Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ১৯৩২ সালের ৮ই অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতীয় বায়ুসেনা (Indian Air Force)। ব্রিটিশ আমলে এর নাম ছিল ‘রয়্যাল ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স’, যা ১৯৫০ সালে ভারতের প্রজাতন্ত্র ঘোষণার পর পরিবর্তিত হয়ে হয় ‘ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স’ বা ভারতীয় বায়ুসেনা। প্রথমে এটি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনে একটি ছোট বাহিনী, কিন্তু আজ তা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বায়ু প্রতিরক্ষা বাহিনী।

দেশের আকাশপথের প্রহরী (Indian Air Force)
ভারতীয় বায়ুসেনা শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, শান্তিকালেও দেশের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এর প্রধান দায়িত্ব,
- দেশের আকাশপথ রক্ষা
- শত্রু বিমান আক্রমণ প্রতিহত
- স্থল ও নৌবাহিনীকে সহায়তা
- জরুরি অবস্থায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্য পরিচালনা
বায়ুসেনার গৌরবময় (Indian Air Force)
ভারতীয় বায়ুসেনা ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। পরবর্তীতে ১৯৬৫ ও ১৯৭১ সালের ভারত-পাক যুদ্ধ, ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধ, এবং বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সংকটে বায়ুসেনার ভূমিকা ছিল অনন্য।
বায়ুসেনার কমান্ড বিভাগ (Indian Air Force)
ভারতীয় বায়ুসেনা ছয়টি প্রধান কমান্ডে বিভক্ত:
- পশ্চিমী কমান্ড (দিল্লি)
- পূর্ব কমান্ড (শিলং)
- দক্ষিণ-পশ্চিম কমান্ড (আহমেদাবাদ)
- দক্ষিণ কমান্ড (ত্রিভান্দ্রাম)
- মধ্য কমান্ড (প্রয়াগরাজ)
আধুনিক প্রযুক্তি ও যুদ্ধবিমান (Indian Air Force)
ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে রয়েছে অত্যাধুনিক বিমানবহর,
- সুখোই-৩০ এমকেআই – প্রধান যুদ্ধবিমান
- রাফালে – ফ্রান্স থেকে কেনা উন্নত যুদ্ধবিমান
- তেজস – দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত হালকা যুদ্ধবিমান
- মিগ-২১ – ঐতিহ্যবাহী যোদ্ধা বিমান
গর্বের অভিযান ও মিশন (Indian Air Force)
ভারতীয় বায়ুসেনা পরিচালনা করেছে একাধিক ঐতিহাসিক অভিযান,
- অপারেশন মেঘদূত (১৯৮৪): সিয়াচেন হিমবাহে ভারতের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা
- অপারেশন বিজয় (১৯৯৯): কারগিল যুদ্ধে শত্রুপক্ষের অবস্থানে আঘাত
- অপারেশন রাহাত (২০১৩): উত্তরাখণ্ড বন্যায় বৃহত্তম উদ্ধার অভিযান
- অপারেশন পুমালাই (১৯৮৭): শ্রীলঙ্কায় মানবিক সাহায্য
আকাশে ভারতীয় নারীর উড়ান (Indian Air Force)
২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো ভারতীয় বায়ুসেনায় মহিলা যুদ্ধবিমান চালক যুক্ত হন। অবনী চতুর্বেদী, ভাবনা কান্ত, এবং মোহনা সিং এই তিন সাহসী নারী ইতিহাস গড়ে প্রমাণ করেছেন যে আকাশ রক্ষায় নারীরাও সমান যোগ্য।
প্রতীক ও মূলমন্ত্র
ভারতীয় বায়ুসেনার প্রতীক হলো ঈগল, যা শক্তি ও প্রহরার প্রতীক। মূলমন্ত্র “নভঃ স্পৃশং দীপ্তম” ( অর্থাৎ “আকাশকে স্পর্শ করো দীপ্তভাবে”। এটি বায়ুসেনার সাহস ও আত্মত্যাগের প্রতীক।
মানবিক কাজেও অগ্রগামী (Indian Air Force)
যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়াও বন্যা, ভূমিকম্প বা ঘূর্ণিঝড়ের সময় বায়ুসেনা দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্য পরিচালনা করে। দুর্গম স্থানে খাদ্য, ওষুধ ও সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ায় তাদের অবদান অতুলনীয়।
মহাকাশ অভিযানে বায়ুসেনার ভূমিকা
ইসরোর সঙ্গে সহযোগিতায় ভারতীয় বায়ুসেনা এখন মহাকাশ অভিযানের প্রশিক্ষণেও যুক্ত।
চন্দ্রযান ও মঙ্গলযান অভিযানে অংশ নেওয়া পাইলটদের প্রশিক্ষণ বায়ুসেনার মাধ্যমেই হয় যা ভারতের ভবিষ্যৎ মহাকাশ যাত্রার ভিত্তি গড়ছে।
আরও পড়ুন: Pandemic Potential From Arctic Ice: জেগেছে নতুন ভাইরাস? প্রাচীন জীবাণু কি আনবে নতুন অতিমারি?
ভবিষ্যতের পথে
ভারতীয় বায়ুসেনা আত্মনির্ভর ভারতের পথে এগোচ্ছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বিমান, ড্রোন ও রাডার ব্যবস্থার মাধ্যমে আধুনিকীকরণের দিকেই জোর দিচ্ছে তারা। রাফালের সংযোজন ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।



