Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইন্দোনেশিয়ায় ফের একবার ভূমিকম্পের ধাক্কা (Indonesia Earthquake)। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রের বান্দা সাগর এলাকায় বুধবার জোরালো কম্পন অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৬.৬। যদিও আশার খবর এই ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর মেলেনি।

প্রাথমিক আতঙ্ক, পরে স্বস্তি (Indonesia Earthquake)
কম্পনের তীব্রতা অনুভূত হতেই প্রথমে জারি হয় সুনামির সতর্কতা। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই বিশেষজ্ঞরা সেই আশঙ্কা খারিজ করে দেন। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া দফতরও জানিয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠে সুনামির কোনও গতিবিধি বা অস্বাভাবিক তরঙ্গ দেখা যায়নি।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ও গভীরতা (Indonesia Earthquake)
‘জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস’-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল বান্দা সাগরের সমুদ্রতল থেকে প্রায় ১৩৭ কিলোমিটার গভীরে। ভূকম্পনটি গভীর হলেও তার শক্তি ছিল উল্লেখযোগ্য। ফলে আশপাশের অঞ্চলেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।

“রিং অফ ফায়ার”-এর অগ্নিবলয়ে ইন্দোনেশিয়া (Indonesia Earthquake)
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, ইন্দোনেশিয়া অবস্থান করছে বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল “রিং অফ ফায়ার”-এর একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে। এটি এমন এক ভূতাত্ত্বিক বেল্ট যেখানে পৃথিবীর টেকটোনিক প্লেটগুলির সংযোগস্থল ও সংঘর্ষ অঞ্চল বিদ্যমান। বান্দা সাগর অঞ্চলটিতে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ান, সুন্দা, তিমুর, মোলুক্কা সাগর ও বার্ডস হেড প্লেট যেগুলির মিথস্ক্রিয়া পৃথিবীর ভূত্বককে করে তুলেছে অত্যন্ত জটিল ও গতিশীল।
অতীতের ভয়াবহ স্মৃতি (Indonesia Earthquake)
২০০৪ সালের ডিসেম্বরে সুমাত্রার উপকূলে ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল, যার কেন্দ্রস্থল ছিল বান্দা আচে-র কাছাকাছি সমুদ্র অঞ্চলে। সেই ভূমিকম্প থেকেই সৃষ্টি হয় ভয়ঙ্কর সুনামি, যা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বহু উপকূলীয় দেশকে তছনছ করে দেয়। সেদিনের সেই প্রলয়ে প্রায় ২.৩ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারান।
সাম্প্রতিক ভূকম্পনগুলির ধারাবাহিকতা (Indonesia Earthquake)
ইন্দোনেশিয়ায় এর আগে, ১৬ অক্টোবর পাপুয়া প্রদেশে ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। কেন্দ্রস্থল ছিল আবেপুরা শহর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে, ভূপৃষ্ঠের ৭০ কিলোমিটার গভীরে। সেই ঘটনায় কিছু ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হলেও প্রাণহানির খবর মেলেনি।
আরও পড়ুন: Draupadi Murmu: ইতিহাসে প্রথম, রাফালে উড়ান দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু!
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্দোনেশিয়ার ভূগর্ভে টেকটোনিক চাপ ক্রমশ বেড়ে চলেছে। ফলে আগামী দিনগুলোতেও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প নিয়মিত ঘটতে পারে। তবে এবার যেহেতু ভূকম্পনের কেন্দ্র ছিল গভীর সমুদ্রে, তাই ভূ-পৃষ্ঠে তার প্রভাব তুলনামূলক কম হয়েছে।



