Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারত এমন এক দেশ, যার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য পৃথিবীর সবচেয়ে সমৃদ্ধগুলির মধ্যে অন্যতম (Intangible Cultural Heritage)। এখানকার উৎসব, রীতিনীতির পরম্পরা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতিফলন বিশ্বকে বহুবার মুগ্ধ করেছে। বাংলার দুর্গাপুজো ২০২১ সালে ইউনেসকোর ‘Intangible Cultural Heritage’ অর্থাৎ আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার পর, এবার আরও এক বহুল জনপ্রিয় ভারতীয় উৎসব দীপাবলি পেল একই স্বীকৃতি। এটি ভারতীয় ঐতিহ্যের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন এবং বিশ্বের সাংস্কৃতিক মানচিত্রে ভারতের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করে দিল।

ইউনেসকোর ঐতিহ্য তালিকা (Intangible Cultural Heritage)
ইউনেসকো মানবসভ্যতার নৈসর্গিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদকে সুরক্ষিত রাখতে ‘World Heritage’ এবং ‘Intangible Cultural Heritage’ দু’ধরনের তালিকা প্রস্তুত করে। বিশ্বের যেসব সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ মানুষের জীবনযাপন, বিশ্বাস, শিল্প, হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যকে বহন করে, সেগুলিকেই এই তালিকায় স্থান দেওয়া হয়। দীপাবলি, যা ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় উৎসবগুলির একটি, সেই অবিস্মরণীয় ঐতিহ্যেরই প্রতীক। আলোক, আধ্যাত্মিকতা, সাম্প্রদায়িক ঐক্য ও শিল্পসম্ভারের অনন্য মিলনরূপ হিসাবে দীপাবলির বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্তি তাই যথার্থ ও সময়োপযোগী।

এক্স হ্যান্ডলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা (Intangible Cultural Heritage)
৮ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে ইউনেসকোর শিক্ষা–বিজ্ঞান–সংস্কৃতি বিভাগের আন্তর্জাতিক অধিবেশন। বুধবার সেই অধিবেশন থেকে এক্স (X) হ্যান্ডলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়, দীপাবলি এখন ‘Representative List of the Intangible Cultural Heritage of Humanity’-এর সদস্য। ইউনেসকোর বক্তব্য, দীপাবলি হল আলো ও শুভ শক্তির জয়, নতুন শুরুর অঙ্গীকার, বৈচিত্র্যের ঐক্যের প্রতীক, এবং ভারতের শতাব্দী প্রাচীন লোকসংস্কৃতির জীবন্ত উদাহরণ। এই উৎসব ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে একত্র করে যা ইউনেসকোর মূল্যবোধের সাথে গভীরভাবে সঙ্গতিপূর্ণ।

দীপাবলি কেন পেল এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি (Intangible Cultural Heritage)
১. আলোর প্রতীকী অর্থ
দীপাবলি অন্ধকার কাটিয়ে আলোর পথ দেখায় এ আলো কেবল প্রদীপের নয়, মনুষ্যত্বের, মানবিকতার।
ইউনেসকোর কাছে এই মূল্যবোধ মানবতারই অংশ।
২. বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক প্রকাশ
এই উৎসবে তৈরি হয় রঙ্গোলি, আলপনা, তেলদিয়া প্রদীপ, মাটির ভাস্কর্য যা ভারতের লোকশিল্পের এক জীবন্ত ধারাকে বহন করে।
শহর থেকে গ্রাম প্রতিটি কোণায় এই শিল্পের রূপ আলাদা।
৩. সর্বজনীন অংশগ্রহণ
হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ এই উৎসব পালন করেন। এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় নয়; বরং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক উৎসব।
৪. আঞ্চলিক বৈচিত্র্যের বিস্তার
উত্তরের লক্ষ্মীপুজো, দক্ষিণের ‘দীপোৎসব’, পূর্বাঞ্চলে ‘কালীপুজো’, পশ্চিমের ‘নরক চতুর্দশী’ সকলেই একই আলোয় সংযুক্ত।
এই বৈচিত্র্যই দীপাবলির শক্তি।
সভ্যতার আত্মা দীপাবলি (Intangible Cultural Heritage)
ইউনেসকোর ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর বার্তায় লেখেন, “দীপাবলি আমাদের সংস্কৃতি ও নীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত, এটি আমাদের সভ্যতার আত্মা। আলোকসজ্জা ও ধার্মিকতার প্রতীক হিসেবে দীপাবলি বিশ্বে আরও জনপ্রিয় হবে।” মোদির মতে, এই স্বীকৃতি ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বজনীন করেছে এবং এই মূল্যবোধ মানুষের মধ্যে আলো ছড়াতে থাকবে।
আরও পড়ুন: Christmas Celebration: ক্রিসমাসে বাঙালি কেন পার্ক স্ট্রিটে হেঁটে বেরায়?
নতুন শুরুর প্রতীক দীপাবলি
দিল্লিতে সম্মেলনস্থলে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত। তিনি বলেন, “দীপাবলি আলোর উৎসব এ আলো আশা দেখায়, মানবতার পথ দেখায়।” “ভারতের সাংস্কৃতিক শক্তিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরল এই স্বীকৃতি।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট দীপাবলি শুধু আনন্দের উৎসব নয়, এটি ভারতের আত্মপরিচয়ের অংশ।



