Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের বেসরকারি বিমান পরিষেবায় ইন্ডিগোর আধিপত্য দীর্ঘদিনের (Indigo Flight Cancellations)। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী এই সংস্থা নির্ভরযোগ্য হবে বলেই টিকিট কাটেন। কিন্তু বুধবার বিকেল থেকে সেই আস্থায় দেখা দিল বড়সড় চিড়। দেশের একাধিক বিমানবন্দরে ইন্ডিগোর ফ্লাইট বাতিল, দেরি, বিশৃঙ্খলা সব মিলিয়ে যেন ভেঙে পড়ল বিমান পরিবহন শৃঙ্খলা। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের হিসেব মিলিয়ে দেখা গেল, বাতিলের সংখ্যা কোথাও ৫০, কোথাও ১০০, আবার কিছু সূত্রের মতে তা ২০০–ও ছুঁয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, যাত্রীরা ঘন্টার পর ঘন্টা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে থেকেও কোন তথ্য পাচ্ছেন না। প্রশ্ন উঠছে হঠাৎ এমন হল কেন?
প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও বিমানবন্দরের চাপ (Indigo Flight Cancellations)
ইন্ডিগো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত দু’দিন ধরে নেটওয়ার্ক জুড়ে তাদের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সমস্যা দেখা দিয়েছে। সংস্থার দাবি, কিছু বিমানে প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাদের উড়ান সাময়িক নিষিদ্ধ রাখতে হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিমানবন্দর–সংক্রান্ত চাপ ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলিতে রানওয়ে কনজেশন, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের ধীর গতি, পার্কিং স্থানের অভাব, এবং যাত্রী সংখ্যার অতিরিক্ত চাপ। ফলে ফ্লাইট ছাড়ার দেরি আরও বাড়ছে।
বিপর্যয়ের মূল কারণ (Indigo Flight Cancellations)
অভ্যন্তরীণ সূত্রের তথ্য আরও ভয়াবহ। জানা যাচ্ছে, ইন্ডিগো তীব্র কর্মী-সংকটে ভুগছে। অনেক পাইলট ও কেবিন ক্রু হঠাৎ করে ছুটি নিয়েছেন বলে খবর। আবার যারা কাজে রয়েছেন, তাঁদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছে। ক্রু রোস্টারের অভাব, পর্যাপ্ত বিশ্রামের সময় না পাওয়া এবং দীর্ঘ শিফটে কাজ করার ক্লান্তি সব মিলিয়ে অনেক ফ্লাইটই নির্ধারিত সময়ে চালানো যাচ্ছে না। ভারতীয় বিমানবাজারে দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে কর্মীসংখ্যা সেই অনুপাতে না বাড়লে এমন বিপর্যয় হওয়াই স্বাভাবিক।
কোন শহরে কতটা ক্ষতি? (Indigo Flight Cancellations)
বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, বুধবার সারাদিন জুড়ে দেশের একাধিক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরেই ইন্ডিগোর সেবা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
দিল্লি
ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত ৩৩টি ফ্লাইট বাতিল। শতাধিক যাত্রী আটকে পড়েন।
মুম্বাই
ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ বিমানবন্দরে ৫১টিরও বেশি বিমান বাতিল। টার্মিনাল জুড়ে দেখা যায় দীর্ঘ লাইন।
হায়দরাবাদ
১৯টি ফ্লাইট বাতিল, যেগুলো উড়ান কিংবা আগমনের জন্য ছিল নির্ধারিত।
বেঙ্গালুরু
কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৪২টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল—২২টি আগমনী এবং ২০টি প্রস্থান ফ্লাইট।
সংস্থার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা (Indigo Flight Cancellations)
ইন্ডিগো জানিয়েছে, গত দু’দিন ধরে চলা ব্যাঘাত কাটিয়ে ওঠার জন্য তারা আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য অস্থায়ীভাবে সময়সূচিতে পরিবর্তন আনছে। উদ্দেশ্য, সময়ানুবর্তিতা ফিরিয়ে আনা, আরও ফ্লাইট বাতিল কমানো, নেটওয়ার্ককে স্থিতিশীল করা, সংস্থার অনুরোধ, যাত্রীরা বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে অবশ্যই অনলাইনে ফ্লাইটের স্ট্যাটাস দেখে নেবেন।
আরও পড়ুন: Kolkata Winter Season: বঙ্গজুড়ে জাঁকিয়ে নামছে শীত
হতাশা ও অনিশ্চয়তা
বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত। কেউ চিকিৎসার জন্য যাচ্ছিলেন, কারও আন্তর্জাতিক সংযোগকারী ফ্লাইট মিস হয়ে গেছে, আবার কেউ চাকরির ইন্টারভিউ কিংবা জরুরি কাজে আটকে পড়েছেন। অনেকেই অভিযোগ করছেন, ফ্লাইট বাতিলের খবর শেষ মুহূর্তে দেওয়া হচ্ছে, বিকল্প ফ্লাইট দেওয়া কঠিন, রিফান্ড পেতে সময় লাগছে, হেল্পডেস্কে পর্যাপ্ত তথ্য মিলছে না, সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন যাত্রীরা।



