Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ১৩ জানুয়ারি, ইন্দোর শহরের দ্বারকপুরী এলাকার একটি ভাড়ার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় ২৪ বছর বয়সি এক এমবিএ পড়ুয়ার দেহ (Indore)। কয়েক দিন ধরে ফ্ল্যাটটি তালাবন্ধ ছিল। হঠাৎই পড়শিরা তীব্র দুর্গন্ধ টের পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তরুণীর পচাগলা দেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারকালে তাঁর দেহে কোনও পোশাক ছিল না যা প্রথম থেকেই তদন্তকারীদের মনে একাধিক প্রশ্নের জন্ম দেয়।

সম্পর্কের অন্ধকার দিক (Indore)
তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত পীযূষ ধমনোদিয়া ও মৃতা একই সঙ্গে পড়াশোনা করতেন। তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু বিয়ে নিয়ে দু’জনের মধ্যে প্রায়ই বিবাদ হত। পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন পীযূষ বান্ধবীকে নিজের ভাড়ার ফ্ল্যাটে ডাকে। সেখানে প্রথমে দু’জনের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। এরপর কোনও কারণে ঝগড়া বাঁধে। এই ঝগড়াই পরিণত হয় এক ভয়াবহ পরিণতিতে। রাগের মাথায় দড়ি গলায় পেঁচিয়ে তরুণীকে শ্বাসরোধ করে খুন করে পীযূষ। শুধু তাই নয়, খুনের পর মৃতদেহ দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে ফ্ল্যাট তালাবন্ধ করে পালিয়ে যায়।
অপরাধের পর অদ্ভুত আচরণ (Indore)
খুনের পর অভিযুক্ত প্রথমে ইন্দোরের অন্যত্র আত্মগোপন করে, পরে মহারাষ্ট্রের পানভেলে যায়। একটি হোটেলে রাত কাটায়। সেখানেই, পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সে তন্ত্রসাধনা করে মৃত বান্ধবীর আত্মাকে ‘মর্ত্যে ডাকার’ চেষ্টা করে। এই দাবি ঘিরে তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এরপর সে মুম্বইয়ে পালিয়ে যায় এবং কয়েক রাত লোকাল ট্রেনেই কাটায়। পালানোর পথে সে মৃতার মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলে, যাতে কোনও প্রমাণ পুলিশের হাতে না পৌঁছায়। তবে শেষরক্ষা হয়নি। মুম্বই থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

শীতল প্রতিক্রিয়ায় বিস্মিত তদন্তকারীরা (Indore)
গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তের আচরণ সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়েছে পুলিশকে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সে নাকি হাসতে হাসতে বলেছে, “সব ভুলে যাওয়াই ভালো। যা হয়েছে হয়েছে।” আরও প্রশ্ন করা হলে তার শীতল জবাব “এত জেনে কী করবেন?” এমনকি সে দাবি করেছে, সময় এলে সে নিজেই সব প্রকাশ করবে। একটি নৃশংস হত্যার পর এমন নির্লিপ্ততা এবং অনুশোচনার অভাব তদন্তকারীদের কাছে অস্বাভাবিক বলেই মনে হয়েছে।
আরও পড়ুন: Uttar Pradesh: চলন্ত গাড়ির উপর হাইমাস্ট পোল! প্রতাপগড়ে চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনা!
বৃহত্তর প্রশ্ন
এই ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত সম্পর্কের পরিণতি নয়; বরং সমাজের সামনে একাধিক প্রশ্ন তুলে দেয়, সম্পর্কের মধ্যে অবিশ্বাস কত দ্রুত সহিংসতায় রূপ নিতে পারে? আধুনিক শিক্ষিত যুবকদের মধ্যেও কুসংস্কার ও তন্ত্রসাধনার মতো বিশ্বাস কীভাবে জায়গা করে নেয়? আবেগ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা কেন এত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে? বিশেষজ্ঞদের মতে, চরম আবেগ, অধিকারবোধ, নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা এবং মানসিক অস্থিরতা একত্রে বিস্ফোরিত হলে এমন অপরাধ ঘটতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় অপরাধের পর বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার প্রবণতা যা অভিযুক্তের আচরণে স্পষ্ট।



