Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গত কয়েক সপ্তাহে ইন্ডিগোর ফ্লাইট পরিষেবায় যে ব্যাপক বিভ্রাট তৈরি হয়েছে (Indigo Flight), তা শুধু যাত্রী ভোগান্তির বিষয় নয়, বরং ভারতের বিমান পরিবহণ ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতাকেও সামনে এনেছে। বিষয়টি এতটাই গুরুতর যে, ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ)-এর রিপোর্ট হাতে নিয়েই বিমান পরিবহণ সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ফের বৈঠকে বসতে চাইছে। শনিবার ডিজিসিএ-র সেই রিপোর্ট জমা পড়ার কথা।

স্বাভাবিকতায় ফেরার দাবি (Indigo Flight)
ইন্ডিগোর তরফে বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে, এখন তাদের ফ্লাইট অপারেশন স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল। শীতকালীন সূচিতে যেখানে দৈনিক ২২০০টি ফ্লাইট চালানোর কথা ছিল, উড়ান বিভ্রাটের কারণে ডিজিসিএ সেই সংখ্যা ১০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছিল। ইন্ডিগোর দাবি, বৃহস্পতিবার থেকেই আবার পূর্ণ ২২০০ ফ্লাইটই আকাশে ফিরেছে। এই ঘোষণা কিছুটা স্বস্তি দিলেও, প্রশ্ন উঠছে—এই স্বাভাবিকতা কি স্থায়ী, না কি সাময়িক?
সংকটের মূল উৎস? (Indigo Flight)
সংকটের সূচনা হয় গত ১ নভেম্বর। সেই দিন ডিজিসিএ পাইলটদের বিশ্রামের সময় সংক্রান্ত নিয়ম, অর্থাৎ ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন (এফডিটিএল), আরও কড়া করে। নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এই নিয়ম কার্যকর করতে গিয়ে ইন্ডিগোর অপারেশন কার্যত ভেঙে পড়ে। ২ ডিসেম্বর থেকে পরিষেবা দ্রুত কমতে থাকে। যেখানে দিনে গড়ে ২২০০টি ফ্লাইট চলত, ৫ ডিসেম্বর তা নেমে আসে প্রায় ১২০০-তে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৬ ডিসেম্বর ডিজিসিএ সেই সংশোধনী প্রত্যাহার করে নেয়।

আবেদন দেরিতে কেন? (Indigo Flight)
বুধবার সংসদীয় কমিটির বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। জানা যায়, ইন্ডিগো ৪ ডিসেম্বর ডিজিসিএ-র কাছে এফডিটিএল সংশোধনী তুলে নেওয়ার আবেদন করেছিল এবং তা মেনেও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও ৫ ডিসেম্বর ৬৫ শতাংশ পাইলট কাজে যোগ দেননি এমন অভিযোগ ইন্ডিগোর। এখানেই বড় প্রশ্ন তুলেছে কমিটি: যদি সমস্যা এতটাই গুরুতর ছিল, তা হলে ৪ ডিসেম্বর নয়, ১ ডিসেম্বরই কেন আবেদন জানানো হয়নি? এই বিলম্ব কি সংকট আরও বাড়িয়ে দেয়নি?
বৈঠকের টেবিলে কারা ছিলেন (Indigo Flight)
ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইন্ডিগোর সিওও ইসিদ্রে পোরকেরাস, এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট অপারেশনের প্রধান ক্যাপ্টেন মণীশ উপল, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের এমডি অলোক সিং, স্পাইসজেটের ভিপি দেবাশিস সাহা, আকাশ এয়ারের কর্তা প্রিয়া মেহরা।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার তরফে ছিলেন ডিজিসিএ প্রধান ফৈয়জ় আহমেদ কিদোয়াই এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বিপিন কুমার। ডিজিসিএ ও ইন্ডিগো দু’পক্ষই পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে।
দায় এফডিটিএলের না প্রযুক্তির? (Indigo Flight)
বৈঠকে ডিজিসিএ ব্যাখ্যা করে, কীভাবে এফডিটিএল সংশোধনীর ফলে অপারেশনাল সমস্যা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ইন্ডিগোর বক্তব্য ছিল ভিন্ন। তারা সরাসরি এফডিটিএল-কে দায়ী না করে সফটওয়্যার গ্লিচ, টেকনিক্যাল ত্রুটি এবং এয়ারবাস বিমানের সমস্যার কথা তুলে ধরে। এমনকি সংকটকালে যাত্রীদের চা-জল পরিবেশন করা হয়েছিল বলেও দাবি করে ইন্ডিগো। এই বক্তব্যে সংসদীয় কমিটির সদস্যরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তিরস্কার করেন সংস্থাটিকে। তাঁদের মতে, যাত্রী পরিষেবার ক্ষুদ্র উদ্যোগ দিয়ে এত বড় ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা ঢেকে রাখা যায় না।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সংসদীয় কমিটির কাছে শুধু ইন্ডিগো বা ডিজিসিএ নয়, পাইলটদের সংগঠনের তরফ থেকেও আলাদা রিপোর্ট জমা পড়েছে। কমিটির একটি সূত্রের মতে, তিন পক্ষের রিপোর্টে একে অপরের সঙ্গে মিল নেই। এই পরস্পরবিরোধী দাবির কারণেই কমিটি চায় ডিজিসিএ-র পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট হাতে নিয়ে নতুন করে আলোচনা করতে।
‘রুট কজ়’ খোঁজার চেষ্টা
বৃহস্পতিবার জারি করা এক বিবৃতিতে ইন্ডিগো জানিয়েছে, এখন তারা স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, ঘটনার মূল কারণ বা ‘রুট কজ়’ চিহ্নিত করা এবং তা সংশোধনের উপর জোর দিচ্ছে। এজন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সংস্থার সিইও পিটার এলবার্স জানিয়েছেন, তিনি ও ইন্ডিগোর শীর্ষ আধিকারিকেরা সারা দেশে ঘুরে যাত্রীদের অভিজ্ঞতা সরাসরি শুনছেন।



