করে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ৯৩ রানে জয় ভারতের (India)।
নামিবিয়ার বিরুদ্ধে দাপুটে জয় ভারতের (India)
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচেও প্রত্যাশা মতো জয় ছিনিয়ে নিলো ভারত। নামিবিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে অভিষেক শর্মার অনুপস্থিতি চিন্তায় ফেললেও ঈশান কিষাণ সেই অভাব বুঝতে দেয়নি ভারতকে। ভাল শুরু করেও এই ম্যাচেও বড় রান করতে ব্যর্থ হলেন সঞ্জু স্যামসন। শুরুতে ঈশানের ঝোড়ো ইনিংস এবং হার্দিকের ক্যামিও ইনিংস ভারতের স্কোর বোর্ডে এভারেস্ট সমান রান যোগ করে দিয়েছে। একের পর এক বড় শট খেলে ২৮ বলে করলেন ৫২ রান করে হার্দিক তখন নামিবিয়ার বোলারদের ঘাম ছুটিয়ে দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ১০৯ মিটারের একটি বিশাল ছক্কা। প্রথমে ব্যাট করে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ২০৯ রান তোলে টিম ইন্ডিয়া (India)।
প্রথম ম্যাচে রান না পেলেও এই ম্যাচে ঈশান কিষাণ ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিলেন। প্রথম থেকেই ঈশান চালিয়ে খেলতে থাকেন তবে তিনি রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন স্মিথের ওভারে। পরপর ৪টি ছয় ও একটি বাউন্ডারির সাথে সেই ওভারে মোট ২৮ রান তোলেন তিনি। ২০ বলে নিজের ৫০ রান পূরণ করেন ঈশান। শেষ পর্যন্ত ২৪ বলে ৬১ রান করে আউট হন তিনি। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ৬টি চার ও ৫টি ছয়। ঈশানের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সুবাদে ৬.৫ ওভারে ১০০ রান তোলে ভারতীয় দল। এর আগে এত কম বলে কোনও দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১০০ রান করতে পারেনি।

ঈশানের পাশাপাশি এই ম্যাচে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করলেন হার্দিক। শুরু থেকেই ছন্দে ছিলেন তিনি। একের পর এক বড় শট খেললেও বার্নার্ড স্কোলজের বলে ১০৯ মিটারের একটি বিশাল ছয় হাঁকান এই তারকা অলরাউন্ডার। ১৯ তম ওভারে নিজের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হার্দিক। জেরার্ড ইরাসমাসের ওই ওভারের প্রথম বলে ছয় মেরে পৌঁছন অর্ধশতরানে। হার্দিকের ২৮ বলে ৫২ রানের এই ইনিংসে ছিল চারটি করে বাউন্ডারি ও ছয় (India)।

তবে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে বড় রান পাননি তিলক বর্মা (২৫), শিবম দুবেরা (২৩)। ক্যাপ্টেন সূর্যকুমার যাদব ফেরেন ১২ রান করে। তবে শেষ দুই ওভারে পাঁচ উইকেট হারায় ভারত। ব্যর্থ রিঙ্কু সিং (১), অক্ষর প্যাটেল (০)। নামিবিয়ার হয়ে একাই চার উইকেট নেন ক্যাপ্টেন জেরার্ড ইরাসমাস।
এই এভারেস্ট সমান রান তাড়া করতে নেমে আগ্রাসী মেজাজে শুরু করা জান ফ্রাইলিঙ্ককে (১৫ বলে ২২) ফিরিয়ে দেন অর্শদীপ। অন্য ওপেনার লরেন স্টিনক্যাম্পও মেরে খেলার চেষ্টা করেন। শুরুতে উইকেট নিলেও এই ম্যাচেও বেশ রান দিলেন বাঁহাতি জোরে বোলার। তবে আগের ম্যাচে তিন উইকেট নেওয়া সিরাজকে কেন এই ম্যাচে খেলানো হলো না এই প্রশ্নের কোনও উত্তর বোধহয় নেই। বুমরার মতো বোলারকে নতুন বলে না এনে কেন সপ্তম ওভারে আনা হলো সেটাও এক বড় রহস্য। আর সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে নামিবিয়া ৫.৪ ওভারে ৫০ রান তুলে ফেলে (India)।
আরও পড়ুন: Basant Utsav 2026: এবারেও বিশ্বভারতীতে নয় বসন্ত উৎসব!
তবে খেলার মোড় আবার ঘুরিয়ে দেন বরুণ চক্রবর্তী। ২০ বলে ২৯ রান করে স্টিনক্যাম্পকে বোল্ড হন বরুণের বলে। কেকেআর স্পিনার আউট করেন তিন নম্বরে নামা জান নিকোল লফটি-এটনকে (১৩)। দুই বল পরেই আবার উইকেট নেন তিনি। ৮৬ রানে ২ উইকেট থেকে ৮৬ রানে ৪ উইকেট হয়ে যায় চোখের পলকে। এরপর ভারতের জয় ছিল সময়ের অপেক্ষা। বোলারদের দাপটে ১১৬ রানে গুটিয়ে যায় নামিবিয়ার ইনিংস।
ভারতের সফলতম বোলার বরুণ চক্রবর্তী ৭ রানে ৩ উইকেট নিলেন। হার্দিকের ২ উইকেট ২১ রানে। অক্ষর নিলেন ২ উইকেট। ২০ রানে ১ উইকেট নিলেন বুমরা। ৩৬ রানে ১ উইকেট অর্শদীপের। ১১ রানে ১ উইকেট শিবমের। ম্যাচ সেরা হয়েছেন হার্দিক পান্ডিয়া। তবে পাকিস্তান ম্যাচের আগে চিন্তায় রাখবে অভিষেক শর্মার অসুস্থতা এবং মিডিল ওভারের ব্যর্থতা (India)।


