Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তার (India Oil Byuing) আবহে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিল ভারত। একটি আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী মাসের জন্য রাশিয়া থেকে প্রায় ৬ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কিনেছে দেশ। আরব দুনিয়ায় চলা সংঘাতের জেরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তেল পরিবহণ হয়। ফলে সেখানে আংশিক অচলাবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।
সঙ্কট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি (India Oil Byuing)
এই পরিস্থিতিতে সরবরাহ চেইন সচল রাখতে এবং সম্ভাব্য (India Oil Byuing) সঙ্কট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকেছে ভারত। রিপোর্টে উল্লেখ, ব্রেন্ট ক্রুডের তুলনায় ব্যারেল প্রতি ৫ থেকে ১৫ ডলার বেশি দামে এই তেল কেনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অতিরিক্ত দামই ইঙ্গিত দিচ্ছে বাজারে সরবরাহের ঘাটতি এবং চাহিদা বৃদ্ধির। সংখ্যার বিচারে এই আমদানি চলতি মাসের কাছাকাছি হলেও, ফেব্রুয়ারির তুলনায় তা দ্বিগুণেরও বেশি। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি সামাল দিতে এই অতিরিক্ত কেনাকাটাই এখন ভারতের প্রধান ভরসা।

গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ছাড় (India Oil Byuing)
এই কেনাকাটার পিছনে রয়েছে মার্কিন প্রশাসনের একটি (India Oil Byuing) গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ছাড়। রিপোর্ট অনুযায়ী, ১২ মার্চের আগে সমুদ্রে থাকা জাহাজগুলির ক্ষেত্রে রুশ তেল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেই ছাড়ের পরিধি আরও বাড়ানো হয়, যার ফলে ভারত এই অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের সুযোগ পেয়েছে।উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ডিসেম্বর থেকে মার্কিন চাপের কারণে কয়েক মাস রাশিয়ার তেলের উপর নির্ভরতা কমিয়েছিল ভারত। সেই সময়ে ম্যাঙ্গালোর রিফাইনারি অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম লিমিটেড এবং হিন্দুস্তান মিত্তল এনার্জি লিমিটেড-এর মতো সংস্থাগুলি বিকল্প উৎস হিসেবে সৌদি আরব ও ইরাক থেকে তেল আমদানির দিকে ঝুঁকেছিল।

তেলবাহী জাহাজ আটকে পড়ায় সরবরাহে ঘাটতি (India Oil Byuing)
তবে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে পারস্য (India Oil Byuing) উপসাগরে বহু তেলবাহী জাহাজ আটকে পড়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়। এর ফলে আবার রাশিয়ার তেলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে ভারতীয় রিফাইনারিগুলি। শুধু রাশিয়ার উপর নির্ভর না করে জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্য আনতেও সক্রিয় হয়েছে ভারত। এপ্রিল মাসে ভেনেজুয়েলা থেকে প্রায় ৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানির সম্ভাবনা রয়েছে, যা ২০২০ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ হতে পারে। এর মাধ্যমে একক কোনও অঞ্চলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার কৌশল নিয়েছে ভারত সরকার।
আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ
এদিকে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানানো হয়েছে সরকারি সূত্রে। সম্প্রতি রুশ তেলবোঝাই ট্যাঙ্কার ‘MT Aqua Titan’ ভারতের উপকূলে পৌঁছে ম্যাঙ্গালুরুর কাছে আরব সাগরে নোঙর করেছে। পাশাপাশি টেক্সাস থেকে এলপিজি বোঝাই একটি কার্গো জাহাজ নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দরে পৌঁছেছে। এই ঘটনাগুলি থেকে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনও বড় বাধা তৈরি হয়নি।

আরও পড়ুন: Terrorists Arrest: দেশজুড়ে সন্ত্রাস দমনে অভিযান পুলিশের, জঙ্গি নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা, গ্রেফতার ১২
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের কোনও বন্দরে জট তৈরি হয়নি। পারস্য উপসাগর এলাকায় থাকা ২২টি ভারতীয় জাহাজ এবং ৬১১ জন নাবিক সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছেন। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে কেন্দ্রীয় সরকার।
বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানিয়েছেন, জ্বালানি সরবরাহের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে ১৪ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল ও এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে কিছু চার্জ মকুব করেছে নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দর কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ‘জাগ লাডকি’ নামের একটি ভারতীয় ট্যাঙ্কার ইতিমধ্যেই গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে পৌঁছেছে। পাশাপাশি ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দা দেবী’ নামের এলপিজি বাহক জাহাজও সফলভাবে হরমুজ প্রণালী পার হয়ে ভারতে এসেছে। সব মিলিয়ে, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেও জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে বহুমুখী ও কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত—এটাই স্পষ্ট।


